শিরোনাম

‘ঘুমানোর সময়ই ছিল না আমার’

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:৪১, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯

সোনালি অতীত হারিয়ে ফেলেছে দেশীয় চলচ্চিত্র। কিন্তু তখনকার স্মৃতি নিয়ে এখনো বেঁচে আছেন সেই সময়কার তারকারা। খ্যাতনামা চিত্রনায়ক ও নৃত্যপরিচালক জাভেদ তাদের একজন। দেশীয় চলচ্চিত্রের এক সময়ের পর্দাকাঁপানো এই নায়ক এখন কেমন আছেন, কী করছেন? সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিব হোসেন

নায়করা সাধারণত পর্দার সামনে কাজ করেন। আপনি তো পর্দার পেছনেও কাজ করেছেন। এই অর্জন কীভাবে উপভোগ করেছেন?
অন্য নায়কেরা শুধু নিজের চরিত্রে অভিনয় করেই চলচ্চিত্রে নিজেদের অবদান রেখেছেন। কিন্তু আমি নায়ক চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি অনেক চলচ্চিত্রে নৃত্যপরিচালক হিসেবে কাজ করে আলাদা একটি ভূমিকা রেখেছি। তাই এদেশের নায়কদের কাতারে আমার নাম যেমন সম্মান আর শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয়, ঠিক তেমনি এদেশের চলচ্চিত্রের নৃত্য নির্দেশনার ক্ষেত্রেও আমার অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।

এখন আপনি অভিনয় করছেন না কেন?
আমি তো আমার মনের মতো কাহিনী ও চরিত্র পাচ্ছি না। ভালো গল্প এবং চরিত্র পেলে অবশ্যই অভিনয় করবো, কেনো নয়! আমার এখনো ইচ্ছে আছে আবার চলচ্চিত্রের নৃত্য নির্দেশক হিসেবেও কাজ করার। কিন্তু তেমন কাজ ব্যাটে-বলে মিলছে না বিধায় কাজ করা হয়ে উঠছে না।

আপনি তো এখনো সময় পেলে স্টেজ শোতে পারফর্ম করেন। কেমন লাগে?
ভালোই লাগে। এটাই একজন শিল্পীর প্রকৃত শিল্পী হয়ে উঠার মূল জায়গা। ভালো স্টেজ শোর প্রস্তাব এলে আমি পারফর্ম করার চেষ্টা করি।

দীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনে আপনি কী সন্তুষ্ট?
চলচ্চিত্রে অভিনয় করে, নৃত্য পরিচালক হিসেবে কাজ করে আমি তৃপ্ত।দর্শক আমাকে ভালোবেসেছেন, এটাই আমার অনেক বড় পাওয়া। তাদের ভালোবাসা নিয়েই বাকীটা জীবন কাটিয়ে দিতে চাই। সবার কাছে দোয়া চাই যেন ভালো থাকি, সুস্থ থাকি।

১৯৭০ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত নায়কদের মধ্যে আপনি ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। সেই সময়কার স্মৃতিকথা শোনাবেন কী?
ওই সময়গুলোতে আমি নিজে নাচতাম ও নায়িকাদের নাচিয়ে পর্দা কাঁপিয়ে তুলতাম। শাবানা, ববিতা, অঞ্জু ঘোষ, রোজিনা, সুজাতা ও সুচরিতা ছিলেন পর্দায় আমার নায়িকা। পর্দায় নায়ক জাভেদের উপস্থিতি ছিলো দর্শকের কাছে অন্যরকম এক উত্তেজনা। দিলীপ কুমার, রঞ্জন, প্রেমনাথ ছিলেন আমার আইডল হিরো, যে জন্য তাদের মতো করেই রূপালি পর্দায় অভিনয়ের চেষ্টা করে গেছি আমি। ‘নিশান’ ছবিতে আমার অভিনয় প্রমাণ করেছিল, আমিও যে রঞ্জনের মতো এক দুর্দান্ত, দুঃসাহসিক নায়ক। আর নায়ক হিসেবেই নয়, নৃত্য পরিচালক হিসেবেও এক সময় ছিল আমার তুমুল ব্যস্ততা। যে জন্য নিকটতম কাউকে সময় দিতে পারতাম না। দিনে-রাতে সমানে ছিল শুটিং। ঘুমানোর সময়ই ছিল না আমার। গাড়ি ড্রাইভিং নিজেই করতাম। ফলে গাড়িতে বসে যে একটু ঘুমাবো সে সময়টুকুও ছিল না আমার।

শুনেছি আপনার বাবা চাননি আপনি চলচ্চিত্রে আসেন
ঠিকই শুনেছেন। আমার বাবা রাজা মোহাম্মদ আফজাল ছিলেন ধর্মপরায়ণ। তিনি চাইতেন ছেলে ব্যবসায়ী হবে, নয়তো চাকরি করবে। কিন্তু আমার ওইসব দিকে আদৌ মন ছিল না। কীভাবে অভিনেতা হওয়া যাবে এ নিয়েই আমি ভাবতাম। সিনেমা দেখা, গান শোনাতেই মগ্ন ছিলাম আমি। আমার প্রথম অভিনীত চলচ্চিত্র ছিলো উর্দু ‘নয়ী জিন্দেগি’। কিন্তু এটি মুক্তি পায়নি। উর্দু চলচ্চিত্র ‘পায়েল’-এ (১৯৬৬) অভিনয়ের পর থেকেই আমার নামডাক ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত