শিরোনাম

দুই নৌকায় পা দিতে চাই না

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:০১, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

নাচ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা শিরীন শিলা এখন দেশীয় চলচ্চিত্রের সম্ভাবনাময়ী একজন নায়িকা। এরইমধ্যে তার অভিনীত কয়েকটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। কাজ করছেন হাফ ডজন ছবিতে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিব হোসেন

প্রথমেই আনন্দের গল্প দিয়ে আলোচনা শুরু করি, সম্প্রতি আপনার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশিত হয়েছে। আপনি এতে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছেন। অনুভূতি কেমন?
আমি অনেক অনেক খুশি। এই আনন্দ প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। এ রকম রেজাল্ট আমি আশা করিনি। এমনিতে আমাদের সিনেমার নায়িকাদের নিয়ে সাধারণের মাঝে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে যে, আমরা পড়াশোনা করি না। আমরা শুধুই নাচ গান নিয়েই পড়ে থাকি। আমি এই অপবাদ ঘোচাতে চেয়েছিলাম। এজন্যই পড়াশোনার প্রতি আমার গভীর মনোযোগ ছিল। অনেকেই মনে করেন, নায়িকারা অশিক্ষিত। কিন্তু এখন এই মাধ্যমে আমরা অনেকেই কাজ করছি, যারা পড়াশোনা জানা, আমরা আধুনিক।

এরইমধ্যে কোন কোন ছবির কাজ শেষ করেছেন?
কাজ শেষ হওয়া ও কাজ চলতি ছবির মধ্যে রয়েছে-ছটকু আহমেদের ‘এক কোটি টাকা’, সাদেক সিদ্দিকীর ‘সাহসী যোদ্ধা’, মোঃ আসলামের ‘আমার সিদ্ধান্ত’, মনতাজুর রহমান আকবরের ‘সরি’ ও রাজু চৌধুরীর ‘এক মিনিট’। প্রতিটি ছবির গল্পই আলাদা আলাদা। একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো মিল নেই।

আপনার চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল কীরকম স্বপ্ন নিয়ে?
সত্যি বলতে কী, চলচ্চিত্রের শুরুতে এই মাধ্যমে কাজ করা নিয়ে আমার কোনো স্বপ্নই ছিল না। আমি শখের বশেই এখানে কাজ করতে এসেছি। প্রথম দিকে আমি চেয়েছিলাম বড়পর্দায় নিজেকে দেখতে। প্রফেশনালি কাজ করার কোনো ইচ্ছেই আমার ছিল না। জনপ্রিয় নায়িকা হবো এই ভাবনাও আমার মাথায় আসেনি। কিন্তু আমার প্রথম ছবি ‘হিটম্যান’ রিলিজ হওয়ার পর দর্শকরা আমাকে যেভাবে গ্রহণ করেছে, সেটা দেখে এই মাধ্যমে কাজ করা নিয়ে আমার ভাবনার বদল হয়েছে। এরইমধ্যে আমার অভিনীত আরও কয়েকটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এখন আমি চলচ্চিত্রে কাজ করা নিয়ে নতুন করে ভাবছি। আমি আরও ভালো ভালো কাজ করতে চাই। এখন দেশীয় চলচ্চিত্রের নাম্বার ওয়ান নায়িকা হওয়ারও স্বপ্ন দেখি। পাশাপাশি আমি পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে চাই। মাস্টার্স কমপ্লিট করার পর পড়াশোনার পরিধি আরও বাড়াতে চাই।

দেশীয় নায়িকাদের মধ্যে আপনি কী কাউকে আইডল বা আইকন মনে করেন?
আমি আমার আইকন হিসেবে শাবনূর আপুকে চিন্তা করি। তার অভিনয় দক্ষতা থেকে শুরু করে মানুষের সঙ্গে মেশা, মানুষকে আপন করে নেওয়ার অদ্ভুত এক ক্ষমতা তার মধ্যে রয়েছে। তিনি মানুষকে ভালোবাসতে জানেন। সবমিলিয়ে তাকে আমার অনেক ভালো লাগে।
শাবনূরের কোন কোন ছবি দেখেছেন?
তার অভিনীত অনেক ছবি আমি দেখেছি। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে, জীবন সংসার ও আনন্দঅশ্রু ছবির কথা। শাবনূর আপুর অভিনয় আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

দুই তিনটি টিভি নাটকে আপনাকে দেখা গিয়েছিল। ছোটপর্দায় ফেরার ইচ্ছে আছে কি?
না, টিভি নাটকে কাজের কোনো ইচ্ছে আমার নেই। বর্তমানে বড়পর্দায় আমার যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, সেটা ফেলে আমি টিভিতে যেতে চাই না। কারণ দুই নৌকায় পা দিতে চাই না। এতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত ঈদের আগে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের সঙ্গে একটি মিউজিক ভিডিওতে আপনাকে দেখা যায়। এই কাজের দর্শকসাড়া কেমন ছিল?
কাজটির জন্য আমি দর্শক মহল থেকে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। এই মিউজিক ভিডিওটি নির্মিত হয়েছে গতানুগতিক ধারার বাইরে। এর পরিচালক সৈকত নাসির বড় বড় বাজেটের ছবি নির্মাণ করেছেন। কোরিওগ্রাফার এবং প্রযোজকও আমাদের চলচ্চিত্রের মানুষ। তাই কাজটি অন্যরকম ছিল। গানের কথাগুলোও ছিল অসম্ভব ভালো। আমার খুবই ভালো লেগেছে। গানটি একটি মেয়েকে উপজীব্য করে।

দুই বছর ধরে নতুন কোনো বিজ্ঞাপনচিত্রে আপনাকে দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ কী?
আসলে এই সময়ের মধ্যে আমার কাছে ভালো কোনো প্রস্তাব আসেনি। যেগুলোর অফার পেয়েছিলাম, তাতে কোনো নতুনত্ব ছিল না। ফলে কাজ করা হয়ে ওঠেনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত