শিরোনাম

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এখন ইয়াবার স্বর্গরাজ্য

প্রিন্ট সংস্করণ॥উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি  |  ০৮:০৪, এপ্রিল ২১, ২০১৯

মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো এখন ইয়াবার হাট হিসেবে পরিণত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি এনজিও সংস্থার ভুরি ভুরি ত্রাণসামগ্রী ও নগদ টাকা পেয়ে স্বাবলম্বী এসব রোহিঙ্গা আরও উন্নত জীবনের আশা করে জড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা পাচারে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা নারীরা ইয়াবা পাচারে বাহক হিসেবে ব্যবহূত হওয়ায় অনেক সময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহীনির নজরদারির বাইরে থাকে। গতকাল শনিবার ভোর রাতে উখিয়া থানা পুলিশ কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে চার হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ মৃত হাবিবুলার ছেলে ছব্বির আহম্মদকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে যে সমস্ত রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়েছে, উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে এসব রোহিঙ্গাদের পুঁজি মিয়ানমারের (কিয়াত) বিনিময়ে ইয়াবা নিয়ে এ দেশে চলে এসেছে যাতে তারা অতি সহজে ওইসব ইয়াবা হাতবদল করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। বর্তমানে এই ইয়াবা পাচারের ধারাবাহিকতায় দিন দিন বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে বলে খোদ রোহিঙ্গা নেতারাই জানিয়েছেন। কুতুপালং ক্যাম্পের হেড মাঝি সিরাজুল মোস্তফা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেশ কিছু রোহিঙ্গা রয়েছে যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব রোহিঙ্গা বালুখালীর পূর্বপাড়া নাফ নদী পার হয়ে সরাসরি ক্যাম্পে চলে আসে ইয়াবার চালান নিয়ে। গত বুধবার রাত আড়াইটার দিকে চার-পাঁচজন ইয়াবা কারবারী মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে বালুখালী পূর্বপাড়া নাফ নদী পার হয়ে এপাড়ে পৌঁছে। সেখানে অপেক্ষমান আরও চার-পাঁচজন ইয়াবা কারবারীর মধ্যে টাকা লেনদেন নিয়ে তুমুল সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারীদের গুলিতে বালুখালী গ্রামের মৃত মো. ছৈয়দের ছেলে নাজমুল গুলিবিদ্ধ হয়। পূর্বাঞ্চলীয় ইয়াবা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ টি এম রশিদসহ আরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় গ্রামবাসী অভিযোগ করে জানান, ডেইলপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গাদের মাধমে ইয়াবার চালান সরাসরি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছে যাচ্ছে। এ ছাড়াও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এসব ইয়াবা স্থানীয়ভাবে বাজারজাত করার কারণে স্থানীয় যুবসমাজ লেখাপড়া ছেড়ে ইয়াবাসক্ত হয়ে পড়েছে। উখিয়া থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে ডেইলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ ইয়াবা কারবারী মৃত মৌলভী বাদশা মিয়ার ছেলে রফিক আলমকে না পেয়ে তার স্ত্রী সোনা খাতুনকে (৩৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে উখিয়া থানার ওসি তদন্ত নুরুল ইসলাম মজুমদার জানিয়েছেন।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত