শিরোনাম

সেই ভিডিও ফুটেজ নিয়ে মিন্নির সঙ্গে কথা বলবে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১২:৪৩, জুলাই ১২, ২০১৯

বরগুনায় দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফ নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে কথা বলতে পারে পুলিশ। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নতুন দুইটি সিসিটিভির ফুটেজের বিষয়ে তার মন্তব্য জানতে চাওয়া হবে।

ওই ফুটেজের সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কোনো কোনো গণমাধ্যমে মিন্নির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এমন গুঞ্জনও রয়েছে- ঘটনার আগের দিন ও ঘটনার দিন মিন্নির সঙ্গে কথা বলেছে ঘাতক নয়ন বন্ড। নয়ন বন্ডের মোটরসাইকেলে ঘুরেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়- মিন্নি শরিফ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে নয়ন বন্ডকে 'স্যরি জান' বলে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। যদিও মিন্নি বলছেন, ফেসবুকে তার কোনো আইডি নেই। তার নামে অনেক ভুয়া আইডি খোলা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভির যে ফুটেজ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক উঠেছে, তাতে দেখা যায়, ঘটনার দিন কলেজের গেট থেকে বের হয়ে আসছিলেন মিন্নি। তার সঙ্গে ছিলেন রিফাত শরীফ। এদিক-সেদিক তাকিয়ে আবার রিফাতকে কলেজে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মিন্নি।

ওই দুর্বৃত্তরা কলেজ গেট থেকে রিফাতকে ধরে সামনের দিকে নিয়ে যায়। তখন মিন্নিকে হাঁটতে দেখা যায়। এর কয়েক সেকেন্ড পর নয়ন বন্ড ও অন্যরা রিফাতকে কিল-ঘুষি-লাথি মারতে শুরু করে। তখন মিন্নি তার স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালান। রিফাতকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার পর ব্যাগ ও জুতা তুলে রিফাতকে খুঁজতে সামনে এগিয়ে যান।

যারা এ ভিডিওর কিছু দৃশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা রিফাতকে ধরে নেয়ার সময় কেন মিন্নি স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন। কেন দুর্বৃত্তরা তাকে টার্গেট করেনি? কেন স্বামীকে প্রথমে ধরতে না গিয়ে জুতা তোলার চেষ্টা করেছিলেন মিন্নি?

এ ব্যাপারে মিন্নির ভাষ্য, ঘটনার কয়েক দিন আগে তার পা কেটে যায়। তাই জুতা ছাড়া তার হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে ঘটনার পরপরই আগে জুতা খুঁজছিলেন। পরে মিন্নি তার স্বামীকে নিয়ে হাসপাতালে যান। ঘটনার পরপরই কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি।

সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রশাসন এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চায়। প্রকাশ হওয়া নতুন ভিডিও ও বেশ কিছু তথ্যে ঘটনার সঙ্গে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হতে পারেন।

প্রসঙ্গত, ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান তিনি।সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হবার পর বিষয়টি নিয়ে দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

পরে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ ১২জনের বিরুদ্ধে ২৭ জুন হত্যা মামলা দায়ের করেন রিফাত শরীফের বাবা মো. আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। মিন্নি এ মামলার প্রধান সাক্ষী।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত