শিরোনাম

শৈলকুপায় চাকরির নামে কোটি টাকা প্রতারণা

আব্দুল জাব্বার, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি  |  ২৩:১৯, মে ১৪, ২০১৯

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি চক্র চাকরি দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকা ফেরত পেতে অসহায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত তার নিকট ঘুরলেও টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে কাটা ঘায়ে নুন লাগানো হচ্ছে। টাকা ফিরে পাবার পরিবর্তে মামলার পিছনে টাকা ঢালতে হচ্ছে তাদের।

ভুক্তভোগীরা জানায়, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার রায়জাদাপুর গ্রামের শ্রীবাস কুমার মন্ডলের ছেলে শ্রীকান্ত মন্ডল ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও শিক্ষকতায় চাকরি দেবার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের ফাঁদে এলাকার অন্তত ১২টি পরিবার এখন নিঃস্ব হতে বসেছে। চাকরি প্রত্যাশী যুগনী গ্রামের পশু চিকিৎসক মোহাম্মাদ তুহিন জানান, ২০১৪ সালে শ্রীকান্ত মন্ডলের কাছে তার ছেলের ব্যাংকে চাকরি দেবার নাম করে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম।

পরে আবার আমার মাধ্যমে হিব্বু জোয়ার্দ্দার নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ফায়ার সার্ভিসে চাকরি দেবার নাম করে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা নেয়। এদিকে চাকরি দাতা শীকান্ত মন্ডল হিব্বু জোয়ার্দ্দারকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ফায়ারম্যান পদে একটি নিয়োগপত্র প্রদান করে। যে নিয়োগ পত্রটিও সঠিক নয় বলে তারা জানতে পারে। তারপর চাকরির জন্য দেয়া টাকা তুহিন ফেরত চাইলে সামান্য কিছু টাকা ফেরত দিয়ে আর টাকা দিতে পারবনা বলে তাকে হুমকি দেয়।

এছাড়াও প্রাইমারি স্কুলে চাকরি দেয়ার নাম করে উপজেলার কচুয়া গ্রামের অসিম কুমারের নিকট থেকে ১ লাখ টাকা ও টংবিলা গ্রামের রাজ কুমার নামের আরেক ব্যক্তির নিকট থেকে দেড় লাখ টাকা নেয়। কচুয়া গ্রামের অসিম কুমারের মা রেখা বিশ্বাস জানান, তার ছেলের মাস্টারি চাকরি দেবার নাম করে শ্রীকান্তকে আমরা ১ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। তেতুলিয়া গ্রামের উত্তম কুমার নামের একব্যক্তি তার ভাতিজার মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেবার নাম করে ৭ লাখ টাকা নিয়েছিল। টাকা ফিরে পেতে উত্তম কুমার ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানালে তিনি শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এব্যাপারে নিত্যানন্দন পুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মফিজউদ্দিন বিশ্বাস জানান, আমি গ্রাম্য সালিশ করে শ্রীকান্তর কাছ থেকে অনেকের টাকা ফেরত নিয়ে দিয়েছি। মোবাইল ফোনে এসব অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে শ্রীকান্ত কুমার ফোন রিসিভ করেনি। এদিকে শ্রীকান্তর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের সংবাদ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হওয়ায় সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকরা তার খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছে বলে গোপন একটি সূত্র জানায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত