শিরোনাম

ভালোলাগা-ভালোবাসা-বিয়ে অতঃপর বিচ্ছেদ

সাদ্দাম হোসাইন  |  ১৯:১৪, নভেম্বর ০৩, ২০১৮

সবার জীবনে প্রেম আসে। তাইতো সবাই ভালোবাসে। প্রথম যারে লাগে ভালো, যায় না ভুলা কভু তারে। হ্যাঁ। সত্যিই। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই প্রেম আসে। জীবন চলারপথে মানুষ যখন সুন্দর কিছু দেখে তখন হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়। কেউ ছোট্ট একটা মুহূর্ত দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করে আবার তার গন্তব্যে হাঁটতে থাকে। এসময় হাঁটতে হাঁটতে কেউ আবার অন্যরকম আকর্ষণে আটকে ফেলে নিজেকে। শুরুতেই ভালোলাগা! তারপর ভালোবাসা। ভালোলাগা যদিও ভালোবাসা নয়, তবুও ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।তবে সবাই তার ভালোবাসার মানুষকে জীবনসঙ্গী করে নিতে পারে না। নিয়তির কাছে হার মেনে ভালোবাসার মানুষকে জীবন থেকে হারাতে হয়। আবার এমন অনেকেই আছে, যারা ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করেও তার সঙ্গী হয়ে জীবনটা কাটাতে পারে না। তেমন একজন আনিকা (ছদ্মনাম)। একটি ছেলেকে আনিকার ভালোলাগে। প্রত্যেক মানুষের মতোই ভালোলাগা থেকে ভালোবাসার সৃষ্টি হয় আনিকার মনে। অবশেষে ভালোবাসা থেকে দুইজনের বিয়ে হয়। আনিকা (ছদ্মনাম) প্রেম করে বিয়ে করে নমিকে (ছদ্মনাম)। সবার মতই প্রেম নামক যুদ্ধে তাদেরও জয় হয়েছিল। উভয় পরিবারের সম্মিতিতেই সামাজিকভাবে বিয়ে সম্পূর্ণ হয়। শুরুতে বেশ ভালোই চলছি দম্পতীর নতুন জীবন। বেশ কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার ছেলেটি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্তের এক পর্যায়ে চূড়ান্ত হয়ে যায় বাহিরে যাবার পরিকল্পনা। বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি নমির। প্রবাসীর নামের তালিকায় তার নামও লিপিবদ্ধ হয়েছে। ওমানে চলে যায় সে। প্রবাসী জীবনের প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে নমির। টাকা পয়সা হয়ত ভালই কামাচ্ছেন নমি। অঢেল টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার ফলে এখন আর আনিকাকে ভাল লাগে না নমির। নমির মাথায় এখন অন্য পরিকল্পনা। তার বিবাহিত আনিকার জন্য কিঞ্চিত পরিমাণ ভালোবাসা আর নেই। কিন্তু কেন? নমি হয়ত এখন অনেক টাকার মালিক। আনিকার মত গরিব মেয়েকে তার আর ভালোলাগে না। হতে পারে এটাই। বিবাহিত জীবনের দুই বছরের মধ্যেই আনিকা নামক সেই মেয়েটির জীবনের অধ্যায়ে নেমে আসে এক অন্ধকারের জগৎ। কোনোভাবেই আনিকার খোঁজখবর নিচ্ছে না তার প্রিয় নমি এবং পরিবার। অথচ নমির জন্যই আনিকার পরিবারের সবার কথা অমান্য করে বিয়ের পীড়িতে বসেছিল। বেশ কিছুদিন পরে জানা যায় আনিকাকে নিয়ে আর সংসার করতে চাই না নমি! বিষয়টি আনিকার পরিবার বুঝতে পেরেছেন। বাবা হারানো আনিকার মা মেয়ের সুষ্ঠু সমাধানের আশায় গ্রামের শালিশকারকদের স্বরনাপন্ন হলেও কোন সুরাহা মিলেনি। এইদিকে নারীদের প্রতি সহিংসতা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, যৌতুকের জন্য মারধর এবং মেয়েদের প্রতি ইভটিজিং প্রতিরোধ গত ০৫ আগষ্ট ২০১৫ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় উইমেন্স সাপোর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সম্পূর্ণ নারী বান্ধব পরিবেশে নারী অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে এর সেলটি যাত্রা শুরু করে। ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সর্বমহলে এর কার্যক্রম এবং পরিচালনা পদ্ধতি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। নারীদের প্রতি অপরাধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে না দেখে সামষ্টিক সামাজিক সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করে তার মূলে কাজ করারই মূলত: এ সেলের উদ্দেশ্য। সবকিছু ছেড়ে দিয়ে মা তার মেয়েকে নিয়ে স্বরনাপন্ন হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উইমেন্স সাপোর্ট সেন্টারে। সেখানে আনিকাকে জিজ্ঞেস করা হয় সে সংসার করতে রাজি কি না ? উত্তরে সাফ বলে দিয়েছেন রাজি। কিন্তু নমি তার সঙ্গে রাজি নয়। দুই পরিবারকে ডেকে তাদের ভালোলাগা আর ভালবাসার প্রিয় আনিকার আর নমির সংসার জীবিনের ইতি ঘটে। আনিকা কাদঁতে কাদঁতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সময় তার মা বলে "সে তকে নিয়ে খাইতে রাজি না তুই কান্দস কিরে" আল্লাহর ইচ্ছে, আল্লাহর উপর সব কিছু ছেড়ে দে.......
সুপ্রিয় পাঠকের কাছে এই অধমের দরখাস্ত রইল- ভালোলাগা,ভালোবাসা, বিয়ে; অতপর টা যেন নমি আর আনিকার জীবনের মত আর কারও যেন না হয়। যারা ভালোবাসা বুঝে বা ভালোবাসাকে সম্মান করে তাদের ধারা এমন কাজ সম্ভব না। এই কাজগুলা কিছু অন্ধপ্রেমিক, ভালোবাসার সম্মান দিতে না পারা মানুষের দ্বারা হয়ে থাকে। শুরুটা তো একজন আরেকজনের ভালোলাগা থেকে শুরু হয় তাহলে শেষটা কেন এত বিষাদময়?
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত