শিরোনাম

পুকুর খননের নামে সরকারি অর্থ হরিলুট

জাহাঙ্গীর আলম, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম)  |  ১৮:১৩, মে ২২, ২০১৯

ক্ষমতাসীন দলের নেতা সরকারি কর্মকর্তারা মিলে খাস ও মালিকানা পুকুর খননের সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আড়াই কোটি টাকা হরিলুটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পুকুর খনন কাজ শেষ না হতেই বিল উত্তোলন প্রায় শেষ করেছেন। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সরকারি খাস পুকুর ও ব্যক্তি মালিকানা সহ মোট ২৪ টি পুন:খনন স্কীম বাস্তবায়নের জন্য গঠিত (এলসিএস) এর সুফল ভোগীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দায়সারা ভাবে খননের কাজ চালাচ্ছেন মৎস্য কর্মকর্তা সহ ঠিকাদাররা।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড পাল্টে দিতে উপজেলার ২৪ টি পুকুরের খনন শুরু হয়েছে। পরিত্যক্ত ও দখলী জলাভূমি উদ্ধার করে রংপুর মৎস উন্নয়ন প্রকল্প পুকুর খননের মাধ্যমে শুরু হবে মাছ চাষ। পাশাপাশি পাড় সমূহে ফলজ, বনজ ও বাসোক গাছের চারা রোপনের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবে জলাশয় তীরবর্তী মানুষ গুলো। ফলে ফলদ বৃক্ষ ও মৎস চাষে ভাগ্য বদল হবে তাদের।

সজেমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জলাশয়ে জীব বৈচিত্র রক্ষা এবং মৎস আবাসস্থল উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় চালু করেছে মৎস উন্নয়ন প্রকল্প।

মোট প্রকল্প বরাদ্দকিত অর্থ ২ কোটি ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার সরকারি জলাশয় তিনটি ধোপাড়কুড়া-১৬ লক্ষ ৬৪ হাজার, ধোপাড়কুড়া দ্বিতিয়-১০ লক্ষ ২৬ হাজার, ফুলবাড়ী চন্দ্রখান নয়ারছড়া পুকুর-৩০ লক্ষ, ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খোচাবাড়ী এলাকার বড়পীঠ এক ও বড়পীঠ দুই-৪৮ লক্ষ, কৈকুড়ি খাস ও খলিশাকুড়ির বিল ৩২ লক্ষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বড়ভিটা ইউনিয়ন পাইবো বড়পীঠ ও বড়লই পাউবো ছোটপীঠ- ৩৪ লক্ষ ৪৩ হাজার, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহামুদুন্নবি মিঠু নিজ উদ্দোগে বরাদ্দ নিয়ে এসে কাজ করছেন ব্যক্তি মালিকানা ১৪ টি পুকুরের নয়ছয় করে। সমিতির নাম ভাঙ্গিয়ে পুকুর খনন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সমিতির লোকজন।

তাকে খননের ব্যাপারে জিঙ্গেস করলে বলেন এ বিষয়ে কাজ শেষে আপনাদের সাথে বসবো। খননের পুকুর গুলো হলো বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছাড়ার সিরাজুল ইসলামের পুকুর-২লক্ষ ৩০ হাজার, আফসার আলীর পুকুর-৪ লক্ষ ৩১ হাজার, মোজাফ্ফর হোসেনের পুকুর- ৪ লক্ষ ২৮ হাজার, আব্দুল মান্নানের পুকুর-১ লক্ষ ৪১ হাজার, নুর হোসেনের পুকুর-১ লক্ষ ৮১ হাজার, ওমর ফারুকের পুকুর-১ লক্ষ ৮৩ হাজার, ছাইফুরের পুকুর-৪ লক্ষ ১৩ হাজার, আব্দুল হানিফের পুকুর-১ লক্ষ ৫৪ হাজার, ছকিয়ত আলীর পুকুর-২ লক্ষ ৫০ হাজার, শামসুল হকের পুকুর- ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার, জহুর আলীর পুকুর-১ লক্ষ ৫০ হাজার, আজিজুর রহমানের পুকুর-২ লক্ষ ৩৯ হাজার, হামিদুলের পুকুর- ১ লক্ষ ২৯ হাজার এবং আয়নাল হকের পুকুর-২ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা।

এই প্রকল্পে সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক পুকুর, বরোপীট, বন্ধ জলাশয় পুনঃখনন, অভায়াশ্রমের মাধ্যমে মাছ চাষ, বিল নার্সারী স্থপনের মাধ্যমে উন্নয়নের ধারায় যুক্ত হবে দরিদ্র কয়েক শত’ পরিবার। পুকুর এবং ৩টি বরোপীট খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে। এজন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এর মাধ্যমে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে সুফলভোগীদের। কিন্তু দায়সারা পুকুর খনন করে চলছে সরকারি অর্থ হরিলুটের মহা ৎউসব।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.মাহামুদুন্নবি মিঠু বলেন, অব্যবহ্নত জলাশয় সংস্কারকরণ, মাছচাষ, অভয়াশ্রম স্থাপন প্লাবন বিল ও পুকুর পাড়ে নার্সারী স্থাপন এবং লক্ষিত জনগোষ্ঠীকে আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে তহবিল গঠন, সঞ্চয় কার্যক্রম এবং বিভিন্ন পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তবে চলতি মাসের ৩০ শে মে পর্যন্ত পুকুর খননের কাজ শেষ না হলে সময় আরো বাড়ানো হতে পারে।

আমাদের প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদস্য সচিব উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সদস্য কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানরা।

কুড়িগ্রাম জেলার সরেজমিনে তদন্তকারী মৎস্য উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুলের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমি ঢাকায় অডিট করার জন্য এসেছি এ বিষয়ে আপনার সাথে পরে কথা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত