শিরোনাম

১০ ভারতীয়সহ ৭৭ বিপিএল জুয়াড়ি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ২০:১৪, নভেম্বর ১৭, ২০১৭

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) নিয়ে জুয়া খেলার অভিযোগে ৭৭ জুয়াড়িকে স্টেডিয়াম থেকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬৫ জন বাংলাদেশি, ১০ জন ভারতীয় ও ২ জন অন্য দেশের। এরা খেলার সময় গ্যালারি থেকে বেটিংয়ে সহায়তা করছিল। বিসিবির বিশেষ টিম আড়ি পেতে তাদের সনাক্ত করে। এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। গত বছরও কয়েকশ জুয়াড়িকে আটক করেছিল পুলিশ। এদের মধ্যে প্রায় একশ’র মতো ছিলেন ভারতীয়।

শুক্রবার ( ১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা, সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান আকরাম খান ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।

বিপিএল আসলেই জমজমাট হয়ে ওঠে জুয়ার আসর। বল বাই বল, ওভারে কত রান ইত্যাদি নানাভাবে বেটিং করা হয়।মূলত মাঠের বাইরেই বেটিং করা হয়। বেটিংয়ে জিততে মাঠে টিকিট কেটে প্রবেশ করে জুয়াড়িদের প্রতিনিধি। মাঠের চেয়ে টিভি বা রেডিওতে সম্প্রচার ৫/৭ সেকেন্ড পরে হয়। বল বাই বেটিংয়ে ফোনের মাধ্যমে রান কতো হলো তা গ্যালারি থেকে জানিয়ে দেয়া হয়।

বিপিএলের বাজির আসর বসতে না দেয়ায় এক সপ্তাহ আগে বাড্ডায় খুন হয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। দেশের ক্রিকেট জুয়া বন্ধে বিসিবির উদ্যোগ কী, গত কদিনে উঠেছে প্রশ্নটা। এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে বিসিবি। মাঠের বাইরের জুয়া নিয়ে দেশের মিডিয়াগুলো সোচ্চার।

কিন্তু বিপিএলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানান, জুয়া নিয়ে দেশে তেমন শাস্তির বিধান না থাকায় এটা বন্ধ করা কঠিন। মাঠের বাইরের জুয়া নিয়ে বিসিবির করার কিছু নেই বলেও জানান তিনি। এটা বন্ধ করা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন,‘ আমরা যেটা করতে পারি তাহলো- মাঠ থেকে জুয়াড়িদের সনাক্ত করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা। আমরা সেটাই করছি। এর বেশি কিছু আমাদের করার নেই। এ নিয়ে আইন থাকলেও শাস্তির বিধান নেই। এক দুই দিন আটকে রাখার পর পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।’

নিজেদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে ইসমাইল বললেন, সচেতনতা তৈরি ছাড়া বিসিবির কিছু করার নেই। আমরা স্টেডিয়ামে এলইডি ও স্কোরবোর্ডে এটা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। সারা দেশে যে বেটিং হচ্ছে, সেটা বন্ধে আমাদের কিছু করার নেই। এটা পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপার। আমাদের দেশে বেটিং নিয়ে কোনো আইনও নেই।

তবে স্টেডিয়ামের মধ্যে দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা এ দুটি ইউনিট কাজ করে আসছে। স্টেডিয়ামের মধ্যে বেটিং বা এ রকম কিছু হলে সেটার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে এই দুই ইউনিট। কিন্তু জুয়াড়িদের ধরলেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারি না। তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা সাধারণ ডায়েরি করতে পারি না।

স্টেডিয়ামে বাজি ধরতে ব্যবহার করা হচ্ছে মুঠোফোন। যেহেতু টিভিতে ৪-৫ বা কোনো কোনোটি ৯ সেকেন্ড দেরিতে সম্প্রচার করা হয়, এই সময়টা কাজে লাগিয়ে বেটিং করছে তারা। ক্ষতিকর এই কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহবান জানান ইসমাইল হায়দার মল্লিক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত