শিরোনাম

বনানীতে ব্যবসায়ী খুন: ৩ দিনেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৯:৩৬, নভেম্বর ১৭, ২০১৭

রাজধানীর বনানীর জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক সিদ্দিক হোসাইন মুন্সি খুনের হত্যার তিনদিন পার হলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনিদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারে নগরবাসীর সহায়তা চেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বনানী থানা পুলিশের পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশও (উত্তর) ছায়া তদন্ত করছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে চাঁদাবাজির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সিদ্দিকের সঙ্গে কারও পারিবারিক বা ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অপরদিকে নিহতের স্ত্রী জ্যোসনা বেগমের তথ্যানুসারে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের আব্দুস সালাম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সিদ্দিক মুন্সির ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল। সালাম তার কাছে ২০ লাখ টাকাও দাবি করেছিলেন। ওই ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় জিডি করা হয়েছিল। ওই জিডির প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে আদালতে।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবারের সদস্য, নিকটাত্মীয়, ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।’ আর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে প্রাথমিকভাবে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আর এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবেই ঘটানো হয়েছে এবং খুনিরা পেশাদার।

বনানী থানার পুলিশ জানায়, ‘নিহত সিদ্দিক হোসাইনের স্ত্রী জ্যোসনা বেগম অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে একটি হত্যামামলা করেছেন। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।’ ‘ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।সন্দেহভাজনদের ছবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেফতারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়েবসাইট ডিএমপি নিউজে গত বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ী সিদ্দিকের হত্যাকারী চারজনের ছবি প্রকাশ করে তাদের ধরিয়ে দেওয়ার আহবান জানানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটা ৪৯ মিনিট ২২ সেকেন্ডে প্রথমে মাথায় হ্যাট, ফুলহাতা শার্ট এবং টিশার্ট ও চশমা পরিহিত দুই যুবক চারতলা ওই ভবনের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে। তার ২৮ সেকেন্ড পর ৭টা ৪৯ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে গেট দিয়ে চোখে চশমা ও মাস্ক পরা আরও দুই যুবক ভেতরে প্রবেশ করে। তারা দুই মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে কিলিং মিশন শেষ করে ৭টা ৫২ মিনিট ৭ সেকেন্ডে মুখোশ খুলে গেট দিয়ে বেরিয়ে যান ওই চার যুবক। খুনিদের শনাক্ত করতে এরই মধ্যে বাড়িটির দারোয়ান বায়েজিদ বাজী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

বায়েজিদ বাজী পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, মুখোশধারী চার যুবক তার সামনে দিয়েই ওই ভবনে প্রবেশ করেন এবং বেরিয়ে যান। তবে যাওয়ার সময় তাদের মুখোশ ছিল না। আর বাইরে থেকে তিনি কোনো গুলির শব্দ পাননি। তবে চার যুবক বেরিয়ে যাওয়ার সময় সম্ভবত এম এস মুন্সী ওভারসিজের অফিসের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে যান। পরে কেউ একজন দরজা ধাক্কা দিলে তিনি দৌড়ে যান এবং দরজা খুলে দেখেন সবাই মাটিতে শুয়ে আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আলী হোসেন জানান, ঘটনার আগে বস (সিদ্দিক) তার কক্ষেই বসেছিলেন। পাশের কক্ষে ৮-৯ জন ছিল। হঠাৎ এক যুবক অফিসে ঢুকে জিজ্ঞেস করে তোদের বস কই? পরিচয় জানতে চাইলে বলে আমরা ডন ভাইয়ের লোক। কক্ষ দেখিয়ে দিলে তিনি বসের কক্ষে প্রবেশ করেন, তার পেছন পেছন আরও দুজন ভেতরে যান। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা গুলি শুরু করেন। এরপর তারা বেরিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে চলে যান।

 

আরও পড়ুন:- আমরা ডনের লোক, টাকা নিয়ে যোগাযোগ করিস!

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত