শিরোনাম

পাটগ্রামে এডিপির কাজে অনিয়ম

প্রিন্ট সংস্করণ॥রকিবুল হাসান রিপন, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)  |  ১০:৫৯, জুন ২৭, ২০১৯

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)’র আর্থিক সহযোগিতায় বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উন্নয়ন নির্মাণ কাজে পুরনো আধলা ইট, নিম্নমানের সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে।

এসব কাজ তদারকি করার জন্য সহকারী প্রকৌশলী বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী থাকলেও তাদের পরিবর্তে তদারকি করছেন এলজিইডি অফিসের দালাল। ফলে কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পাটগ্রাম এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে পাটগ্রাম উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)র অর্থায়নে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ আসে। অর্থ বছর শেষ হওয়ার আগে এসব উন্নয়নমূলক কাজ তাড়াহুড়া করে শেষ করা হচ্ছে।

ফলে উন্নয়ন নির্মাণ কাজে পুরনো আধলা ইট, নিম্নমানের সিমেন্ট ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন উপজেলার জোংরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেনের বাড়ির সামনের রাস্তা আরসিসি পাকাকরণের কাজে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাপক অনিয়ম।

১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯৭ মিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান আলী হোসেন নামে এক ঠিকাদার। দেখা যায়, ৪ ইঞ্চি আরসিসি ঢালাইয়ের পরিবর্তে ৩ ইঞ্চি ঢালাই দেয়া হয়। এক রড থেকে অপর রডের দূরত্ব ২৫০ মিলিমিটার থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ৩শ মিলিমিটার।

ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট, সিমেন্ট ও বালু। এসব দেখভাল করতে সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম থাকার কথা থাকলেও তা দেখভাল করছেন এলজিইডি অফিসের দালাল মোহাব্বদ আলী। একই অবস্থা অন্য প্রকল্পগুলোর।

এসময় সাংবাদিকের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দুপুরের খাবারের অজুহাতে ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করে সবাই স্থান ত্যাগ করেন। এ রাস্তার কাজ তদারকি করতে এলজিইডি অফিসের কে আছেন? এমন প্রশ্নে মোহাব্বদ আলী নামে এলজিইডি অফিসের এক দালাল এসে বলেন আমি আছি।

পরিচয় জানাতে চাইলে মোহাব্বদ আলী বলেন, আমি ইঞ্জিনিয়ার স্যারের প্রতিনিধি। কি পদে আছেন এমন প্রশ্নে মোহাব্বদ আলী বলেন, আমার কোন পদ নেই। স্যার ব্যস্ত মানুষ। স্যারের কাজগুলো আমি তদারকি করছি।

তবে পাশের একজন বলেন, উনি এলজিইডি অফিসে ঘোরাঘুরি করে চলেন। আর স্যাররা এখন জুন ক্লোজিংয়ের কাজে ব্যস্ত তাই আসতে পারছেন না। মোহাব্বদ আলীর এ নিয়ে লেখাপড়া না থাকলে এসব কাজ ভালোই জানেন।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, মোহাব্বদ আলী এলজিইডির পাটগ্রাম অফিসের একজন দালাল। পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী এটিএম শামসুজ্জোহা ও সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম ওই দালাল মোহাব্বদ আলীকে দিয়ে বিভিন্ন কাজের তদারকি করে থাকেন।

ওই কাজের ঠিকাদার আলী হোসেন বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। আমি শ্রমিক, রড, সিমেন্ট, ইট, বালু দিয়েছি। এলজিইডি অফিস কাজ বুঝে নিচ্ছেন। ওই কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, অনেকেই এডিপির কাজ না করে বিল ভাউচার দিয়ে টাকা উত্তোলন করে ভাগাভাগি করে খায়। আমি তো একটু হলেও কাজ করি।

৪ ইঞ্চির পরিবর্তে ৩ ইঞ্চি ঢালাই কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনারা ৩ ইঞ্চি পেয়েছেন তাই লিখেন। আমি আমার দক্ষতায় আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে কিভাবে ৪ ইঞ্চি দেখাতে হয় তা ভালো করে জানা আছে। আপনি ঢালাইয়ের সময় উপস্থিত নাই কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি না থাকলেও ইঞ্জিনিয়ার স্যারের প্রতিনিধি মোহাব্বদ আলী আছেন।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী এটিএম শামসুজ্জোহা আমার সংবাদকে বলেন, মোহাব্বদ আলী আমাদের প্রতিনিধি। ও ঢালাইয়ের কাজ তদারকি করেন। মোহাব্বদ আলীকে আমরা সব কিছুই ভালভাবে শিখিয়ে দিয়েছি। সে এসব কাজ ভালোই পারেন। তারপরও কাজে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত