শিরোনাম

বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবস আজ

শফিকুজ্জামান॥প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১১:৫২, আগস্ট ০৬, ২০১৭

‘জীবনে মৃত্যু করিয়া বহন- প্রাণ পাই যেন মরণে।’ আজ ২২ শ্রাবণ বাংলা সাহিত্য ও কাব্যগীতির শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৬তম প্রয়াণ দিবস। তিনি ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, সংগীতস্রষ্টা, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী, বাংলা সাহিত্যের দিকপাল, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাহিত্যিক, চিত্রকর, সুরকার, নাট্যকার ও দার্শনিকসহ বহুগুনে গুনান্বিত কবিগুরুকে আখ্যায়িত করা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি হিসেবে। তিনিই এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী কবি। ১৯১৩ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পিছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁরই লেখা গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের সফল ইংরেজি অনুবাদ। রবীন্দ্রনাথ বর্ষা নিয়ে, আষাঢ়-শ্রাবণ নিয়ে লিখেছেন। তাতে ধরা পড়ে শ্রাবণ-বর্ষণের বহুমাত্রিক রূপ।

তবে শ্রাবণের দিকেই কবির নজর ছিল বেশি। ‘আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে/ দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে’ শ্রাবণ-বর্ষণে তিনি যেন পেয়েছিলেন মুক্তির ডাক। তারপর একদিন এই শ্রাবণেই তিনি চলে গেছেন বিশ্বকে কাঁদিয়ে। তাঁর ভাষায়, ‘জীবনে মৃত্যু করিয়া বহন- প্রাণ পাই যেন মরণে।’ এবং ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে/ মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই।’ তাঁর সাহিত্যের আবেদন বিশ্বজনীন। তাঁর গান বাঙালির নিত্যদিনের জীবনচর্চায় মিশে আছে গভীরভাবে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেন। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি তাঁর সারাজীবনের কর্মে সমৃদ্ধ হয়েছে। বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে তিনি বিশ্বকবি, কবিগুরু ও গুরুদেব নামে পরিচিত। বলা যায় তাঁর হাতে বাঙালির ভাষা ও সাহিত্য, শিল্পকলা ও শিল্প চেতনা নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে। তিনি বিশ্বের একমাত্র কবি যিনি তিনটি দেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণ মন- অধিনায়ক জয় হে’ এবং শ্রীলংকার জাতীয় সংগীত ‘আপা শ্রীলংকা নম নম নম নম মাতা, সুন্দর শ্রী বরণী’র মূল সংস্করণের লেখক এবং সুরকারও রবি ঠাকুর। তাঁর জীবনের প্রথম কবিতা লিখেছিলেন মাত্র আট বছর বয়সে।

১৮৭৭ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি প্রথম ছোটগল্প এবং নাটক লিখেন। এর আগেই প্রথম কাব্যের জন্ম দিয়েছিলেন যা ভানুসিংহ ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়। পারিবারিক শিক্ষা, শিলাইদহের জীবন এবং প্রচুর ভ্রমণ তাকে প্রথাবিরুদ্ধ এবং প্রয়োগবাদী হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছিল। তিনি ব্রিটিশ রাজ্যের প্রবল বিরোধিতা করেন এবং মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন করেন। তাঁর কবিতা, অন্যান্য সাহিত্য আর বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা তাঁর জীবনকে যে মহিমা দান করেছে তা চিরদিন টিকে থাকবে। রবীন্দ্রনাথ বাংলা ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ এবং ইংরেজি ৭ মে ১৮৬১ সালে ভারতের কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মা সারদা দেবীর ১৪ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন ১৩তম। ১৮৭৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি রবি ঠাকুর তাঁর বাবার সাথে ভারত ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কলকাতা ত্যাগ করেন। ভারতের বিভিন্ন স্থানে যান তারা। এরমধ্যে ছিল শান্তি নিকেতনে দেবেন্দ্রনাথের নিজস্ব সম্পত্তি, অমৃতসর এবং হিমালয় অধ্যুষিত পাহাড়ি স্টেশন ডালহৌসি। সেখানে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির জীবনী পড়েন, অধ্যয়ন করেন ইতিহাস, জ্যোতির্বিজ্ঞান, আধুনিক বিজ্ঞান এবং সংস্কৃত। এছাড়াও তিনি কালিদাসের ধ্রুপদি কাব্যের সাথে পরিচিত হন ও এর বিভিন্ন পর্যালোচনা করেন।

১৮৭৭ সালে তিনি প্রথম জনসম্মুখে পরিচিতি লাভ করেন। কারণ এ সময়েই তাঁর কিছু সাহিত্যকর্ম প্রথম প্রকাশিত হয়। এরমধ্যে ছিল মৈথিলি ভাষার সাংস্কৃতিক আদলে রচিত কিছু সুদীর্ঘ কবিতা। এ ধরণের কবিতা প্রথম লিখেছিলেন কবি বিদ্যাপতি। একই বছর তিনি লিখেন ‘ভিখারিনী’ যা বাংলা সাহিত্যে প্রথম ছোটগল্পের মর্যাদা লাভ করে। ১৮৮২ সালে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সন্ধ্যা সংগীত’ প্রকাশিত হয় যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ নামক বিখ্যাত কবিতাটি। ১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টার হওয়ার জন্যে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ডে যান। তাকে ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি করানো হয়। এরপর তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে পড়াশোনা করেন। কিন্তু ১৮৮০ সালে কোন ডিগ্রি অর্জন না করেই তিনি বঙ্গে ফিরে আসেন। ১৮৮৩ সালে তিনি মৃণালিনী দেবীকে বিয়ে করেন। তাঁদের পাঁচ সন্তানের জন্ম হয়েছিল যাদের মধ্যে ২ জন শিশুকালেই মারা যায়।

১৮৯০ সাল থেকে রবি ঠাকুর শিলাইদহে তাঁর বাবার সম্পত্তির দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেন। ১৮৯৮ সালে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা শিলাইদহে তাঁর সাথে যোগ দেয়। সেই সময় ‘জমিদার বাবু’ নামে পরিচিত রবি ঠাকুর পরিবারের আরামদায়ক জীবন ত্যাগ করে পদ্মার কূল জুড়ে বিপুল পরিমাণ এলাকা ভ্রমণ করেন। উদ্দেশ্য ছিল তাঁর ভূমিতে বসবাসকারী গ্রামের অধিবাসীদের কাছ থেকে খাজনা আদায় এবং তাদের সাথে কথা বলে আশীর্বাদ করা। এ সময় বিভিন্ন স্থানে তাঁর সম্মানে উৎসবের আয়োজন করা হতো। এই বছরগুলোতে রবীন্দ্রনাথ অনেকগুলো গল্প রচনা করেন। তাঁর তিনখ-ে রচিত বিখ্যাত গল্প সংকলন গল্পগুচ্ছের (যাতে মোট ৮৪টি ছোটগল্প রয়েছে) প্রায় অর্ধেক গল্প এখানে থাকা অবস্থাতেই রচনা করেন। এই গল্পগুলোতে ব্যঙ্গ এবং আবেগের সমন্বয়ে গ্রাম বাংলার সঠিক চিত্র নিপুণভাবে ফুটে উঠে। ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শান্তি নিকেতনে গিয়েছিলেন মূলত একটি আশ্রম স্থাপনের লক্ষ্যে।

এই আশ্রমে তিনি গড়ে তোলেন একটি মার্বেল পাথরের মেঝে বিশিষ্ট মন্দির, একটি পরীক্ষামূলক বিদ্যালয়, বাগান এবং গ্রন্থাগার। এখানেই রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের মৃত্যু হয়। ১৯০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তাঁর বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি মাসিক ভাতা ও বেতন পেতে শুরু করেন। এছাড়াও তিনি ত্রিপুরার মহারাজা, পারিবারিক গহনার ব্যবসা, পুরিতে অবস্থিত বাংলো এবং নিজ সাহিত্যকর্মের সম্মানি; এসব উৎসগুলো থেকে অর্থ পেতেন। প্রকাশনার সম্মানি হিসেবে তিনি প্রায় ২,০০০ টাকা পেতেন। এসময় তাঁর সাহিত্যকর্ম দেশ-বিদেশে বিপুল পাঠকদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সাধারণ বাঙালিদের জীবনই ছিল তাঁর প্রধান উপজীব্য। রবীন্দ্রনাথ মোট আটটি উপন্যাস ও চারটি উপন্যাসিকা লিখেছেন যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চতুরঙ্গ, শেষের কবিতা, চার অধ্যায় ও নৌকাডুবি। অনেকের মতে রবীন্দ্রনাথের গানে প্রাচীন আইরিশ এবং স্কটিশ সুর ও ছন্দের ব্যাপক প্রভাব ছিল। এছাড়া তাঁর অনেক গানেই স্থানীয় বাউল গান, দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকের উচ্চাঙ সঙ্গীতের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তাঁর জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়। তাঁর সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২খ-ে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়। তাঁর যাবতীয় পত্রসাহিত্য ১৯খ-ে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের কাব্য সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা চিত্ররূপময়তা, আধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোম্যান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা। ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তাঁর রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সমাজকল্যাণের উপায় হিসেবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন।

এর পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের দর্শনচেতনায়- ঈশ্বরের মূল হিসেবে মানব সংসারকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে; রবীন্দ্রনাথ দেববিগ্রহের পরিবর্তে কর্মী অর্থাৎ মানুষ ঈশ্বরের পূজার কথা বলেছিলেন। সংগীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন। রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। ১৯৩০-এর দশকের প্রথম ভাগে একাধিক বক্তৃতা, গান ও কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ভারতীয় সমাজের বর্ণাশ্রম প্রথা ও অস্পৃশ্যতার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। জীবনের এই পর্বে ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্রতম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। চিত্রাঙ্কনে তাঁর কোনো প্রথাগত শিক্ষা না থাকা সত্ত্বেও ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত কালপরিধিতে অঙ্কিত তাঁর স্কেচ ও ছবির সংখ্যা আড়াই হাজারের ওপর, যার ১৫৭৪টি শান্তি নিকেতনের রবীন্দ্রভবনে সংরক্ষিত আছে। দক্ষিণ ফ্রান্সের শিল্পীদের উৎসাহে ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম চিত্রপ্রদর্শনী হয় প্যারিসের পিগাল আর্ট গ্যালারিতে।

এরপর সমগ্র ইউরোপেই কবির একাধিক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। রবীন্দ্রনাথ প্রাচ্য চিত্রকলার পুনরুত্থানে আগ্রহী হলেও, তাঁর নিজের ছবিতে আধুনিক বিমূর্তধর্মিতাই বেশি প্রস্ফুটিত হয়েছে। মূলত কালি-কলমে আঁকা স্কেচ, জল রং ও দেশজ রঙের ব্যবহার করে তিনি ছবি আঁকতেন। তাঁর ছবিতে দেখা যায় মানুষের মুখের স্কেচ, অনির্ণেয় প্রাণীর আদল, নিসর্গদৃশ্য, ফুল, পাখি ইত্যাদি। তিনি নিজের প্রতিকৃতিও এঁকেছেন। নন্দনতাত্ত্বিক ও বর্ণ পরিকল্পনার দিক থেকে তাঁর চিত্রকলা বেশ অদ্ভুত ধরণেরই বলে মনে হয়। তবে তিনি একাধিক অঙ্কনশৈলী রপ্ত করেছিলেন। তন্মধ্যে কয়েকটি শৈলী হল, নিউ আয়ারল্যান্ডের হস্তশিল্প, কানাডার (ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশ) পশ্চিম উপকূলের ‘হাইদা’ খোদাইশিল্প ও ম্যাক্স পেকস্টাইনের কাঠখোদাই শিল্প। জীবনের শেষ চার বছর রবীন্দ্রনাথের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ছিল এবং তাঁর এই দুরারোগ্য মোট দুই বছর বজায় ছিল।

১৯৩৭ সালের শেষ দিকে তিনি চেতনা হারিয়ে ফেলেন এবং এরপর দীর্ঘ সময় মুমূর্ষু অবস্থায় একরকম কোমায় ছিলেন। তিন বছর পর ১৯৪০ সালে আরেকবার ভাল রকমের অসুস্থ হয়ে পড়েন যা থেকে আর আরোগ্য লাভ করতে পারেন নি। এসময় রচিত কবিতাগুলো তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান রচনা হিসেবে খ্যাত, কারণ এরমধ্যে মৃত্যু দুয়ারে তাঁর পদচারণার আভাস প্রস্ফুটিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পর ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (বাংলা ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) ৮০ বছর বয়সে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণ দিবস এখনও বিশ্বের সকল প্রান্তের বাংলাভাষীরা ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কবিগুরুর ৭৬তম প্রয়াণ দিবসে তাঁর প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। কবিগুরু তাঁর কর্মে আমাদের মধ্যে বর্তমান আছেন, থাকবেন অনন্তকাল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত