শিরোনাম

জীবনের বাকি পথ লিখে কাটাবো...

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৫:১৮, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৯

'চলছে অমর একুশে বইমেলার। বই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন লেখক, প্রকাশক, মুদ্রণশিল্প সংশ্লিষ্ট সকলই। বইমেলা ও বই নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সময়ে জনপ্রিয় তরুণ কবি ও সাহিত্য সমালোচক আলাউদ্দিন আদর। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী।প্রকৌশল অঙ্গনের চেয়ে সাহিত্য অঙ্গনেই বেশি পরিচিত। একাধারে কবি, প্রবন্ধকার, সাহিত্য সমালোচক এবং সম্পাদক হিসেবে সুপরিচিত। যদিও তিনি নিজেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও সাহিত্যের ছাত্র পরিচয় দিতেই বেশি পছন্দ করেন।একসময় নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি করলেও গত বইমেলায় প্রথম তিনি কাব্যচর্চা ও সাহিত্য সমালোচনাকে মলাটবন্ধী করেন। পাণ্ডুলিপি পুরস্কার প্রাপ্ত গবেষনামুলক গ্রন্থ ‘সাহিত্যে নোবেলঃ ভেতর বাহির’প্রকাশিত হয় প্রিয় বাংলা প্রকাশন থেকে। আলাউদ্দিন আদরের প্রথম মৌলিক কাব্যগ্রন্থ ‘নিবন্ধিত নারী’ প্রকাশিত হয়েছিল দাঁড়িকমা প্রকাশনী থেকে। লেখালেখির ধারাবাহিকতায় এবারের বইমেলায় দাঁড়িকমা প্রকাশনী থেকে আসছে দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ (স্বল্পদৈর্ঘ্যের কবিতা) 'এক টুকরো হৃদয়'। তরুণ এ লেখক নিজের গল্প ও স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছেন দৈনিক আমার সংবাদের সঙ্গে।

আমার সংবাদ : গতবার আপনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'নিবন্ধিত নারী'পাঠক মহলে বেশ সাড়া পেলেছিল।সর্বাধিক বিক্রিত কবিতার বইয়ের তালিকায় আপনার বইয়ের নাম থাকায় কেমন লাগছে?

আলাউদ্দিন আদর : সঠিকভাবে বোঝাতে পারব না এই অনুভূতি। ছোট বেলা থেকেই একটা কথা শুনে আসছি কবিতার বই বিক্রি হয়না...।তবুও আমি কবিতার বই নিয়েই হাজির হলাম।কারণ,আমি বিশ্বাস করি যে কবিতা পাঠক হৃদয় আন্দোলিত করতে পারে।তা পাঠক লুপে নেবেই।তবে এতটা আশা করিনি।

আমার সংবাদ : ‘নিবন্ধিত নারী’ ছাড়াও আপনার কয়টি বই প্রকাশ হয়েছে ?
আলাউদ্দিন আদর : 'নিবন্ধিত নারী'আমার প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ।এবং দ্বিতীয়টি গবেষনামুলক গ্রন্থ ‘সাহিত্যে নোবেলঃ ভেতর বাহির’।এছাড়া বেশ কিছু যৌথ কাজ হলেও গত বছর পর্যন্ত এই দুটি মৌলিক বই।

আমার সংবাদ : লেখা লেখির শুরুটা কিভাবে ?
আলাউদ্দিন আদর : আমি ভ্রমন করতে এবং বই পড়তে পছন্দ করি। একবার বাড়ির অদূরের মহুরি নদীতে ঘুরতে গিয়ে আবেগায়িত হয়ে একটি ছড়া লিখে পেলি।সেই স্কুল জীবনে সম্ভবত অষ্টম শ্রেণীতে থাকতে। পরে সেটি একটি স্থানীয় সাপ্তাহিক পত্রিকায় ছাপা হলো। সেই শুরু। রম্য/গল্প দিয়ে জাতীয় দৈনিকে প্রবেশ করলেও স্বস্তি কবিতায়। তাই যত যাই লিখি কবিতা ছাড়িনি।

আমার সংবাদ : ‘গবেষনামুলক গ্রন্থ ‘সাহিত্যে নোবেলঃ ভেতর বাহির’এর পৃষ্ঠা সংখ্যা বেশি, প্রকাশক পেতে কষ্ট হয়নি ?
আলাউদ্দিন আদর: এটা সত্য যে নতুন লেখকদের জন্য প্রকাশক পাওয়া আসলেই কষ্টের। নতুন লেখকদের নিয়ে প্রকাশকরা শঙ্কায় থাকেন। বেশি পৃষ্ঠা আর বেশি দামের বই বের করে ঝুঁকি নিতে চান না তারা। সাধারণত মেলা শেষে হলে নতুন লেখকদের বই খুব বেশি একটা বিক্রি হয় না। কিন্তু 'নিবন্ধিত নারী' সমীকরণ বদলে দিয়েছে।। তখন প্রকাশক খুব অবাক হন। গবেষনামুলক গ্রন্থ ‘সাহিত্যে নোবেলঃ ভেতর বাহির’বইটি ১৫ ফর্মার বই।যেহেতু বইটি প্রকাশের পূর্বেই পাণ্ডুলিপিটি পুরস্কারের জন্য মননীত হয়েছে।পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। মিডিয়ার কল্যায়ণে তা অনেকের নিকট পৌঁছে গেছে।সেজন্য এটি নিয়ে সবার মাঝে আগ্রহ ছিল লক্ষণীয়। তাই এটি প্রকাশে প্রকাশক যেমন আপত্তি করেননি,তেমনি পাঠকও কৃপণতা করেননি।যদিও মেলার একবারে শেষলগ্নে প্রকাশিত হওয়াত বিক্রি প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যায়নি।

আমার সংবাদ : নিবন্ধিত নারী বা সাহিত্যে নোবেল :ভেতর বাহির পাঠক কেন পড়ছেন বলে মনে করছেন?
আলাউদ্দিন আদর: নিবন্ধিত নারী কবিতার বই।বেশির ভাগ কবিতাই রোমান্টিক।তবে নির্মান সমাজ বাস্তবতার আলোকে।সেখানে দ্রোহ আছে,ব্যাকুলতা আছে,আছে শাশ্বত আহবান।তীব্র প্রতিবাদ আছে সমাজ তথা রাষ্ট্রের অনিয়মের বিরুদ্ধে।এসব হয়তো টানছে তরুণ-যুবক পাঠকদের। সাহিত্যে নোবেল : ভেতর বাহির গবেষনাধর্মী বই।বাংলা সাহিত্যে এই বিষয়ে বেশি লেখালেখি হয়নি।তাই হয়তো বইটির ব্যাপারে ধীমান পাঠকদের আগ্রহ বেশি।

আমার সংবাদ : আপনি তো ছবি তোলেন,গান লিখেন,আবার পদ্য-গদ্য লেখেন,কোনটাকে প্রাধান্য দেবেন?
আলাউদ্দিন আদর : ছবি তুলি একান্তই সখের বসে।এর মধ্যে কিছু মিডিয়ার কল্যায়ণে হিট।গান বেশ কয়টি লিখলেও তা কাউকে দেইনি প্রথমে।গত রমজানে হাবিব মোস্তফার সুরে আবিদ আজমের কন্ঠে খুশির চাঁদ শিরোনামে প্রথম গান রেকর্ড হয়।গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পাওয়ায় অনেকই গান চাওয়া শুরু করে।আমিও গানের ব্যাপারে আগ্রহী।গানের মাধ্যমে মানুষকে ছুঁয়ে দেওয়া যায়। আর গদ্য পদ্য দুটোই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু পদ্যে সখ্যতা বেশি।অলসতার দরুণ গদ্যে সময় কম দেওয়া হয়।

আমার সংবাদ : আগামী দিনের পরিকল্পনা কি ?
আলাউদ্দিন আদর : প্রথমত নিজেকে গড়ার কাজ চালিয়ে যাবো।ক্যারিয়ার নিয়ে পরিকল্পিত কিছু তারচে হবে।লেখালেখির ক্ষেত্রে সাধারণত সবার মধ্যে বই মেলা কেন্দ্রিক লেখার প্রবণতা থাকে। আমিও এ বলয় মুক্ত নয়। আমি এখন থেকে সারা বছর জুড়েই লিখবো।জীবনের বাকি পথ লিখে কাটাবো...।পাঠকের ভালোবাসা উপেক্ষা করে চাইলেও লেখালেখি থেকে লেখক নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিতে পারেনা। জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেয়ে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা কঠিন। পাঠকের কাছে আমার দায়বদ্ধতা আছে, সেজন্য লিখবো।

আমার সংবাদ : আপনি কোন লেখকের লেখা পছন্দ করেন?
আলাউদ্দিন আদর: আমি কম বেশ সবার বই পড়ি। সিনিয়রদের পাশাপাশি তরুণ লেখক,সম সাময়িক লেখকদের লেখাও গুরুত্ব দিয়ে পড়ি।তবে গদ্যে জাকির তালুকদার,মঈনুল আহসান সাবের,শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা আমার বেশি পছন্দ। এছাড়াও মানিক বন্দোপাধ্যায়,হুমায়ুন আহমেদের লেখাও আমার পছদের।

আমার সংবাদ : আপনার সাফল্যে আপনার বাবা-মা’র প্রতিক্রিয়া কি ?
আলাউদ্দিন আদর: আমার বাবা ব্যাবসায়ী ছিলেন।প্রবাসে কাটিয়েছেন দীর্ঘ সময়।শেষ বয়সে ডায়বেটিসসহ বেশ কিছু শারীরিক সমস্যায় ইতি ঘটিয়েছেন প্রবাস জীবনের। তার ইচ্ছে ছিল আমি ডাক্তার হবো। কিন্তু সেটি তো হলো না। আমি লেখা লেখি করি,সেটা তিনি জানতেন, তবে গুরুত্ব দিতেন না। ২০১৩ সালে তো আমায় ছেড়ে চলেই গেলেন!আমার কোন বই দেখে যেতে পারেননি!তাই আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ বাবা-মাকে উৎর্সগ করেছি। আমার পরিবার চান আমি প্রকৌশল পেশায় পুরোপুরি আত্ম নিয়োগ করি।তারা চান চাকরি করে নিশ্চিত জীবনযাপন করি। কিন্তু আমি তিন তিন বার সরকারী চাকরির সুযোগ ছেড়ে দিয়েছি। আসলে চকবাঁধা জীবন আমার জন্য নয়। আমি অন্যের রুটিনে পথচলতে কম পছন্দ করি।'

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত