শিরোনাম

‘সাহস করে উঠতে পারছি না’

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:২৫, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮

মানহীন কাজের উঠোনে বিচরণের ইচ্ছে নেই ভিট-চ্যানেল আই টপ মডেল খ্যাত নোমিরা আহমেদের। ভালো কাজকে সঙ্গী করেই এগিয়ে যেতে চান এই তারকা। মাঝে বেশকিছু সুন্দর নাটকে অভিনয় করে নিজেকে এগিয়ে নিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিব হোসেন

অনেকদিন ধরেই তো অভিনয় করছেন। নিজের এখনকার অবস্থান নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন?
আসলে প্রত্যেক শিল্পীরই সময়ের সাথে সাথে ভাবনা ও রুচির বদল হয়। আমারও হয়েছে। কাজ করতে করতে ম্যাচিউরিটি আসছে। আগের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রতিনিয়তই নতুন কিছু না কিছু শিখছি। দিন দিন অনেক ভালো ভালো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করছি। সিনিয়র অভিনয় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়েও অনেক কিছু শেখা হচ্ছে। তবে এটা ঠিক, আমার এখন আরও ভালো অবস্থানে থাকা উচিত ছিল। নানা কারণে সেটা হয়নি। এই বিষয়টা ভাবলে কিছুটা অতৃপ্তি কাজ করে নিজের ভেতর।

মাঝে একঘণ্টা ও ধারাবাহিক মিলিয়ে কিছু কিছু ভালো কাজ করেছেন আপনি। নিজের সেরা কাজের তালিকায় কী রাখছেন?
এই তো একটু মুশকিলেই পড়ে গেলাম। আসলে এই মুহূর্তে সবগুলো নাম মনে করা সম্ভব নয়। তবে আমার সেরা কাজের মধ্যে এখন মনে পড়ছে কিছুদিন আগে মাছরাঙা টিভিতে প্রচারও হওয়া ‘তৃতীয় পুরুষ’ নামের নাটকটির কথা। এটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মুরাদ পারভেজ। এতে আমার বিপরীতে ছিলেন সজল ভাই। কাজটি করে আমার অনেক ভালো লেগেছে। নাটকটি প্রচারের পর দর্শকদের মাঝ থেকেও আমি দারুণ সাড়া পেয়েছি। মাঝে এনটিভিতে প্রচার শেষ হয়েছে আমার অভিনীত ‘জলরঙ’ শিরোনামের একটি ধারাবাহিক। এটি রচনা ও পরিচালনা করেন সোহেল আরমান ভাই। আমার চরিত্রটি ছিল ষাট দশকের একটি মেয়ের। কাজটি করে আমার খুবই ভালো লেগেছে। এই কাজটি করতে গিয়ে আমি অনেক কিছুই শিখেছি।

সেটা কীরকম?
এখন হয় কী, বেশির ভাগ নাটকের ক্ষেত্রেই কোনো রকমে কাজটি করে আসা। কিন্তু এই ধারাবাহিকের কাজের ক্ষেত্রে তেমনটি ছিল না। পরিচালকের একটি পরিকল্পনা ছিল ভালো কাজের। যেমন নাটকের একটি সংলাপকেই যে কতভাবে বলা যায়, সেটা পরিচালক আমাদের শিখিয়ে দিতেন। চরিত্রটাকে নিজের ভেতর লালন পালন করে আমরা কাজ করেছি। একটি টেক প্রয়োজনে দশবার বা তারও বেশি হলেও কারো কোনো ক্লান্তি ছিল না। ইউনিটের সবাই ভালো আউটপুট বের করে আনার চেষ্টায় মরিয়া ছিল। পরিচালক প্রতিটি দৃশ্য ধরে ধরে টেক করেছেন। এমনটি সাধারণত এখন দেখা যায় না। তবে পরিচালকদের কেউ কেউ ভালো কাজের চেষ্টা করেন। এই মুহূর্তে ফেরদৌস হাসান রানা ভাইয়ের কথা মনে পড়ছে। তার সঙ্গে কাজের বেলায় আমরা এমন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকি। তবে বেশির ভাগ কাজের সময়ই আমরা স্ক্রিপ্ট পাই না।

স্ক্রিপ্ট না পেয়ে কাজ করতে কষ্ট হয় না?
সেটা তো হয়ই। আপনারা অনেকেই জানেন যে, আমি ইংলিশ মিডিয়ামে পড়–য়া মেয়ে। এখনো খুব ভালো করে বাংলা ভাষাটা আমি আয়ত্ত করতে পারিনি। যদি আগে থেকে স্ক্রিপ্ট না পাই, তাহলে শুটিং সেটে গিয়ে আমার পক্ষে শতভাগ ভালো কাজ করা কঠিন হয়ে ওঠে।
যদি এমন হতো যে, এক সপ্তাহ আগে আমি স্ক্রিপ্ট পেলাম, এতে করে আমি নাটকের পুরো গল্প ও আমার অভিনীতব্য চরিত্রের সাথে বোঝাপড়ার একটা সুযোগ পাবো। নিজের মতো করে সুন্দর একটি চরিত্র দাঁড় করাতে পারবো। কিন্তু এটা সচরাচর ঘটে না। স্ক্রিপ্ট ছাড়া কাজ করতে কষ্ট হয়।

এখন (গতকাল দুপুর) কোন নাটকের শুটিং করছেন?
এখন আমি কাজ করছি একটি ধারাবাহিকের। এটি রচনা ও পরিচালনা করছেন অভিনেতা ও নাট্যকার রওনক হাসান। নাটকের শিরোনাম ‘বিবাহ হবে’। পরিচালকের এটি প্রথম ধারাবাহিক। এতে আমি প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহের ভাষায় অভিনয় করছি। আর ভাষার কারণে কাজটি করতে একটু কষ্ট হচ্ছে। নাটকে আমার চরিত্রটি মজার। আমি যাকে দেখি তাকেই বিয়ে করতে চাই। কাজটি উপভোগ করছি।

গ্রামীণ চরিত্রে আপনাকে একটু কমই দেখা যায়। এর কারণ কী?
আসলে এই ধারার কাজ আমার খুব বেশি ভালো লাগে না, এরপরও করি। তবে যখন কাজ করি, সেটা শতভাগ মনোযোগ দিয়েই করি। কিন্তু আমি বেশি উপভোগ করি ভালোবাসার গল্পের নাটকে কাজ করতে। এই ধারার কাজ আমাকে বেশি টানে।

এরইমধ্যে তো দুটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন। তাই না?
হ্যাঁ, এর একটি আরএফএল বাকেটের, অন্যটি হৃদিশা বিস্কুটের। আরএফএল বাকেটের বিজ্ঞাপনচিত্রটির নির্দেশনা দিয়েছেন সালাউদ্দিন। আর হৃদিশা বিস্কুটের কাজটি পরিচালনা করেছেন কলকাতার সনক মিত্র। আরএফএল বাকেটের বিজ্ঞাপনচিত্রটিতে কাজ করে আমি খুবই মজা পেয়েছি। এটি গল্পনির্ভর একটি কাজ। এতে আমার চরিত্রের নাম ফুলবানু। হাসির একটি গল্পে বিজ্ঞাপনচিত্রটি নির্মিত হয়েছে। আমি কাজটি নিয়ে অনেক আশাবাদী।

আপনি তো নাচের মেয়ে। এই নাচ অভিনয়ে কতটা ভূমিকা রেখেছে?
নাচ আমাকে অভিনয়ে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে। নাচের মেয়ে বলে সহজেই বিভিন্ন চরিত্রের এক্সপ্রেশন দিতে পারি। এ কারণে যেসব পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করি, তারা আমাকে গুরুত্ব দেন। এরমধ্যে অন্যতম নির্মাতা ফেরদৌস হাসান।

চলচ্চিত্রে কাজের প্রস্তাব তো অনেক পাচ্ছেন। এই মাধ্যমে দেখছি না যে?
অভিনয়ের সবচেয়ে বড় ক্যানভাস চলচ্চিত্র। এরইমধ্যে অনেক অফার পেয়েছি এই ধারায় কাজের। কিন্তু আমি সাহস করে উঠতে পারছি না। একটু ভয় ভয় লাগে। আমি মনে করি, এই মাধ্যমে কাজের জন্য শারীরিক ও মানুসিকসহ নানা প্রস্তুতি দরকার। আমি সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। চলচ্চিত্রে কাজের কথা হচ্ছে কারো কারো সাথে। আমি যদি নিজের মনের মতো সবকিছু পাই, তাহলেই কাজ করবো। তবে গতানুগতিক কাজের ইচ্ছে নেই। ভিন্ন কিছু হলে আমি এই মাধ্যমে আসতে চাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত