শিরোনাম

প্রয়োজনে প্রিয়জন

সাদ্দাম হোসাইন  |  ১৯:৪৬, নভেম্বর ১২, ২০১৮

জীবন সুন্দর, সবুজ বনানী ঘেরা প্রকৃতি সুন্দর। আর এই সুন্দর জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোনো কোনো সময় প্রিয় বন্ধুদের সংস্পর্শে ধন্য হতে কার না ইচ্ছে হয়! বাবা-মায়ের পর জীবনের দীর্ঘ মধুর সময় ব্যয় হয় স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিমন্ডলে ঘেরা বন্ধুদের সঙ্গে। কেউ এই মধুর জীবনের প্রথম হতে পথ চলে একসঙ্গে আবার কারও কারও সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে উঠে ছাত্রজীবনের যে কোনো সময়ে। তবে প্রতিদিনের জীবনে আমরা প্রায়ই নতুন কারও সঙ্গে পরিচিত হই, সময়ের চাহিদায়। মাঝে মাঝে এসব বন্ধুদের জীবনের সব কিছু থেকে কেন যেন বড় বেশি আপন মনে হয়! জীবনের ভালোলাগা, দুঃখ, মজার ঘটনা শেয়ার, অপ্রকাশিত মনের কথাগুলো বাক্সবন্দী থেকে অকপটে উগড়ে দেয়া যায় একমাত্র ভালো বন্ধুদের কাছেই। বন্ধু ছাড়া লাইফ ভাবাই যায় না! বন্ধু ছাড়া লাইফ ইম্পসিবল। কিচ্ছু না থাকলেও বন্ধু থাকলে চলে, আবার সব থাকলেও বন্ধু না থাকলে চলে না। বন্ধুত্ব তো এমনই। তবে ভালো বন্ধুর অভাব চিরায়ত, যা কিনা বর্তমানে অনেক বেশি দুর্লভ। কারও কারও জীবনে স্বার্থপর বন্ধুও আসে। যতদিন স্বার্থ থাকে ততদিন পাশে থাকে। স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে চলে যায় বহুদূরে। সাদ নামের (ছদ্মনাম) একটি ছেলের জীবনেও এসেছিল এমন বন্ধু। নাম তার তানহা (ছদ্মনাম)। তানহা ও সাদের মাঝে ছিল গভীর বন্ধুত্ব। দুইজনই নিজেদের ভালো-লাগা, সুখ-কষ্ট সবকিছুই একে-অপরকে শেয়ার করত। শুধুই তাই নয়, দুইজনের মধ্যে কেউ কোনো কাজ করতে গেলেও আলোচনা করে তা করত। এইটা হয়ত তাদের সম্পর্কের ভালো একটা দিক ছিল বটে।পরিচয় হওয়ার পর থেকে এভাবেই দীর্ঘদিন চলে তাদের সম্পর্ক। হঠাৎ একদিন সাদ একটি বিষয় নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল। বিষয়টি তানহাকেও অবগত করেছিল। সাদের সমস্যার পরিস্থিতি ব্যাপক আকারে গিয়ে দন্ডায়মান, এই মুহূর্তে সাদের কিছু আর্থিক সহযোগিতা খুব প্রয়োজন হয়। অনেক চিন্তাভাবনা করে সাদ তার প্রিয় মানুষগুলোর থেকে সহযোগিতার জন্য বিষয়টি শেয়ার করে। কিন্তু ফলাফল শূন্য! সর্বশেষে তানহার নিকট সাদ সহযোগিতা চাইলে সে রাজি হয়।কিন্তু ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হয়ে গেলেও তানহা থেকে কেনো সহযোগিতা পায়নি সাদ। এই ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে বিষয়টি স্বরণ করে দেওয়া হয়েছিল একাধিকবার। কিন্তু কোনো সাড়া মিলেনি! যা সাদ কোনোদিন আশা করে নি তানহার থেকেই। তাহলে বাস্তবটা কি আসলেই অনেক কঠিন? সেখানে কি কোনো বন্ধত্বের পরিচয়ে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাবে না? তাহলে কি তানহা শুধু প্রয়োজনেই সাদের প্রিয়জন রুপ সেজেঁ ছিল? মনে পড়ে গেল সাইফুল ইসলাম খানের প্রয়োজনে প্রিয়জন কবিতার শেষ চারঁ লাইনের লেখা গুলো...
বেলা ফুঁড়ালো, মাঝিও নৌকায় আর নাহি থাকিলো।সেজন কে বলিসনে,দয়াল মন! প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে আমি-তুমি নাহি কোনজন! প্রয়োজনে প্রিয়জন! সময় ফোঁড়ালে কোনজন?
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত