শিরোনাম

ছয় জেলায় বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু

০০:২৮, জুন ২০, ২০১৭

ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, পটুয়াখালী, মাগুরা, মানিকগঞ্জ ও ঝালকাঠিতে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন অনেকে। সোমবার দিনের বিভিন্ন সময় এসব বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ফরিদপুরে মা-ছেলেসহ সাতজন, কুষ্টিয়ায় একজন, পটুয়াখালীতে একজন, মাগুরায় দুজন, মানিকগঞ্জে একজন ও ঝালকাঠিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

ফরিদপুর : ফরিদপুর সদর, সালথা, চরভদ্রাসন ও বোয়ালমারী উপজেলায় বজ্রপাতে মা ও ছেলেসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামে বজ্রপাতে মৃত দবিরউদ্দীন মোল্লার প্রতিবন্ধী মেয়ে সেলিনা বেগম (৩৫), সেলিনার ছেলে হেলাল মোল্লা (১৩) ও একই গ্রামের রহমান খানের ছেলে মিলন খান (৩৩) মারা যান। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আমিনুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ছমির ব্যাপারীর ফসলি মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কাবেল বিশ্বাস (৪০) নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। কাবেল কুষ্টিয়ার হাটখোলা গ্রামের বাদল বিশ্বাসের ছেলে। হরিরামপুর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিল্লাল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর খেয়াঘাটে বজ্রপাতে মারা যান দিনমজুর মো. ওমর (৪৫)। তিনি নাটোর জেলার মো. আনসারের ছেলে। সত্যতা নিশ্চিত করে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান বলেন, দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে কয়েকজন শ্রমিক খেয়াঘাটে একটি ছাপরায় আশ্রয় নেন। ওই ছাপরায় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওমর।

জেলার বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে বজ্রপাতে মসজিদের ইমামসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন বাজিতপুর মোল্লাপাড়া জামে মসজিদের ইমাম আওয়াল ফকির (৪৮) ও একই গ্রামের আবদুল মালেক মোল্লার ছেলে ফরহাদ মোল্লা (৩৫)।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বজ্রপাতে বাদশা (১৮) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। আজ সোমবার সকালে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাদশার ভাই রাজাসহ (১৬) আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

পটুয়াখালী : জেলার দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে বজ্রপাতে মাদ্রাসাশিক্ষক আবদুল কাদের গাজী (৪৫) মারা গেছেন। তিনি দুমকির পশ্চিম আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

দুমকি থানার ওসি দিবাকর চন্দ্র দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার দুপুরে কাদের গাজী নিজ বাড়িতে গোসল করার সময় বজ্রপাতে হলে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মাগুরা : মাগুরা সদর উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষক মারা গেছেন। তাঁরা হলেন মঘির ঢাল এলাকার ওহিদ শেখের ছেলে আছাদ শেখ (৫০) ও নালিয়ারডাঙ্গী গ্রামের ঋতু জোয়ারদারের ছেলে কলমদী জোয়ারদার (৪০)। পুলিশ জানায়, আহত অবস্থায় তাঁদের মাগুরা সদর হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বরুরিয়া গ্রামে বজ্রপাতে রুহুল শেখ নামে নয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে স্থানীয় বরুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণি ছাত্র এবং একই গ্রামের আওলাদ শেখের ছেলে। আরুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জামাত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ঝালকাঠি : ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম গ্রামে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।নিহত জাকির হোসেন আকন সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের গের আলীর ছেলে। তিনি কৃষি কাজ করে জীবিকা চালাতেন। সোমবার বেলা ১টায়র দিকে বাড়ির পাশে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত