শিরোনাম

ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন ফেরদৌস

বিনোদন প্রতিবেদক  |  ২০:২৪, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

ভারতে লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে এক প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় নায়ক ফেরদৌস আহমেদ। স্বীকার করেছেন, এক দেশের নাগরিক হয়ে অন্য দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়া তার ভুল হয়েছে। এজন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে অন্য একটি দেশের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ কোনোভাবেই উচিত নয়। আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।বুধবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠিয়ে নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চান তিনি।

ফেরদৌসের পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হলো
আমি চিত্রনায়ক ফেরদৌস। অভিনয় শিল্প আমার একমাত্র নেশা ও পেশা। অভিনয় শিল্পের মাধ্যমে বাংলা ভাষাভাষী সকলের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরিতে সর্বদা কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার ভাবতে ভালো লাগে, আমি দুই বাংলায় সমানভাবে জনপ্রিয়। দুই বঙ্গের মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনাচারে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। আবার ভারত বহু কৃষ্টি-কালচারের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ একটি দেশ।

১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ হিসাবে ভারতের অবদান আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। পাশাপাশি ভারতের জনগণের ত্যাগ-তিতিক্ষা আমাদের চিরঋণী করে রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে আমার সম্পর্ক বহুদিনের। এখানের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক শিল্পী, সাহিত্যিক আমার বন্ধু। যাদের সাথে আমি সবসময়ে হৃদ্যতা অনুভব করি। এজন্য বিভিন্ন সময় কারণে অকারণে আমি এখানে চলে আসি।

ভারতে জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের এই নির্বাচন পূর্বের মতো সারাবিশ্বে সাড়া ফেলেছে। এই সময়ে আমি ভারতে অবস্থান করছিলাম। সকলের মতো আমারও আগ্রহের জায়গায় ছিল এই নির্বাচন। ফলে ভাবাবেগে তাড়িত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের একটি নির্বাচনি প্রচারণায় আমি আমার সহকর্মীদের সাথে অংশগ্রহণ করি। এটা পূর্ব পরিকল্পনার কোনও অংশ ছিল না।

শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে আমি অংশগ্রহণ করেছি। কারও প্রতি বিশেষ আনুগত্য প্রদর্শন বা কোনো বিশেষ দলের প্রচারণার লক্ষ্যে নয়, আবার কারও প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। ভারতের সকল রাজনৈতিক দল এবং নেতার প্রতি আমার সম্মান রয়েছে। আমি ভারতের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

আমি আগেও বলেছি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রতি আমার ভালোবাসা অগাধ। সেই ভালোবাসা আমাকে আবেগ তাড়িত করেছে। আমি বুঝতে পেরেছি, আবেগের বশবর্তী হয়ে সহকর্মীদের সাথে এই নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ করাটা আমার ভুল ছিল। যেটা থেকে অনেক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং অনেকে ভুলভাবে নিয়েছেন।

আমি স্বাধীন বাংলাদেশের একজন নাগরিক। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে অন্য একটি দেশের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ কোনোভাবেই উচিত নয়। আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট সকলে আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

প্রসঙ্গত, ফেরদৌস ভোটের প্রচারে গিয়েছিলেন রায়গঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কানহাইয়ালাল আগরওয়ালের পক্ষে। তাতে আপত্তি জানায় ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা অভিযোগ জানায়। এরপরই ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। বিজেপি সরকার চেয়েছিল নায়ক ফেরদৌসকে গ্রেপ্তার করা হোক। কিন্তু বাংলাদেশ হাইকমিশনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তার আগেই দেশে ফিরে এসেছেন ফেরদৌস।

কলকাতায় গিয়ে পয়লা বৈশাখের দিনে কানহাইয়ালালের সমর্থনে রোড শো এবং সভা করেন ফেরদৌস। তার জন্য ভোটও চান। এই প্রচার পর্বে তার সঙ্গে ছিলেন কলকাতার দুই তারকা অঙ্কুশ হাজরা ও পায়েল মুখার্জী। সোমবারও করণদিঘী থেকে বেঙ্গল টু বেঙ্গল রোড ধরে ইসলামপুর পর্যন্ত দাঁপিয়ে বেড়ান এই তিন তারকা।

তারপরই বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানায় বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতার কোটাতে ফেরদৌস তাদের দেশে ভোটের প্রচারে নেমেছেন বলে মন্তব্য করে গেরুয়া শিবির। এতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। যদিও নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধিতে এমন কিছু আছে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

এছাড়া যে প্রার্থীর পক্ষে ফেরদৌস ভোটের প্রচারে গিয়েছিলেন, সেই কানাইয়ালাল আগরওয়াল নাকি জানেনই না যে বাংলাদেশ থেকে একজন নামকরা অভিনেতা এসে তার সমর্থনে এখানে ওখানে ছুটে বেড়াচ্ছেন, ভোট চাচ্ছেন। গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেন।

অথচ গত রোববার তার নির্বাচনী এজেন্ট মোশারফ হোসেন বলেছিলেন, ‘কোনো তারকা প্রচারে আসবেন কী আসবেন না সেটা ঠিক হয় রাজ্য থেকে। ফেরদৌস বাংলাদেশের নায়ক হলেও কলকাতায়ও তিনি ভীষণ জনপ্রিয়। ভোটের প্রচারে একটা ভিন্ন স্বাদ দেয়ার জন্যই তাকে ডেকে আনা হয়েছে।’

ফেরদৌসের অংশগ্রহণের পর তীব্র প্রতিবাদ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘তৃণমূল তো বিদেশি তারকা এনে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে। এ ধরনের ঘটনা এর আগে দেখিনি। কাল হয়তো ইমরান খানকে প্রচারে ডাকবে তৃণমূল।’

তিনি আরও প্রশ্ন তুলেন, ‘এভাবে ভারতের একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি তারকা আসতে পারেন? তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইন মানেন না। ভোট কম পড়লে রোহিঙ্গাদের ডেকে আনবেন। কাল হয়তো ইমরান খানকে তৃণমূলের প্রচারে ডাকবেন। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই।’

তবে এর পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন তৃণমূলের নেতা মদন মিত্র। তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অকৃত্রিম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তাই এটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে হয়েছে। এর জন্য নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো প্রশ্ন নেই।’

এদিকে, ওই প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেয়ায় ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে ভারত সরকার। এ জন্য দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত