শিরোনাম

রাজমিস্ত্রী ইজাজুল এখন শাকিব খান!

প্রিন্ট সংস্করণ॥ রকিব হোসেন  |  ০২:৩৮, অক্টোবর ০১, ২০১৭

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার রাজমিস্ত্রী মো. ইজাজুল মিয়া এখন শাকিব খান! গত ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘রাজনীতি’ ছবিতে অনুমতিবিহীন তার নাম্বারটি ব্যবহার করেন ছবির পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস। এর একটি গানের শেষে শাকিব খানকে জড়িয়ে ধরে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘এভাবে বারবার আমি আর কোনোদিন আমায় ছেড়ে চলে যেতে দিব না আমার স্বপ্নের রাজকুমার।’ জবাবে শাকিব খান বলেন, ‘আমিও তোমাকে ছেড়ে যাব না আমার রাজকুমারী।’ তখন অপু ফের বলেন, ‘আমার ফেসবুক আইডি যে রাজকুমারী, তুমি জানলে কী করে?’ শাকিব আবার বলেন, ‘যেভাবে তুমি জানো আমার মোবাইল নাম্বার ০১৭১৫...।’

ছবিটি রিলিজের পর থেকেই শাকিব খান মনে করে ইজাজুলকে ফোনের পর ফোন দিতে শুরু করেন শাকিবভক্তরা। এরমধ্যে নারীভক্তদের কলই বেশি আসছে ইজাজুলের কাছে। গড়ে প্রতিদিন পাঁচশ থেকে ছয়শ কল আসে ইজাজুলের কাছে। যতই তিনি নিজেকে রাজমিস্ত্রী পরিচয় দিচ্ছেন, তাতে কাজ হচ্ছে না। শাকিবভক্তরা তাকে সত্যি সত্যিই শাকিব খান মনে করছেন। প্রতিদিন এত এত ফোন কল আসায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে ইজাজুলের। তিনি এখন চরম বিরক্ত! শাকিব খানের নারীভক্তদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিবাহিত এই যুবক। এরইমধ্যে এক কিশোরী তাকে শাকিব ভেবে তার সঙ্গে দেখাও করেছে।

এদিকে রাজনীতি ছবির পাইরেটেড কপি ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ায় সহজেই তা ডাউনলোড করছেন শাকিবভক্তরা। ফলে মোবাইল থেকে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে রাজনীতি। আর তাতে ইজাজুলের কাছে কল আসার মাত্রাও আগের চেয়ে বেড়ে যাচ্ছে। তবে মোবাইল নাম্বারটি বিশেষ একজন মানুষের দেওয়া বলে তা পাল্টাতেও পারছেন না ইজাজুল। কেনো এই বিড়ম্বনা? কোনো পরিচালকের তো অধিকার নেই কারো অনুমতি ছাড়া তার নাম্বারটি ছবিতে ব্যবহার করে তাকে যন্ত্রণা দেওয়ার।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলাম খ্যাতিমান চিত্রপরিচালক ও গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের সঙ্গে। তিনি বলেন, কোনো ছবিতে যদি কারো মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করতে হয়, প্রথমেই তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। আর সেটা হতে হবে লিখিত। যদি তা না করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কারো নাম্বার ব্যবহার করা হয়, সেটা এক ধরনের চিটিং, এটা ক্রাইম। কারণ শাকিব খানের অসংখ্য ভক্ত রয়েছে এ দেশে। কোনো ছবিতে তার নাম্বার হিসেবে যেটা ব্যবহার করা হবে, তাতে হাজার হাজার কল আসাটাই স্বাভাবিক। পরিচালক কারো নাম্বার ব্যবহারের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল হতে পারতেন। পুরো ডিজিট না বলে দু-একটি কম বলে যেতে পারতেন। সেটা না করে যদি তার উদ্দেশ্যই থাকে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার, তবে সেটা সঠিক না। আমি ছবিতে যার নাম্বারটি ব্যবহার করছি, তাকে তো বিষয়টি অবগত করতে হবে। তা না করে কারো নাম্বার ব্যবহার করে তাকে ভোগান্তিতে ফেলা অন্যায়। কারণ টেলিফোন তো একটি সাংঘাতিক বিষয়।’

চিত্রপরিচালক সোহানুর রহমান সোহান বলেন, এ ধরনের কাজ কোনো পরিচালকেরই করা উচিত নয়। কারণ একজন পরিচালকও তো অন্য পরিচালকের দর্শক হতে পারেন। তার মানে কী তিনি চাইলেও অন্যের নাম্বারটা এভাবে দিতে পারেন? আসলে ছবির প্রয়োজনে নাম্বার ব্যবহার করার তো অনেক সিস্টেম রয়েছে। সেটা করলেই ভালো হয়। পরিচালক চাইলে শেষের পাঁচটি ডিজিট বলে পরেরটা নাও বলাতে পারতেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এভাবেই কাজ হয়। আর যদি তিনি পুরো নাম্বারটিই ব্যবহার করতে চান, সেক্ষেত্রে তিনি নিজে নতুন একটি সিম কিনে ব্যবহার করতে পারতেন। সেটা তারই থাকতো। পরে তিনি হয় তা ব্যবহার করতেন, নয়তো বন্ধ করে রাখতেন। তা না করে কাউকে বিড়ম্বনায় ফেলা উচিত নয়।’

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোনো তারকার নামে এভাবে সাধারণের নাম্বার ব্যবহার করলে সেই তারকারও ইমেজ নষ্ট হয়। পাশাপাশি একজন পুরুষ তারকার অনেক নারী ভক্ত রয়েছে। অপরিচিত বা সাধারণের নাম্বার তারকার নামে ব্যবহার করার ফলে নারী ভক্তরা ফোন করে তারকার সাথে দেখা করতে গিয়ে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

এমন প্রসঙ্গ নিয়ে আরও কথা হয় রাজনীতি ছবির পরিচালক বুলবুল বিশ্বাসের সাথে। তিনি বলেন, আমি আমার ছবিতে এই নাম্বারটি ব্যবহার করার আগে বারবার যাচাই করে দেখেছি যে, নাম্বারটি সচল নয়। তাই এটি আমার ছবিতে কাজে লাগিয়েছি। যদি নাম্বারটি কেউ ব্যবহার করছেন জানতাম, তাহলে আমি তা এভাবে ব্যবহার করতাম না। আসলে এটা ভুলবশত হয়ে গেছে। শুটিংয়ের সময় আমার সহকারী এই নাম্বারটি দিয়েছিল, আমিও ব্যবহার করে ফেলেছি। এটা আসলে অনাকাক্সিক্ষত ভুল।’ শুনেছি ভুক্তভোগী আপনার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তখন আপনি কী করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বুলবুল বিশ্বাস বলেন, আমি আসলে তাকে বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি। এরপরও যদি তিনি মামলায় যান, তখন আমি আইনিভাবেই তা মোকাবিলা করবো।

 

আরও পড়ুন:- শাকিবভক্ত এক গৃহকর্মীর কাণ্ড<

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত