শিরোনাম

রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে জোরালো আহ্বান বাংলাদেশের

২৩:২৯, জানুয়ারি ১১, ২০১৭

রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর হামলায় সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকট নিরসন করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। একইসঙ্গে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সঙ্গে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির বিশেষ দূত কিউ তিনের বৈঠকে দু'দেশ এ ব্যাপারে একমত হয়। বৈঠক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর অব্যাহত নির্যাতনের ব্যাপারেও বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে সু চির বিশেষ দূত এ নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেছেন।

রোহিঙ্গা শরণার্থী-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির বিশেষ দূত হিসেবে গত মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিউ তিন। বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় প্রথমে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন কিউ তিন। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

গতকালের বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মঞ্জুরুল করিম এবং কিউ তিনের দুই সফরসঙ্গীসহ ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থান উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিব কেউই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বৈঠক সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরা হয়। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কীভাবে আসছেন, অবস্থান করছেন এবং এর ফলে বাংলাদেশের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে, তা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি শরণার্থীদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়। বিস্তারিত আলোচনার পর এ সংকট সমাধানে একটি সমন্বিত রূপরেখা তৈরিতে সম্মত হয় উভয় দেশ। বৈঠকে মিয়ানমারের দূতকে বলা হয়, বাংলাদেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে। মিয়ানমারের কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে বাংলাদেশ কখনোই প্রশ্রয় দেবে না।

এ ছাড়া বৈঠকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ। তবে মিয়ানমারের বিশেষ দূত রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সীমান্তে যারা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই অভিযান চালানো হয়েছে। এতে কিছু সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে, তবে সাধারণ মানুষ হতাহতের শিকার হয়নি বলে দাবি করেন কিউ তিন।

গত বছরের ২৯ জুন অং সান সু চির কাছে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হককে বিশেষ দূত হিসেবে পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অং সান সু চির কাছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। ফিরে এসে মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শহীদুল হক।

তবে গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একটি পুলিশ চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার জের ধরে নৃতাত্তি্বক রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ব্যাপক নির্যাতন শুরু করে। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে থাকে। বাংলাদেশ এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিশ্ব সম্প্রদায়ও এ নির্যাতন বন্ধে অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানায়। এর মধ্যেই ঢাকায় বিশেষ দূত পাঠালেন সু চি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত