শিরোনাম

অবশেষে ছিনতাই হওয়া সেই প্রেমিকা উদ্ধার

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:৪১, জুন ১৬, ২০১৯

রাজধানীর পল্লবীতে পুলিশের ‘সোর্স’ পরিচয়ে কিশোরের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া সেই প্রেমিকাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ছয় দিন পর ৮ম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিনকে (১৩) মিরপুর-১১র একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়।

এসময় গন্ডার নামে বিহারি ক্যাম্পের সেই সন্ত্রাসীসহ তার তিন সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। একইসঙ্গে জেরিন নামের মেয়েটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

জেরিনের মামা শামীম আহমেদ জানান, জেরিনকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। আর আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। গত ৮ জুন মিরপুর থেকে নিখোঁজ হন জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে এক ছেলের সঙ্গে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি— ফাহিম ও তার এক বন্ধু জেরিনকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায়। আর জেরিনের পরিবারের দাবি— ওই স্থান থেকেই জেরিনকে অপহরণ করা হয়।

তবে পুলিশের কাছে ফাহিম দাবি করে, ওই রাতে পুলিশের এক সোর্স তাকে ভয় দেখিয়ে জেরিনকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। এরপর ছয়দিন ধরে জেরিনের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফাহিমের দাবি— পুলিশের সোর্স পরিচয় দেওয়া মামুন নামের ওই ব্যক্তি জেরিনকে অন্য কোথাও নিয়ে গেছে।

তবে পুলিশ বলছে, গন্ডার নামের অন্য এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে জেরিনকে জোর করে বিয়ে দিয়েছে পুলিশের সোর্স পরিচয় দেওয়া মামুন। সেই ব্যক্তির মুঠোফোন নম্বর ট্র্যাকিং করে সর্বশেষ অবস্থান জানা গেছে কুমিল্লায়।

প্রসঙ্গত, জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন রাজধানীর পল্লবী এলাকার এমডিসি মডেল স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ইয়াসিন শেখ ফাহিমের (১৫)। জেরিন-ফাহিমের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে চায়নি তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাই গত ৮ জুন রাতে তারা দুজন বাসা থেকে অজানার উদ্দেশে বেরিয়ে যায়।

এ ঘটনার পরের দিন মেয়ের নিখোঁজের বিষয়ে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জেরিনের বাবা জামালউদ্দিন। মামলায় ফাহিম, তার মা ফারহানা বেগম ও ফারহান মাসুদ নামের একজনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করে। পরে তাদের গ্রেপ্তারও করে পুলিশ।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, যা শুনেছেন সঠিক শুনছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও তিনি ব্যস্ত থাকায় বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত