শিরোনাম

অভিনয়ে ফিরতে চান জাভেদ

প্রিন্ট সংস্করণ॥বিনোদন প্রতিবেদক  |  ১০:৩৪, এপ্রিল ১৬, ২০১৮

ভালো কাহিনী ও চরিত্র পেলে এখনো অভিনয়ে ফিরতে চান শক্তিমান অভিনেতা ও নৃত্যপরিচালক জাভেদ। তিনি বলেন, ‘আমি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি বলেই এ দেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমি নিজেকে চলচ্চিত্রের মানুষ ভাবতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কিন্তু অনেকদিন ধরেই আমি ভালো গল্পের কোনো চলচ্চিত্রে কাজের প্রস্তাব পাচ্ছি না। ভালো গল্প এবং চরিত্র পেলে অবশ্যই আমি অভিনয়ে ফিরতে চাই। অভিনয় আমার অনেক ভালোলাগা ও ভালোবাসার জায়গা।’ এ দেশের চলচ্চিত্রে একসময়ের পর্দা কাঁপানো নায়ক জাভেদ এখন অনেকটাই অবসর সময় পার করছেন। অন্য নায়কদের চেয়ে তিনি অনেকটা আলাদা। ঢাকাই ছবির নায়কদের অনেকে শুধু নিজের চরিত্রে অভিনয় করেই চলচ্চিত্রে অবদান রেখেছেন, কিন্তু জাভেদ নায়ক চরিত্রের বাইরে নৃত্যপরিচালক হিসেবে কাজ করেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তিনি একের ভিতরে দুই।
জাভেদ জানিয়েছেন, অভিনয়ের পাশাপাশি সুযোগ হলে ফের তিনি নৃত্যপরিচালক হিসেবেও কাজ করতে চান। একজন নায়ক যখন নাচে বিশেষভাবে পারদর্শী থাকেন, তখন অভিনয়ের পাশাপাশি তার নাচও মুগ্ধ করে দর্শকদের। জাভেদও তা-ই করেছেন। এখনো স্টেজ শোতে পারফর্ম করেন কিংবদন্তি এই নায়ক ও নৃত্যপরিচালক। জাভেদ বলেন, ‘ভালো স্টেজ শোর প্রস্তাব এলে আমি পারফর্ম করার চেষ্টা করি।’ জাভেদ প্রযোজিত একমাত্র চলচ্চিত্র ‘বাহরাম বাদশা’। তার আসল নাম ইলিয়াস জাভেদ। জন্ম ১৯৪৪ সালে। জাভেদের বাবা রাজা মোহাম্মদ আফজাল ছিলেন ধর্মপরায়ণ। তিনি চাইতেন ছেলে ব্যবসায়ী হবে, নয়তো চাকরি করবে। কিন্তু জাভেদের সেদিকে আদৌ মন ছিল না। কীভাবে অভিনেতা হওয়া যাবে এ নিয়েই তিনি ভাবতেন। সিনেমা দেখা, গান শোনাতেই মগ্ন ছিলেন জাভেদ। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ছিলো উর্দু ‘নয়া জিন্দেগি’। কিন্তু এটি মুক্তি পায়নি। উর্দু চলচ্চিত্র ‘পায়েল’-এ (১৯৬৬) অভিনয়ের পরই জাভেদের নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছবিতে নাচে-গানে মাতোয়ারা হয়ে জাভেদ অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন। এতে তার সঙ্গে ছিলেন শাবানা। প্রথমদিকে জাভেদের দারুণ সুনাম ছিল নৃত্যপরিচালক হিসেবে। ১৯৭৪ সালের পর থেকে তিনি ঢাকাই ছবির অভিনয়ে আবার ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। নায়ক হিসেবে একের পর এক ছবিতে কাজ করেন তিনি।
জাভেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে-মালকা বানু, অনেক দিন আগে, শাহাজাদা, রাজকুমারী চন্দ্রবান, সুলতানা ডাকু, আজো ভুলিনি, কাজল রেখা, সাহেব বিবি গোলাম, নিশান, বিজয়িনী সোনাভান, রূপের রানী, চোরের রাজা, তাজ ও তলোয়ার, নরমগরম, তিন বাহাদুর, জালিম, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, রাজিয়া সুলতানা, সতী কমলা, বাহারাম বাদশা, আলাদিন আলী বাবা ও সিন্দাবাদ। অভিনয়ের পাশাপাশি এসব ছবিতে নৃত্যপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছিলেন জাভেদ। এ পর্যন্ত দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই গুণী অভিনেতা।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত