শিরোনাম

নবজাতককে কোলে নিয়েই নাদিয়ার বিয়ে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি  |  ১৬:৫৭, জুলাই ১১, ২০১৯

নাম তার নাদিয়া। প্রায় ৯ মাস আগে কিশোরী নাদিয়া প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হলে মোবারক হোসেন তাকে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে সে। অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে জন্ম দেয়া সন্তানকে কোলে নিয়েই ধর্ষকের সঙ্গেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়ামে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। কনে নাদিয়া আক্তার ভোলাব ইউনিয়নের চারিতালুক ভূঁইয়া বাড়ি এলাকার নাঈম ভূঁইয়ার মেয়ে ও বর একই এলাকার সানাউল্লাহর ছেলে মোবারক হোসেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।

কিশোরীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ মাস আগে কিশোরী নাদিয়া প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হলে মোবারক হোসেন তাকে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিয়ের প্রলোভন এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

কিছুদিন পর কিশোরীর মা মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জানতে চাইলে পুরো বিষয়টি মাকে জানায় নাদিয়া। ঘটনা জানাজানি হলে মোবারক মাস দুয়েক আগে মালয়েশিয়া চলে যান।

এদিকে, গত ৪ জুলাই ওই কিশোরী একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা সব ঘটনা জানিয়ে ছেলের পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তারা এড়িয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের বিচারের আশায় ৫ দিন ঘুরেও উপযুক্ত কোনো সমাধান না পেয়ে নাদিয়ার পরিবার রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগমের কাছে এসে ঘটনার বিচার দাবি করে।

ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটুর সহযোগিতায় ইউএনও বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারকে ডেকে পাঠান। তাদের মধ্যস্থতায় উভয় পরিবারের সম্মতিতে ১০ লাখ টাকা কাবিন ও নবজাতকের নামে ২ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার চুক্তি সাপেক্ষে প্রবাসী মোবারকের সঙ্গে ভিডিও কলে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

এমএআই

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত