শিরোনাম

বিয়ে করুন, ভালো থাকুন

প্রিন্ট সংস্করণ॥মুহসিনুদ্দীন তাজ  |  ০২:২২, জানুয়ারি ১৬, ২০১৯

একজন সুস্থ মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজন বিয়ে। উপরন্তু মানুষের স্বভাবগত পরিচ্ছন্নতা, মানসিক ভারসাম্য, চারিত্রিক উৎকর্ষতা ও পবিত্রতার অন্যতম উপায় বিয়ে। অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান ও চিকিৎসা যেভাবে মানব জীবনের অপরিহার্য প্রয়োজন, শিক্ষা-দীক্ষার প্রয়োজনীয়তা যেভাবে যুক্তিতর্কের ঊর্ধে- একজন যৌবনদীপ্ত মানুষের সুস্থজীবন যাপনের জন্য বিয়ের অপরিহার্যতা তেমনই।সৃষ্টিগতভাবেই নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। নারী বিনে পুরুষ আর পুরুষ বিনে নারীর জীবন মরুবালূর চর। হতাশার অতল সাগরে হাবুডুবু খায়। নর ছাড়া নারী আর নারী ছাড়া নর। এ কারণেই তো পৃথিবীর প্রথম মানব আদম আ. চরম ঔদাসীন্য ও অতৃপ্তিতে ভুগছিলেন অনিন্দ অতুলনীয় সুখের বাসর জান্নাতে থেকেও। সেই চরম অতৃপ্তি ও ঔদাসীন্য দূর করার লক্ষে তাঁর জীবনসঙ্গিনীরূপে সৃষ্টি করলেন হাওয়াকে। আবদ্ধ করলেন বিয়ের বন্ধনে। অতৃপ্ত আদম তৃপ্ত হলেন। দূর হলো সকল উদাসীনতা। শুরু হলো নর-নারীর বৈধ যুগল বাঁধনে তথা বিয়ের সূত্রে মানবজীবন। প্রাপ্তবয়স্ক যুবক যুবতীর বিয়ে না করাটা সাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। ভেঙ্গে পড়ে শরীর। উড়ে যায় সুখনিদ্রা। মন্দা পরে কর্মস্পৃহায়। যুবসমাজ শিকার হয় কুচরিত্র ও অসভ্যতায়। যার অনিবার্য প্রভাব আক্রমন করে সমাজ জীবনকে। ফলে দূষিত হয় সমাজ ও রাষ্ট্র। বর্তমান সমাজের সবচেয়ে বড় যে অবক্ষয় তা হলো,চারিত্রিক অবক্ষয়। নিত্যদিনই উর্ধমুখী হচ্ছে ধর্ষণের সূচক।সত্তাগতভাবে যারা ধর্ষক, তারা করে জোরপূর্বক ধর্ষণ। আর কেউ আছে স্বেচ্ছায় ধর্ষিতা হচ্ছে।ধর্ষনও করছে প্রেমিক হয়ে। গবেষণা বলে বর্তমান সমাজে এই অবিবাহিত তরুণ-তরুণী তথা স্বেচ্ছা ধর্ষিতা ও ধর্ষকের পরিমানই বেশী।এর প্রধান কারণ বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে না করা।আমাদের আগের প্রজন্ম বা তারও আগের প্রজন্ম দেখলেই আমরা বুঝতে পারব তারা বয়স হলেই বিয়ে করে ফেলতেন।তাদের বিয়ে দেয়া হত সময়মত। তাই তাদের চারিত্রিক অবক্ষয় নিয়ে অত মাথাও ঘামাতে হয়নি।প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম শুধু বিয়ের বয়স বাড়ছে আর চারিত্রিক অবক্ষয়,ধর্ষণ এমনকি ধর্ষণ পরবর্তী খুনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফিনল্যান্ডের তুরকো ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের গবেষকদের হৃদরোগ বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি’ প্রকাশ করেছে যে অবিবাহিতদের চেয়ে বিবাহিত ব্যক্তিদের হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। এমনকি বিবাহিতদের হার্ট অ্যাটাক হলেও তা অবিবাহিতদের তুলনায় দ্রুত ভালো হয়ে যায়।কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে,বিবাহিত ব্যক্তিদের শরীরে কর্টিসেল নামের স্ট্রেস হরমনটি অনেক কম থাকে। আর কর্টিসেল হরমোনটি বেশী থাকলে শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধে।তন্মধ্যে অন্যতম হৃদরোগ, ক্যান্সারের মত মারাত্মক সব ব্যাধি। আর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে বিবাহিতদের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা বেশী। যদিও মাঝে মাঝে ঝগড়া লাগে তারপরও তার উপস্থিতি আপনার মনে এক ভালো লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে দিবে। মানুষ যখন কোন মানসিক চাপের মধ্যে থাকে তখন শরীরে স্ট্রেস হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই স্ট্রেস হরমোন বিবাহিতের চেয়ে অবিবাহিতদের শরীরে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত পরিমাণে মানসিক চাপ শরীরে সমস্যার জন্ম দেয়, বিশেষ করে হজমের সমস্যার সৃষ্টি করে। রিসার্চে জানা গেছে স্ট্রেস হরমোন বিবাহিতদের শরীরে সেরকম ভাবে ক্ষতি করতে পারে না কিন্তু অবিবাহিতদের শরীরে নানা সমস্যার বাসা তৈরি করে। বিবাহিতদের পারস্পারিক বোঝাপড়া ঠিক রাখার উত্তম ও পরীক্ষামূলক টোটকা হলো,সঙ্গীর মতামতের প্রতি যতœশীল হওয়া।রেগে গেলে নিজেও না রাগা।বরং তাকে সময় দেয়া।আপনি যদি আপনার সঙ্গীর সাথে নিজেও রেগে যান,তার কথার জবাব দিতেই থাকেন তখন পরিস্থিতি শুধু প্রতিকূলেই যেতে থাকবে।কিন্তু একজন চুপ থাকলে অপরজন নিজেই থেমে যাবে,পরিস্থিতিও অনুকূল থাকবে। যথাসম্ভব ক্ষমার প্রবনতা থাকতে হবে।সঙ্গীর কোনো ভুল সরাসরি প্রতিবাদ না করে বুঝিয়ে বলতে হবে। স্থান-কাল-পাত্রভেদে কথা বলতে হবে।সবচেয়ে বড়কথা সঙ্গীকে বুঝতে হবে।হতে হবে তার পরম আস্থাভাজন বন্ধু।সুস্থ শরীরের জন্য সুস্থ মনও প্রয়োজন।বিয়ে সুখের হলে ডিপ্রেশনের মত মনের অসুখ আপনার ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারবে না।অতএব নির্ভয়ে বিয়ে করুন। চেষ্টা করুন বিয়েটাকে সুখী করতে।আর উপভোগ করুন জমজমাট একটি জীবন।
(সম্পাদক, ত্রৈমাসিক স্বাপ্নিক)
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত