শিরোনাম

আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম জানাজা সম্পন্ন

বিনোদন প্রতিবেদক  |  ১৬:২৯, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।শুক্রবার (১৯অক্টোবর) সকাল ১০টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয় কিংবদন্তি ব্যান্ড শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ। সবার শ্রদ্ধা জানানো শেষে প্রথম জানাজার জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে।

সেখানে জুমার নামাজ শেষে জানাজা হয়। জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজার নামাজ শুরু হওয়ার আগে আইয়ুব বাচ্চুর ছোট ভাই জুয়েল সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের প্রিয় আইয়ুব বাচ্চু সব সময় বাবা-মার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। সবাইকে নিজের বাবা-মাকে শ্রদ্ধা করতে বলতেন। এই প্রিয় মানুষ আর আমাদের মাঝে নেই। জীবনে চলার পথে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় যদি আইয়ুব বাচ্চু কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকেন তাহলে সবাই উনাকে মাফ করে দেবেন।’

আইয়ুব বাচ্চুর দ্বিতীয় জানাজা হবে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। দ্বিতীয় জানাজা শেষে এই শিল্পীর মরদেহ ফের হিমঘরে রাখা হবে। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আইয়ুব বাচ্চুর মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব ও ছেলে আহনাফ তাজোয়ার আইয়ুব দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তারা এলে চট্টগ্রামে শনিবার শেষ জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আইয়ুব বাচ্চু।

বৃহস্পতিবার সকালে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান আইয়ুব বাচ্চু। তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। ব্যান্ড দল এলআরবির লিড গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার ও প্লেব্যাক শিল্পী। চার দশক বাংলাদেশের তরুণদের গিটারের মূর্ছনায় মাতিয়ে রেখেছিলেন তিনি। গিটার বাদনে তার খ্যাতি ছিল পুরো ভারতীয় উপমহাদেশেই।

আঙুল দিয়ে গিটারের তার স্পর্শ করলেই যেন সুরের ইন্দ্রজাল ছড়িয়ে পড়তো চারপাশে। গলা ছেড়ে তিনি গাইতেন ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো, কিংবা আরও বেশি কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে, সত্যিই তো এখন আকাশে চলে গেছেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। গানে গানে তো তিনি আকাশের তারা গোনার ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন। তার প্রিয় সেই রূপালি গিটার ঠিকই আছে। শুধু নেই বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের অন্যতম নক্ষত্র আইয়ুব বাচ্চু।

শিল্পীর পারিবারিক একটি সূত্র জানায়, অনেকদিন ধরেই আইয়ুব বাচ্চু হৃদরোগে ভুগছিলেন। কিন্তু সেটা তিনি মিডিয়াকে জানাতে চাননি। এ প্রসঙ্গে ডা. নাজিম বলেন, তার হার্টের কার্যক্ষমতা ছিলো ৩০ শতাংশ। সর্বশেষ তিনি গত সপ্তাহে স্কয়ার হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগে ২০০৯ সালে তিনি হার্টে রিং পরিয়েছিলেন। আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর খবর শোনার পরপরই শিল্পীর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও সহশিল্পীরা স্কয়ার হাসপাতালে ছুটে যান। অনেকেরই চোখ তখন ছলছল করছিল। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৮ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেন আইয়ুব বাচ্চু। শৈশব থেকেই তিনি প্রচুর গান শুনতেন। একসময় নিজেও গাইতে শুরু করেন। গান গাওয়ার বাইরে গিটার চর্চাও করতেন তিনি। কলেজে পড়ার সময় বন্ধুদের নিয়ে ‘গোল্ডেন বয়েজ’ নামে একটা ব্যান্ডদল গড়ে তোলেন, পরে অবশ্য এর নাম পাল্টে রাখা হয় ‘আগলি বয়েজ’।

বিয়েবাড়ি, জন্মদিন আর ছোটখাট নানা অনুষ্ঠানে তাদের এই ব্যান্ডদল গান করতো। একসময় বন্ধুরা যে যার মতো একেক দিকে ছড়িয়ে পড়লে আইয়ুব বাচ্চু ব্যান্ডদল ‘ফিলিংস’র সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর ১৯৮০ সালে তিনি যোগ দেন ‘সোলস’ ব্যান্ডে। এই ব্যান্ডের লিডগিটার বাজানোর দায়িত্বে ছিলেন টানা ১০ বছর। ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল গড়ে তোলেন নতুন ব্যান্ড ‘এলআরবি’।

আইয়ুব বাচ্চু মঞ্চ পারফরম্যান্সে ছিলেন অনন্য। শ্রোতা-ভক্তদের কাছে ‘এবি’ নামে পরিচিত এই গুণীশিল্পীর ডাকনাম রবিন। আইয়ুব বাচ্চুর অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘সেই তুমি কেন এতো অচেনা হলে’, ‘তারা ভরা রাতে’, ‘এক আকাশের তারা তুই একা গুনিসনি’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘উড়াল দেবো আকাশে’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো, ‘এই রূপালি গিটার ফেলে একদিন...’।

শিল্পীর প্রকাশিত একক অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে রক্তগোলাপ (১৯৮৬), ময়না (১৯৮৮), কষ্ট (১৯৯৫), একা (১৯৯৯), রিমঝিম বৃষ্টি (২০০৮), বলিনি কখনো (২০০৯) ইত্যাদি। এলআরবি ব্যান্ডের অ্যালবামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জীবনের গল্প (২০১৫) ও ফেরারী মন (১৯৯৬)।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত