শিরোনাম

বোকা সেজে ধোঁকা দেয় ওরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১১:০২, মার্চ ১৬, ২০১৯

হাতে কখনো ডলার, কখনো রিয়াল (সৌদি মুদ্রা)। টার্গেট ব্যক্তির কাছে গিয়ে না জানার ভান করে বলেন, এগুলো কোন দেশের টাকা? এরপর জানতে চান, কিভাবে বিদেশি মুদ্রাগুলো বাংলাদেশি টাকায় ভাঙানো যাবে। এভাবে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এরপর কম টাকাতে হলেও বিদেশি মুদ্রাগুলো ভাঙাতে চান তারা। আর লাভের আশায় প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে কম দামে মুদ্রাগুলো কিনে নিজেই বোকা বনে যান ভুক্তভোগীরা।

কারণ, বান্ডেলে দু-একটি ডলার/রিয়ালের নোট মিললেও ভেতরে সবই থাকে কাগজ। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ভাটারা থানার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই প্রতারক চক্রের সাত সদস্যকে আটকের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১। আটককরা হলো- আবু শেখ (৩৮), শাহিন মাতব্বর (৩৭), মহসিন মিয়া (৪৫), আবুল বাশার (৪০), কামরুল শেখ (৩৫), ইশারত মোল্লা (২৭) ও আব্দুর রহমান মোল্লা (৪০)।

আটককালে তাদের কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ রিয়েল, তিন হাজার ৮২২ টাকা ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। চক্রটি বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করত। প্রতারকদের সবাই পেশায় রঙ মিস্ত্রী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১-এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, প্রতারক চক্রটি কখনো বাসায় ঢুকে বয়স্ক ব্যক্তিদের টার্গেট করত।

কখনো আবার রাস্তায় দামি গাড়ির যাত্রীদেরও টার্গেট করত। তারা রিয়েল দেখিয়ে কম মূল্যে বিক্রির কথা বলে প্রলোভন দেখাত। ব্যক্তি রাজি হলেই টাকার বিনিময়ে উপরে কয়েকটি রিয়েল নোট আর ভেতরে কাগজ দিয়ে বানানো বান্ডেল হস্তান্তর করে কেটে পড়ত।তিনি আরও বলেন, গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় যানজটে আটকে থাকা প্রাইভেটকারের যাত্রীরা এই চক্রের টার্গেট ছিল। তারা গাড়ির বাইরে থেকে রিয়েলের নোট দেখাত এবং অনেক নোট আছে বলে জানাত।

এসময় কম দামে কিনতে আগ্রহী সেজে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যরা দর কষাকষি করতে আসত। তখন টার্গেটকৃত ব্যক্তি কেনার ফাঁদে পা দিলে, টাকার বিনিময়ে রিয়েল ভর্তি ব্যাগ দিয়ে পুলিশ দেখে ফেলবে বলে দ্রুত কেটে পড়ত তারা। কিছু বুঝে উঠার আগেই কাগজ বা কাপড় দিয়ে মোড়ানো ভুয়া বান্ডেলে প্রতারণার শিকার হতো টার্গেট ব্যক্তি।

ইজতেমা ময়দান ও হজ ক্যাম্পেও একই কৌশলে চক্রটি প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। সেখানে গ্রাম থেকে আসা লোকদের ফাঁদে ফেলে এ পর্যন্ত কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। চক্রটি রিয়েল হস্তান্তরের জন্য বিভিন্ন শপিংমল কিংবা জনবহুল জায়গা ঠিক করত, যেন টাকা নিয়ে দ্রুত কেটে পড়তে পারে। সারওয়ার বিন কাশেম আরও বলেন, আবু শেখ এই চক্রের মূল হোতা। তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি অভিনব পন্থায় প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত