শিরোনাম

ছাত্রী মেসে যৌন হয়রানির দায়ে ৪ যুবক আটক

মো: মাহবুবুর রহমান রাহেল, মৌলভীবাজার  |  ১৭:০৮, মে ১৬, ২০১৯

মৌলভীবাজার শহরের সোনাপুর বড়বাড়ি এলাকায় একটি ছাত্রী মেসের মেয়েদেরকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ৪ যুবকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আলমগীর হোসেন। আটকৃতরা হলেন, নাভেদ (১৮), সায়েম (২৪), মুন্না (২২) ও লোকমান (২৪)।

গত সোমবার রাতে মৌলভীবাজার মডেল থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধীত) ২০০৩ এর ১০/৩০ এই ধারায় মামলা দায়ের করেন শিক্ষক সুমন কান্তি দেব নাথ। মামলা নং-১৭। থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার থেকে জানা যায় মৌলভীবাজার শহরের সোনাপুর বড়বাড়ি শফিকুর রহামান শফিকের বাড়িতে ভাড়াটিয়া (মেস) থাকতেন মৌলভীবাজার সরকারী মহিলা কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী জাহানারা আক্তার জুলি, সরকারী কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সুইটি রাণী দেব ও বিউটি রাণী দেব।

দীর্ঘদিন থেকে কলেজে আসা যাওয়ার পথে গতিপথ রোধ করে প্রেম প্রস্তাব, নানা অশ্লীল কথা ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তাদের উত্ত্যক্ত করত ওই এলাকার গত সোমবার বিকেলে সুইটি রাণী দেবী কলেজের ইনকোর্স পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফেরার পথে বাসায় ঘরে প্রবেশের পূর্বে বাসার ওঠানে বসে থাকা নাভেদ আহমদ তার সহযোগী সায়েম,মুন্না ও লোকমান তাকে উদ্দেশ্য করে নানা অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলতে থাকে। এসময় সুইটি বাসায় থাকা তার অন্য দুই সহপাঠী জুলি ও বিউটিকে ঘটনাটি বলে। তারা ৩ জন ঘর থেকে বের হয়ে একসাথে এঘটনার প্রতিবাদ জানালে নাভেদ ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে জুলি আক্তারের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে তার শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত বুলিয়ে যৌন নিপিড়ন করে।

এ সময় জুলির সহপাঠী সুইটি ও বিউটি প্রতিবাদ জানালে সায়েম, লোকমান ও মুন্নাসহ আরো ২-৩ জন তাদের দু’জনকে কিল ঘুষি ও লাথি মেরে তাদের জখম করে। তারা সকলেই মিলে তাদের মারধর করে ও তাদের পরনের কাপড় খুলে নেওয়ার চেষ্ঠা করে এবং তাদের শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত বুলিয়ে যৌন নিপিড়ন করে। এরপর তারা ঘটনাটি মুঠোফেনে সুইটি ও বিউটির খালাত ভাই কাশিনাথ আলা উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক সুমন কান্তি দেব নাথকে জানালে তিনি তার কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বাড়ির মালিক ও নাভেদ আহমদের চাচা শফিকুর রহমানের কাছে বিচার প্রার্থী হন। এই খবর শোনে নাভেদ আহমদসহ তার অন্যান্য সহযোগীরা যৌন হয়রানির শিকার ওই ৩ জন মেয়ে শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সকলকে গালিগালাজ করে হেনেস্তা করে। এবং তারা হুঁশিয়ারীদিয়ে বলে এনিয়ে মামলা মোকদ্দমা ও বাড়াবাড়ি করলে সবাইকে খুন জখমের ভয়ভীতি দেয়। এই ঘটনার পর সুমন কান্তি দেবসহ উপস্থিত সকলেই আহত জুলি, সুইটি ও বিউটি কে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এবং ওখানেই তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত