শিরোনাম

‘কবিতা লিখবো না, মিছিলে যাবো’

সাইফুল্লাহ আল মামুন  |  ১৫:৪০, মার্চ ২৭, ২০১৮

নাবিকের নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে
থেমে যায় সমুদ্র কল্লোল,
সময়ের সংকেত দিতে
কেঁপে উঠে ঘড়ির বুক।
বিশ্বের কুমারী চোখে
কলঙ্কের দাগ দেখে
সূর্যও মুখ লুকায় বারবার
বিধ্বস্ত নীলিমার নিচে বসে
কী কবিতা লিখবো আর--

কবিতা লিখবো না, মিছিলে যাবো
সম্মুখের সূর্য ললাটে চুম্বন দিয়ে
তবেই ফিরে যাবো ঘরে
সময় হোক আর নাই হোক
আমার সম্মুখে অগনিত মানুষের উপেক্ষিত মুখ
পরনে কাপড় নেই, লজ্জা!

জীবনের এইটুকু আবরণ
যদি খসে যায়, লজ্জা পাবো?
এইটুকু আবরণে জীবন চলে না
জীবন চায় আরো কঠিন আবরণ।
দূর্ভেদ্য আকাশকে ভেদ করে
এমন দুঃসাহস কোনো বুলেটের নেই
সেই আকাশকে স্পর্শ করে
মিছিলে যাবো, অঝোরে ঝরবে বুকের হাসি
বুলেট ছোঁবে যখন এ হৃদয়,
সবুজ ঘাস, কালো রাজপথ লাল হবে
বিজয় উল্লাসে উদিত সূর্যের মতো।

শাসকের কামান, শোষকের মৃত্যু ছোবল
সব আমার নাগালের বাইরে কেবল
মৃত্যুর হুলিয়া কাঁধেই মিছিলে এসেছি
পিছনে রেখে আসিনি কোনো পিছুটান,
একটি প্রাণের মৃত্যু হতে কুড়িয়ে নেবো
আরেকটি প্রাণের দান।

এমন শ্লোগানে উত্তপ্ত সেদিন
রাজধানীর রাজপথ, শহরের অলিগলি।
কলের শ্রমিক, ক্ষেতের মজুর, নদীর মাঝি
প্রতিবাদী কন্ঠে সবাই এসেছিল, যেমন এসেছিল
চঞ্চল পায়ে আমার পূর্ব পুরুষের দল
স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার আন্দোলন
একটি রক্তাক্ত অধ্যায়, নির্মম পাশবিকতায় নির্বাক কন্ঠস্বর
বাঙালির আবেগের বিস্ফোরণ
প্রিয় মাতৃভূমি ‘বাংলাদেশ’
স্বাধীনতা তারপর।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত