শিরোনাম

এবার বখাটেদের কোপে প্রাণ গেলো নার্সের

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  |  ১৮:০১, জুন ২৭, ২০১৯

বরগুনায় স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে স্বামী রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঠাকুরগাঁওয়ে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বখাটেদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ গেলো তানজিনা আক্তার (২৪) নামের এক নার্সের।

মৃত তানজিনা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালান্দর মাদ্রাসা পাড়ার আব্দুল হামিদের মেয়ে এবং সে ঠাকুরগাঁও গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের নার্স হিসেবে কর্মরত ছিল।

বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২০ জুন সকালে বখাটে আরমান ইসলাম জীবন (১৯) এর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয় তানজিনা।

এ ব্যাপারে ওইদিন সন্ধ্যায় তানজিনার বাবা আব্দুল হামিদ বাদি হয়ে জীবনের নাম উলে­খ করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার বিবরণী ও সূত্রমতে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের নার্স তানজিনা আক্তার প্রতিদিন সকালে হাসপাতালে যাবার রাস্তায় তাকে ও অন্য মেয়েদের বখাটে আরমান ইসলাম জীবন ও তার কিছু সহযোগী উত্ত্যক্ত করতো।

এসব দেখে তানজিনা তাদের বাধা দিতো এবং বিষয়টি তাদের পরিবারে জানানোর কথা বলতো। ঘটনার দিন তানজিনা কর্মস্থলে যাবার উদ্দেশ্যে তার বাড়ি থেকে বের হয়। সে সময় বখাটে জীবন ও তার সহযোগীরা তানজিনার পথরোধ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ডান হাতে, বুকে এবং পেটে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

তানজিনা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে এলে বখাটেরা পালিয়ে যায় এবং উদ্ধারকারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তানজিনাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে আইসিইউতে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পরে বৃহস্পতিবার সকালে তানজিনার মৃত্যু হয়।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, তানজিনার মৃত্যুর কথা শুনে মর্মাহত হয়েছি। এজাহারভুক্ত আসামি জীবনকে আমরা ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করেছি। এখন তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত