শিরোনাম

বলিউডের লড়াইটা রক্তের না যোগ্যতার?

ইবনে আযাদ  |  ২০:১৪, জুন ১৬, ২০১৯

অন্যায় বা অনৈতিকভাবে নিজের কোন আত্মীয়কে বা রক্তসম্পর্কীয় কাউকে সমর্থন দেয়াকে বলে নেপোটিজম। প্রথম কথা কথা হলো, এই শব্দের সাথে আমি একমত না। কারণ সিনেমার পরিসরে ব্যবসায়িক চিন্তায় অন্যায় বা অনৈতিক টার্মটাই আপেক্ষিক।

মনে করেন কারো বাবা বা ভাই ছবি প্রোডিউস করবে। তো কাকে সেই ছবিতে অভিনয় করতে দেবে আর কাকে দেবে না, এটা তো তার একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। এখানে অন্যায়ের প্রশ্ন আসে কোত্থেকে। এ তো গেলো কমার্শিয়াল দিক। এবার রিয়ালিটি দেখেন।

বলিউডের নেপোটিজম মানেই তো রনবির, বরুণ ধাওণ, টাইগার শ্রফ, আলিয়া ভাট; এদের কথাই তো আসে? সাথে ইদানিংকার সারা, জাহ্নবী আর অনন্যা। মানে মোটামুটি অর্থে বললাম। অথচ এদের বাইরে দেখেন এদের পাশাপাশি কত বড় বড় নাম বলিউডে যোগ হয়েছে এবং হচ্ছে।

নাওয়াজুদ্দীন, রনভীর সিং, রাজকুমার রাও, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, সুশান্ত সিং রাজপূত, আরো অনেক। তো নেপোটিজমের জয়জয়কারই যদি থাকত, এরা কিভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করল?

বলা হয় স্টারকিড বা ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাকআপ থাকার কারণে অনেক অমেধাবী অভিনেতাও পার পেয়ে যায়৷ আমার প্রশ্ন ইমরান খানের মতো মেধাবী আর কিউট একজন অভিনেতা আমির খানের মতো এতো বড় একটা ব্যাকআপ থাকার পরও কেন ব্যর্থ হলো?

আমার কথাটা খুব ক্লিয়ার, স্টারকিড বা ব্যাকআপ বলে কিছু হয় না৷ বড়জোর শুরুটা স্মুথলি করার সুযোগ পাওয়া যায়। আর এটাকে যদি আপনি বলেন অন্যায়, তাহলে পৃথিবীর অনেক কিছুই অন্যায় হয়ে যায়৷ আপনি বাংলাদেশের আইন দেখেন, পিতা সরকারি চাকরিতে থাকলে সেখানে ছেলে অটো চয়েজ হিসেবে জয়েন করে। এটা অন্যায় না, পিতার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের সামান্য বিনিময় ছেলেকে দিয়ে দেয়া হয়।

শুধু সরকারি না, সব প্রতিষ্ঠানের একটা সাধারণ নিয়মই এমন। আর সিনেমায় তো এতটাও হয় না , কাজের সুবাদে সবাই পরিচিত থাকে, তার জন্য সূচনায় তাদের ঝামেলাটা কম হয়। তারপরের লড়াইটা তো সবাইকে যোগ্যতা দিয়েই করতে হয়।

আপনি দেখেন রনভীর সিং আর অর্জুন কাপুর একসাথে ক্যারিয়ার শুরু করছিল। কিন্তু অর্জুন প্রায় নিঃশেষ। আর সিং সাবের জয়জয়কার। এখানে আপনার নেপোটিজম তত্ত্ব কোথায় গেলো? আবার দেখেন আলিয়া ভাটের একসময়ের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ধরা হত পরিনিতী চোপড়াকে। দুজনেই আপনাদের ভাষায় নেপোটিজমের ফসল। অথচ আলিয়ার অবস্থান এখন কোথায়৷ তো পরিনীতি কেন পিছিয়ে? কারণ তার সেই ক্লাস নাই যা আলিয়ার আছে৷ এটাই সব থেকে বড় কথা।

শেষ একটা কথা বলে লেখার ইতি টানবো৷ আপনারা যারা নেপোটিজম নেপোটিজম বলেন সারাদিন, আপনারা কি নেপোটিজম বলতে শুধু বর্তমান সময়কেই বোঝেন? মানে যারা ইদানীং বা একটু আগে সিনেমায় আসছে তাদের মধ্যেই কি এই সমস্যা বিদ্যমান? এমন ভেবে থাকলে আপনি বোকার স্বর্গে আছেন। আপনারা একবার নিচের তালিকাটা দেখেন।

১. সাইফ আলী খান। মাতা শর্মীলা ঠাকুর। সত্তুরের অন্যতম গ্ল্যামারগার্ল অভিনেত্রী। পিতা মনসুর আলী খান পতৌদি ছিলেন ক্রিকেটার। তৎকালীন ইন্ডিয়ান টিমের ক্যাপ্টেন। অনেকটা কোহলি আর আনুষ্কার মতই।

২. সঞ্জয় দত্ত। পিতা সুনীল দত্ত। একাধারে অভিনেতা, পরিচালক এবং রাজনীতিবিদ। আর মাতা বিখ্যাত অভিনেত্রী নার্গিস।

৩. অজয় দেবগন। পিতা নব্বইয়ের অন্যতম পরিচালক বীরু দেবগন।

৪. হৃত্তিক রোশন। পিতা রাকেশ রোশন। নামকরা পরিচালক, প্রযোজক।

৫. আমির খান। পিতা তাহির হুসাইন, একাধারে প্রযোজক এবং পরিচালক।

৬. সালমান খান। পিতা সেলিম খান, বলিউডের কিংবদন্তি স্ক্রিপ্ট রাইটার বলা হয় যাকে।

৭. কারিশমা কাপুর এবং কারিনা কাপুর। পিতা রনধীর কাপুর ছিলেন অভিনেতা৷ তাছাড়া কাপুর ফ্যামিলির ব্যাপার তো সবারই জানা।

৮. রানী মুখার্জি। পিতা বিখ্যাত রাম মুখার্জি৷ পেশায় ছিলেন পরিচালক।

৯. কাজল। পিতা সমু মুখার্জি ছিলেন নামকরা ডিরেক্টর। আর মাতা তনুজা মুখার্জি অভিনেত্রী

এই যে তালিকা দেখছেন, নেপোটিজমের কথা উঠলে তো এদের কথা কখনোই বলেন না আপনারা। অথচ আপনাদের যে নেপোটিজম তত্ত্ব, তাতে এদের প্রত্যেকেই সেই আওতায় পড়ে৷

নেপোটিজমের ব্যাপারে আমার বলবার কথা এটাই, লড়াইটা যোগ্যতা দিয়েই সবাই করে, পরিবার করে দেয় না।

এসএস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত