শিরোনাম

ঘাটাইলে বাবার ধর্ষণে ৯মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি  |  ১৬:২১, আগস্ট ০৬, ২০১৭

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে। আমিনা খাতুন নামের ওই মেয়ে এখন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনায় আমিনা খাতুন (১৮) বাদী হয়ে পিতা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু ট্রাইবুনাল আদালতে মামলা করেছে। ঘটানাটি ঘটেছে ঘাটাইলের মালিরচালা (বাগামারি পাড়া) গ্রামে।

জানা যায়, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানা কালাইপাড় গ্রামের আমির হোসেনের সাথে বিয়ে হয় বানেছা বানুর। ঐ ঘরে এক কন্যা সন্তান জন্ম হয়। তার নাম আমিনা খাতুন। ওর বয়স যখন ৩/৪ বছর তখন বাবার সঙ্গে তার মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। ফলে মায়ের সঙ্গেই শিশু কন্যা আমিনা চলে আসে নানার বাড়ি সাগরদিঘী এলাকার ফুলমালীর চালা গ্রামে। ঐ বাড়িতে লম্পট কামরুল ইসলামের যাতায়াতের এক পর্যায়ে তার মা বানেছা বানুর সাথে সক্ষতা করে। একদিন তাকে বউ করে ঘরে নেয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে বানেছা তার ৪/৫ বছর বয়সী কন্যাকে তার মেয়ে হিসেবে দায় দিয়ে তার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

পরে বানেছা বানু জানতে পারে তার লম্পট স্বামী কামরুল ইসলাম এর আগেও একাধিক বিয়ে করেছিল। এক বউ নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যায় বলে জানায়। তারপরও দ্বিতীয় বিয়ে হওয়ায় আশায় বুক বেধে ঘর করতে থাকে বানেছা বানু। প্রথম কয়েক বছর ভালই চলছিল তাদের সংসার। কিছুদিন পর আস্তে আস্তে তার আসল রূপ উম্মোাচিত হতে থাকে। আমিনার উপর লম্পট কামরুলের কু-দৃষ্টি লক্ষ্য করে তার মা বানেচছা বানু। এ নিয়ে লম্পট কামরুলকে সতর্কও করে দেয় বানেছা বানু। এতে তার উপর পাশবিক নির্যাতন বেড়ে যায়। এর সঙ্গে ননদ, শশুর, শাশুরি সবাই নির্যাতন করতে থাকে তাকে।

এদিকে ভিকটিম আমিনা খাতুন থাকে তার নানার বাড়িতে। এ অবস্থায় এক দিন তার মাকে দেখতে যায় সে। আমিনা খাতুন জানায়, ঘটনার রাত গত ২ ফেব্রুয়ারি রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। পরে গভীর রাতে তার মুখ ছাপিয়ে ধরে পূর্বক ধর্ষণ করে নরপশু কামরুল ইসলাম। পরে এ ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় সে। এভাবে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে জানায় আমিনা। এভাবে গর্ভবতি হয়ে পরে আমিনা খাতুন। আমিনা খাতুন এখন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এদিকে সে বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের আদালতে মামলা করলেও তা তুলে নিতে নানান হুমকি দেয়া হচ্ছে তাকে। এছাড়াও আমিনার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে মর্মে একটি ভূয়া কাবিন নামা করে লোকমুখে প্রচার করে বেড়াচ্ছে। সরজমিনে এলাকায় গেলে স্থানিয় লিটন ভূঞা, আঃ জব্বার, আনছার আলী, সন্দুল সহ শত শত গ্রাম বাসী জানায় কামরুল ইসলাম শুধু লম্পটি নয় সে একজন প্রতারক। এর আগেও অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। তার উপযুক্ত বিচারের দাবীও জানান তারা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত