শিরোনাম

সাহিত্যে নোবেল জিতলেন কাজুও ইশিগুরো

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৭:৪৭, অক্টোবর ০৫, ২০১৭

এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ব্রিটিশ সাহিত্যিক কাজুও ইশিগুরো (৬৩)। বৃহস্পতিবার ( ০৫ অক্টোবর) সাহিত্যে নোবেলজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। জাপানি বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ লেখকের জন্ম জাপানের নাগাসাকিতে ১৯৫৪ সালের ৮ নভেম্বর।১৯৬০ সালে ঔপন্যাসিক, চিত্রনাট্যকার এবং ছোট গল্প লেখক কাজুও-র বয়স যখন ৫ বছর তখন তার পরিবার ইংল্যান্ডে চলে আসে।আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে ইশিগুরোর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার তুলে দেয়া হবে। পুরস্কার হিসেবে তিনি ৮০ লাখ ক্রোনার পাবেন। ইশিগুরোকে নোবেল বিজয়ী ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি জানায়, তার অসাধারণ আবেগময় উপন্যাসগুলোর মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগে তিনি আমাদের অপার্থিব অনুভূতির গভীরতম প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

এর আগে ১৯৮৯ সালে ‘দ্য রিমেইনস অব দ্য ডে’ উপন্যাসের জন্য তিনি ‘ম্যান বুকার’ পুরস্কার পেয়েছিলেন। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন প্রখ্যাত মার্কিন সংগীতশিল্পী ও গীতিকার বব ডিলান। যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত ঐতিহ্যে নতুন কাব্যিক ধারা সৃষ্টির স্বীকৃতি হিসেবে ডিলানকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয় বলে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো। তবে ডিলানের নোবেল পুরস্কার নিয়ে অনেক নাটকীয়তা হয়েছিল। পুরস্কার ঘোষণার পর এ নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি তিনি। স্টকহোমে গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নোবেল পুরস্কার হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যাননি তিনি। কেবল একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। ওই অনুষ্ঠানের তিন মাসেরও বেশি সময় পর নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন ডিলান।

এর আগের বছর ২০১৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ নামের একজন নারী সাংবাদিক। বেলারুশের ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি এবং প্রথমবারের মতো সাংবাদিক হিসেবে তিনি নোবেল পুরস্কার পান। সোভিয়েত যুগের আনবিক দূষণ নিয়ে ডকু-ফিকশন ‘এ মনুমন্টে টু সাফারিং অ্যান্ড করেজ ইন আওয়ার টাইম’ বইয়ের জন্য এ পুরস্কার পান তিনি।

১৯০১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সাহিত্যে ১১৪ জনকে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন ১৪ জন নারী। দুইজনকে যৌথভাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে এমন ঘটনা ঘটেছে ২ বার। সাহিত্যে নোবেল পাওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হলেন রুডইয়ার্ড কিপলিং। ৪১ বছর বয়সে ‘দ্য জাংগল বুক’ এর জন্য তাকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। আর সাহিত্যে নোবেলজয়ী সর্বোজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন ডোরিস লেসিং। ২০০৭ সালে যখন লেসিংকে পুরস্কার বিজয়ী ঘোষণা করা হয় তখন তার বয়স ছিল ৮৮ বছর।

উল্লেখ্য, সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল ১৮৯৫ সালে তার উপার্জিত অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার হিসেবে দিতে একটি উইল করে যান। ১৯০১ সাল থেকে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দিয়ে আসছে নোবেল কমিটি। নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে শুধু শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। বাকি পুরস্কার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবতার কল্যাণমূলক বিভিন্ন খাতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ছয়টি শাখায় নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। শাখাগুলো হলো- পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাশাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য এবং শান্তি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত