শিরোনাম

শান্তিতে নোবেল পেল পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী সংগঠন আইসিএএন

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৫:৫৮, অক্টোবর ০৬, ২০১৭

পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইসিএএন) ২০১৭ সালে শান্তিতে নোবেল জিতে নিয়েছে। পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রচারণার স্বীকৃতি হিসেবে তারা এ সম্মানজনক পুরস্কারটি পেয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টার দিকে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি নোবেল পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির প্রধান বেরিট রেইস-অ্যান্ডারসন বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্রের কোন প্রকার ব্যবহারের ফলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়কর পরিণতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ এবং এই ধরণের অস্ত্রের বিরুদ্ধে একটি চুক্তিভিত্তিক নিষিধাজ্ঞায় পৌঁছাতে এর (আইসিএএন) অসাধারণ প্রচেষ্টার স্বীকৃতিতে এই গ্রুপকে পুরস্কারটি দেয়া হয়েছে। পরমানু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে আইসিএএন।

এবছর শান্তিতে নোবেলজয়ী কে হতে পারেন, তা নিয়ে বরাবরের মতোই বিস্তর আলোচনা ছিলো। ৩১৮ জন সুপরিচিত ও অপরিচিত প্রার্থীর মধ্যে থেকে নির্বাচক প্যানেল বেছে নেন নোবেলজয়ীর নাম। নোবেল কমিটির নিয়ম অনুসারে, প্রতিবছর নমিনেশন পাওয়া প্রার্থীদের নাম পরবর্তী ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। কিন্তু এবছর যারা নমিনেশন পাঠান সেই সব সাবেক নোবেলজয়ী, রাজনীতিক এবং প্রতিষ্ঠানগুলো বার বার তাদের প্রার্থীর নাম উন্মুক্ত করে দেন। এই তথ্যগুলোর সত্যতা রয়েছে যেমন রয়েছে তেমনই ভুয়া খবরও ছড়ায়।

এবছর যেসব মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের নমিনেশনের গুজব বা সত্যিকার খবর পাওয়া যায় তারা হলেন, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, জো কক্স, দি বুলগেরিয়ান অর্থোডক্স চার্চ, ডেভিড বোয়ি, ভ্লাদিমির পুতিন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবছর এই তালিকা তৈরি করে নরওয়ের পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট অসলো।

এবছর সম্ভাব্য শান্তিতে নোবেলজয়ী কে কে হতে পারেন সেই তালিকা প্রকাশ করে গার্ডিয়ান। সেখানে জোড়ালোভাবে যেসব ব্যক্তি বা সংস্থার নাম উঠে আসে তারা হলেন, জাভেদ জারিফ ও ফেদরিকা মোগেরিনি, দি হোয়াইট হেলমেট এবং তাদের নেতা রাইদ আল সালেহ, ক্যান দুনদার এবং কুমহুরিয়েট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা, অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, পোপ ফ্রান্সিস, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন, রাইফ বাদাই।

২০১৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয় করেছিলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস।বহুল প্রত্যাশিত একটি শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে প্রায় ৫২ বছরের রক্তাক্ত সংঘাতের ইতি টানার জন্য তিনি এই স্বীকৃতি পান।কলম্বিয়ায় ৫২ বছরের ওই সংঘাত ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।

এর আগের বছর ২০১৫ সালে শান্তিতে নোবেল পান তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা সংগঠন ‘তিউনিসিয়ান ন্যাশনাল ডায়ালগ কোয়ার্টেট’।

১৯০১ সালে প্রথমবারের মত শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত ৯৮ বার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হলো।নোবেল পুরস্কারের চারটি ক্যাটাগরির বিজয়ী সুইডিশ নোবেল কমিটি ঘোষণা করলেও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা নরওয়ে কমিটি দিয়ে থাকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত