শিরোনাম

বিয়ের কথা বলে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে হত্যাচেষ্টা

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি  |  ০০:১২, জুলাই ১৯, ২০১৯

রংপুরের পীরগঞ্জে প্রেমিকাকে বিয়ের কথা বলে প্রেমিকের বাড়িতে ডেকে নিয়ে বেদম মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহাছুায় পুলিশ প্রেমিকাকে উদ্ধারপূর্বক ইউপি সদস্যকে জিম্মা দিলে তিনি অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করে রাতেই অসুস্থ প্রেমিকাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

গত ১২ জুলাই রাতে উপজেলার ভেণ্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ভীমশহর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পাঁচদিন পর অবশেষে গত বুধবার রাতে পীরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন প্রেমিকা শান্তনা।

এলাকাবাসী প্রেমিকা ও তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কুমেদপুর ইউপির পলাশবাড়ী গ্রামের জনৈক এক হতদরিদ্র কৃষকের কলেজপড়ুয়া কন্যার সাথে ভেণ্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ভীমশহর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য লালমিয়ার কলেজপড়ুয়া ছেলে আমিরুল ইসলাম জিহাদের সাথে কলেজে যাতায়াতের সুবাদে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে বছরখানেক আগে।

বিষয়টি প্রকাশ হলে ওই সময় মিটমাট করে দেয় ইউপি সদস্য মানিক মিয়া।কিন্তু নাছোড়বান্ধা ছেলে জিহাদ পুনঃরায় তার সাথে প্রমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় জিহাদের মা আনোয়ারা বেগম। তিনি জিহাদকে নিজের আয়ত্বে নিয়ে ওই মেয়েকে শায়েস্তা করতে ঘটনার দিন বিকেলে ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেবেন বলে মোবাইলে ফোন করে ছেলের প্রেমিকাকে।

পরে প্রেমিক জিহাদও একই কথা বলে তার বাড়িতে ডাকে জিহাদের কথায় সম্মত হয়ে সন্ধ্যার আগেই বাইসাইকেল চালিয়ে জিহাদের বাড়িতে যায় প্রেমিকা। রাত একটু গভীর হলে প্রেমিকা সাথে প্রথমে মা-ছেলে তর্কে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে হাত-পা বেঁধে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে কিলঘুষি লাথিসহ এলোপাতাড়ি মারপিট করা হয়।

যাতে চিৎকার করতে না পারে এ জন্য মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয়। এরপর মাটিতে ফেলে গলায় পা তুলে দিয়ে চাপ দেয়।

দীর্ঘ সময় ধরে এ নির্যাতন চালানোকালে খবর পেয়ে ভেণ্ডাবাড়ি তদন্ত কেন্দ্রের টহল পুলিশের এসআই মাহবুব হোসেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক মিয়ার সহাছুায় প্রেমিকা মেয়েটিকে উদ্ধার করেন এবং রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই ইউপি সদস্য মানিকের কাছে প্রেমিকাকে জিম্মা দিয়ে ফিরে আসেন তিনি।

পরে খবর পেয়ে প্রেমিকার অভিভাবকরা অসুস্থাবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কেলজ হাসপাতালে ভর্তি করান। প্রেমিকা মেয়েটির মা অভিযোগ করে বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে ফোন করে আমার মেয়েকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মুখে টেপ দিয়ে নির্দয়ভাবে মারপিট করেছে। জিহাদ আর জিহাদের মা ও বোন রাবেয়া। আমি তাদের বিচার চাই। এসআই মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন পাশেরবাড়ি থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে ইউপি সদস্যের জিম্মায় দিয়ে এসেছি।

ইউপি সদস্য মানিক মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হাত-পা বাঁধা,গলায় ওড়ন পেঁচানো ও মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মেয়েটিকে। পরে তার অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ করে অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভেণ্ডাবাড়ি তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ সাংকাদিকদের বলেন, ঘটনার দিন দাপ্তরিক প্রয়োজনে তিনি স্টেশনে ছিলেন না।

জিহাদের মা-অনেকটা অহঙ্কারের সাথে বলেন, আমার বাড়িতে ওই মেয়ে কোনো দিন আসেনি। অভিযোগটি সত্য নয়। পরে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত একটি ভিডিও দেখালে তিনি চুপসে যান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত