শিরোনাম

ডিআইজি মিজানের ঘুষ কেলেঙ্কারি তদন্তে পুলিশের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৩:৩১, জুন ১৮, ২০১৯

ডিআইজি মিজান রহমানের ঘুষ কেলেঙ্কারি তদন্ত করছে পুলিশ সদরদপ্তর। এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে পুলিশ সদরদপ্তর বলছে, মিজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার তাদের নেই। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছে তারা।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, তিন সদস্যের কমিটির মধ্যে পুলিশ সদর দফতরের দুইজন অতিরিক্ত আইজিপি এবং পিবিআইয়ের একজন পুলিশ সুপার রয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মইনুর রহমান চৌধুরীর (অ্যাডমিন অ্যান্ড অপারেশন) নেতৃত্বে পুলিশের এ তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) শাহাবুদ্দীন কোরেশী ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মিয়া মাসুদ করিম।

প্রতিবেদন জমা দেয়ার ক্ষেত্রে কমিটিকে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়নি। তবে দ্রুত তাদের কার্যক্রম শেষ করতে বলা হয়েছে।

ডিআইজি মিজানুর ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গেল জানুয়ারির শুরুর দিকে তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তখন তাঁর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। মিজানুরের বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে।

গত বছরের ৩ মে অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে মিজানুরকে দুদক কার্যালয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মিজানুর রহমান ও তাঁর প্রথম স্ত্রী সোহেলিয়া আনারের আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।

মিজানুরের নামে ৪৬ লাখ ৩২ হাজার ১৯১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৭২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫২ টাকার অসংগতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা দুদকের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। তদন্ত শুরু হওয়ার এক বছরের মাথায় দুদক পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার এই অভিযোগ পাওয়া গেল। দুর্নীতি দমন কমিশনের এক কর্মকর্তাকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার দাবি ও তাদের কথোপকথনের রেকর্ড ফাঁস করে নতুন বিতর্ক তৈরি করেন ডিআইজি মিজান।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা মনে করেন, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার। পুলিশের সাবেক এ মহাপরির্দশক বলেন, 'দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেছে এবং একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত উদ্বেগ জনক অভিযোগ আছে। অতএব, এক্ষেত্রে তার প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনিয়। তদন্তকালীন বা অনুসন্ধানকালীন যে সমস্ত উপাদান পাওয়া যাবে তার উপর নির্ভর করে যে, তার পাবলিক সার্ভিসে থাকা জনস্বার্থে আর প্রয়োজন আছে কি না। যদি জনস্বার্থে প্রয়োজন না থাকে তখন তাকে সাসপেনশন বা সাময়িক বরখাস্ত করতে হবে।'

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত