শিরোনাম

হাঁটতে পারে না সেই সুরাইয়া, নষ্ট হয়ে গেছে একটি চোখ

১২:২৭, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭

মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ মাগুরার সেই আলোচিত শিশু সুরাইয়ার স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে।

গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত তার ডান চোখ সম্পূর্ণভাবেই নষ্ট হয়ে গেছে। তার ডান হাত ও দুই পায়ে কোন শক্তি না থাকায় দেড় বছরেও সে হাঁটতে পারে না।

ঢাকায় চিকিৎসা শেষে মাগুরায় ফেরার পর সুরাইয়ার এ ধরনের অসুস্থতার কথা জানালেন তার বাবা-মা।

সুরাইয়ার মা নাজমা পারভীন জানান, অন্য শিশুরা এই বয়সে কথা বলতে শিখলেও সুরাইয়া শুধু কান্নাকাটি করা ছাড়া কথা বলতে পারে না। ডান হাত ও দুই পায়ে কোন শক্তি না থাকায় সে হাঁটতে পারে না।

সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভূইঞা বলেন, সুরাইয়ার চোখের চিকিৎসা করাতে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাংলাদেশ আই হসপিটালে গেলে সেখানকার চিকিৎসক ডা. কাজি সাব্বির আনোয়ার বলেছেন- সুরাইয়ার ডান চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। সুরাইয়ার বাম চোখটি ভাল রাখতে চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে আব্দুল মমিন ভূঞা নামের এক ব্যক্তি নিহত ও ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমা পারভীন পেটে গুলিবিদ্ধ হন।

ওই দিন রাতেই মাগুরা সদর হাসপাতালে নাজমা পারভীনকে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে গুলিবিদ্ধ কন্যাশিশুকে ভূমিষ্ঠ করান চিকিৎসকরা। পরে শিশুটির নাম রাখা হয় সুরাইয়া। মায়ের পেটে থাকতেই শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে শিশুকন্যা সুরাইয়া ও তার মাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়।

বাচ্চু ভূইঞা বললেন, ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে চিকিৎসা চলাকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুরাইয়াকে দেখতে গিয়ে বলেছিলেন, শুধু সুরাইয়ার চিকিৎসা নয়, তার ভরণ পোষণসহ সব দায়িত্বই রাষ্ট্র বহন করবে। কিন্তু হাসপাতাল ছাড়ার পর তো আর কেউ খোঁজ নিল না। এখন সুরাইয়ার চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছি।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত