শিরোনাম

সুনামগঞ্জে ৪ কোটি টাকার চুনাপাথর পাচারের অভিযোগ

প্রিন্ট সংস্করণ॥সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি  |  ০৫:০২, মে ২৫, ২০১৯

সুনামগঞ্জের বীরেন্দ্রনগর সীমান্ত দিয়ে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের দুই হাজার মে.টন চুনাপাথর পাচারের খবর পাওয়া গেছে। চোরাচালানীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্থানীয় এলাকার রাস্তা মেরামতের নাম করে চুনাপাথর পাচার করার পর পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে বাগলী শুল্ক স্টেশনের ব্যবসায়ী ও রঙ্গাছড়া এলাকার লোকজন জানায়, জেলার তাহিরপুর উপজেলার বীরেন্দ্রনগর সীমান্তের রঙ্গাছড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে চিহ্নিত চোরাচালানী মস্তোফা মিয়া মস্তো, একই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান ছেলে আলী হোসেন, বীরেন্দ্রনগর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে হযরত আলী ও মৃত জামাল মিয়ার ছেলে মঞ্জুল মিয়া, মজিবুর মিয়া নিজেদের সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের সোর্স ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি শামীমা শাহরিয়ারের কর্মী পরিচয় দিয়ে রঙ্গাছড়া এলাকা দিয়ে প্রতিদিন ১০টি ট্রলি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে চুনাপাথর পাচার শুরু করে। প্রথমে তারা বাগলী শুল্ক স্টেশন ও স্থানীয় এলাকার রাস্তা মেরামতের কথা বলে ১৫-২০ ট্রলি চুনাপাথর ভারত থেকে পাচার করে এলাকার বিভিন্ন জায়গাতে নিয়ে মজুত করে রাখে।

এ সময় বাগলী এলসি পয়েন্টের মাঝের কান্দা নামক এলাকার আফসার আলী নিজেকে সীমান্তের ১১৯৩ নং পিলার সংলগ্ন জিরো পয়েন্টের খাস জায়গার মালিক দাবি করে। পরে চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্য বিজিবি সোর্স আলী হোসেন ও পল্লী চিকিৎসক মনির সরকারি খাস জায়গার মালিক দাবিদার আফসার আলীর সাথে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে তাকে ১৫ হাজার টাকা দেয়। এবং অবাধে ভারত থেকে অবৈধভাবে চুনাপাথর পাচার করে ১ ট্রলি চুনাপাথর থেকে বিজিবির নামে ২০ টাকা, থানার নামে ২০ টাকা, স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকদের নামে ১০ টাকা, বাগলী কয়লা ও চুনাপাথর আমদানিকারক সমিতির নামে ১০ টাকা, বিজিবি অধিনায়কের নামে ২০ টাকা, সোর্সদের নিজের নামে ১০ টাকাসহ মোট ১২০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করে সোর্স পরিচয়ধারী চোরাচালানী মস্তোফা মিয়া মস্তো ও বাগলী কয়লা-চুনাপাথর আমদানিকারক সমিতির সচিব আকবর মিয়া।

আর প্রতিদিন পাচারকৃত অবৈধ চুনাপাথরের হিসাব বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বসে খাতায় লিখে রাখে চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্য আলমগীর, সেলিম ও মিন্টু। বড়ছড়া ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন, আব্বাস আলী, দিন ইসলাম, রহমত আলী, সবুজ মিয়া, নিয়ামত উল্লাহসহ আরও অনেকেই বলেন, বিজিবির সহযোগিতায় গত ২৭ এপ্রিল হতে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত গত ২৭ দিনে প্রায় ২ হাজার মে.টন চুনাপাথর অবৈধভাবে পাচার করে সোর্স মস্তোফা মিয়া মস্তো ও পারুল খাসহ তাদের সিন্ডেকেটের অন্যান্য সদস্যরা নিজেরাই নৌকাবোঝাই করে নদীপথে এলাকার বাইরে নিয়ে বিক্রি করে। উপরে উল্লেখিত চোরাচালানীরা সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে গত কয়েক বছরে হয়েছে কোটিপতি। কিন্তু সরকারের এই রাজস্ব উদ্ধার করাসহ চোরাচালানীদের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য আজ পর্যন্ত নেয়া হয়নি আইনগত কোনো পদক্ষেপ।

এ ব্যাপারে বাগলী শুল্ক স্টেশনের কয়লা ও চুনাপাথর আমদানিকারক সমিতির সভাপতি খালেক মাস্টার বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনেক কিছুই হয় কিন্তু আমি এসব অবৈধ কাজের সাথে জড়িত না, আমাকে ২ দিনের সময় দিন এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে আপনাকে সব জানাব। বীরেন্দ্রনগর বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ফরিদ বলেন, রাস্তা মেরামতের জন্য কিছু চুনাপাথর সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিজিবি দাঁড়িয়ে থেকে এসব চুনাপাথর ভারত থেকে আনা হয়েছে। সুনামগঞ্জ ২৮-ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক মাকসুদুর আলম বলেন, সীমান্ত এলাকায় আমার কোনো সোর্স নেই, সীমান্ত চোরাচালান বন্ধের জন্য প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত