শিরোনাম

সার ডিলার বাতিলের পাঁয়তারায় দামুড়হুদা উপজেলা ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক!

১১:১৫, জানুয়ারি ১২, ২০১৭

চাঁদা না পেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার আনন্দবাজার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নে সদ্য নিয়োগ পাওয়া মেসার্স শুভ ট্রেডার্স-এর মালিক মো. হাশেম রেজার সার ডিলারশিপ বাতিলের পাঁয়তারা করছেন দামুড়হুদা উপজেলা ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও দর্শনার বাসিন্দা সার ডিলার সাইফুল ইসলাম সোহেল। অথচ সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০০৯ অনুযায়ী জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশে এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবে সুক্ষ্ম যাচাই-বাছাই করে মেসার্স শুভ ট্রেডার্সের মালিক কুড়ুলগাছির স্থায়ী বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ ও ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ’র সম্পাদক মো. হাশেম রেজাকে দামুড়হুদার আনন্দবাজার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে গত ১০ জানুয়ারি নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।

এখন অন্যায়ভাবে এই নিয়োগের বিরোধিতা করছে দামুড়হুদা উপজেলা ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও মেসার্স সাইফুল ইসলাম নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক সার ডিলার সাইফুল ইসলাম সোহেল। এই পাঁয়তারার মূল কারণ তিনি মোটা অংকের চাঁদা পাননি। মেসার্স শুভ ট্রেডার্সের মালিক হাশেম রেজার কাছে সাইফুল ইসলাম সোহেল এই মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেছিলেন। কিন্তু হাশেম রেজা চাঁদা দিতে রাজি হননি এবং বিসিআইসির সকল শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করে সার ডিলার নিয়োগের আবেদন করেন এবং বিসিআইসি তার আবেদনে মুগ্ধ হয়ে সার ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। আর এই নিয়োগের পর থেকেই সাইফুল ইসলাম সোহেল জেলা ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ভুল বুঝিয়ে মেসার্স শুভ ট্রেডার্সের মালিক হাশেম রেজার সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই খবর শুনে কুড়ুলগাছি এলাকার কৃষকরা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। তারা হাশেম রেজার সার ডিলার নিয়োগ বহাল রাখতে এবং কুড়ুলগাছিতে সাইফুল ইসলামের সার বিক্রি বন্ধ করাতে গণস্বাক্ষর অভিযান শুরুর প্রস্ততি নিচ্ছেন।

গণস্বাক্ষর শেষে অভিযোগটি বিসিআইসি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেবেন। প্রয়োজনে হাশেম রেজার পক্ষে কৃষকরা আন্দোলনেও নামতে রাজি। কারণ সাইফুল ইসলাম সোহেলের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের সার ব্যবসায়ী ও কৃষকরা। তার বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নামে- বেনামে বিভিন্ন স্থানে দেদারছে সার ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্যে সার কিনে কৃষকরা হচ্ছেন সর্বস্বান্ত। তিনি নানা প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য করছেন কৃষকদের। এ অবস্থায় তার পরিবর্তে এলাকার কোনো স্থায়ী বাসিন্দাকে সার ডিলার চাচ্ছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ-বাংলাদেশ কেমিকেল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) সার ডিলার সাইফুল ইসলাম সোহেল দর্শনার পুরাতন বাজারের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পরও কুড়ুলগাছিতে একচেটিয়া সার ব্যবসা করে চরম স্বেচ্ছাচারিতা দেখাচ্ছেন।

এই সুযোগ নিতে তিনি কুড়ুলগাছির স্থায়ী কোনো বাসিন্দাকে বিসিআইসি’র সার ডিলার হতে বাধা দিচ্ছেন বিভিন্ন কৌশলে। তার বাবা নজরুল ইসলামও বিসিআইসি’র সার ডিলার এবং দর্শনার পুরান বাজারের স্থায়ী বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, সাইফুল ইসলাম সোহেলের প্রভাবের কারণে কুড়ুলগাছিতে কোনো স্থায়ী বাসিন্দা সার ডিলার না থাকার ফলে তার মেসার্স সাইফুল ইসলাম নামক প্রতিষ্ঠানটিকে সাময়িকভাবে সেখানে সার বিক্রির দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি মেসার্স সাইফুল ইসলাম নামে বিসিআইসি থেকে ডিলারশিপ নিয়ে সার ব্যবসা করছেন। আর এই ডিলারশিপকে হাতিয়ার করে এলাকার কয়েক হাজার চাষীকে ব্যবসায়ীকভাবে নিপীড়ন করে যাচ্ছেন। সার সংকটের কথা বলে বিসিআইসি’র বেঁধে দেয়া মূল্যের অতিরিক্ত দামে তাদের কাছে সার বিক্রি করছেন। এতে একদিকে কৃষকরা নিঃস্ব হচ্ছেন, অন্যদিকে বিসিআইসির সুনাম হারাচ্ছে। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কারণ বাড়তি মূল্যে সার কেনার ফলে উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে অনেক। কিন্তু খরচ অনুযায়ী ফসলের দাম উঠছে না। দিনদিন কৃষকরা দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন এবং চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

কুড়ুলগাছির কয়েকজন কৃষক এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তাদের রক্ত চুষে খাচ্ছে সাইফুল ইসলাম সোহেল। তারা বলেন, কেবল সাইফুল ইসলাম সোহেলই নয়, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা এলাকায় ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে একজন করে সার ডিলার থাকলেও অনেকেই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা নয়। এতে করে স্থানীয় কৃষকদের অনেকেই এবং ক্ষুদ্র সার ব্যবসায়ীরা নানারকম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় সার ডিলার না থাকায় কৃষকরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না।

যার কারণে স্থানীয় কৃষকরা সরকার নির্ধারিত মূল্য ছাড়াও অতিরিক্ত দামে ঐ ডিলার ও তার মনোনীত সার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে এলাকার কৃষকদের প্রতিনিয়ত ফসল চাষে বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের কৃষকের উপকারার্থে নেয়া বিভিন্ন ভালো উদ্যোগ (সময়মত ও নির্ধারিত মূল্যে সার প্রদান কার্যক্রম) ভেস্তে যেতে বসেছে। এসকল কারণে ঐ এলাকার কৃষকসমাজ দুর্নীতিপরায়ণ ও স্বেচ্ছাচার সার বিক্রেতা সাইফুল ইসলামকে পছন্দ করছেন না। এ অবস্থায় কুড়–লগাছি ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হাশেম রেজাকে তাদের এলাকার জন্য সার ডিলার নিয়োগ পেয়ে মহাখুশি।

উল্লেখ্য, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০০৯’ এর ১.৩ ধারায় বলা হয়েছে, ইউনিয়ন/পৌরসভার নতুন ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। আর ডিলারশিপের জন্য আবেদনকারীর যোগ্যতায় ৩.১ ধারায় বলা হয়েছে, তাকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের/উপজেলার/জেলার বাসিন্দা হতে হবে। এর প্রমাণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ইউনিয়ন/পৌরসভার চেয়ারম্যান কর্র্তৃক নাগরিকত্ব সনদ দাখিল করতে হবে। এছাড়া নীতিমালার ৫.২.১ উপধারায় বলা হয়েছে, যদি ইউনিয়নের একজন স্থায়ী বাসিন্দা আবেদন করেন ও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণে সফল হন তবে তিনি ডিলার হিসেবে নির্বাচিত হবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত