মীর মশাররফ হোসেনের ১৬৯ তম জন্মবার্ষিকী রোববার

মাসুদ, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) | ১৫:৪৪, নভেম্বর ১২, ২০১৬

 

একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নক্ষত্র মীর মশাররফ হোসেন এর ১৬৯ তম জন্মবার্ষিকী রোববার (১৩নভেম্বর)। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রবর্তক কালজয়ী উপন্যাস ‘বিষাদ সিন্ধু’ রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের ১৬৯ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিস্থল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কমপ্লেক্সে বাংলা একাডেমি, বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ ও মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য পরিষদ পৃথক পৃথক ভাবে দিন ব্যাপী আলোচনা সভা ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

১৮৪৭ সালে ১৩ নভেম্বর নানাবাড়ী কুষ্টিয়া জেলার লাহিনী পাড়া গ্রামে সৈয়দ মীর মুয়াজ্জেম হোসেন ও মা দৌলতন নেছার ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন মহান এই মনীষি। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নক্ষত্র মীর মশাররফ হোসেন বাংলা গদ্য সাহিত্যের সূচনা পর্বে সাহিত্য সাধনা করলেও ৩৬টি গ্রন্থ রচনা করে সাফল্যের স্বাক্ষ্য রেখেগেছেন বাংলা সাহিত্যের সব পাতায়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে বিষাদ সিন্ধু (১৮৮৫-৯১), গাজী মিয়ার বস্তানী, আত্মজীবনি মূলক উপন্যাস উদাসীন পথিকের মনের কথা(১৮৯০), রত্নাবলী (১৮৬৯, যা বাঙ্গালী মুসলমান রচিত প্রথম এবং মীর মশাররফ হোসেন এর প্রথম উপন্যাস), মুসলমান চরিত্র অবলম্বনে রচিত প্রথম নাটক জমিদার দর্পন(১৮৭৩), অবহেলীত নারী হৃদয়ের সামন্ত সমাজের অভ্যন্তরে প্রথম দ্রোহ নাটক বসন্ত কুমারী(১৮৭৩), সম সাময়িক ইতিহাস গৌরী সেতু(কাব্য), বৃট্রিশ শাসিত তদানীন্তন ভারত বর্ষের মুসলিম পুনর্জাগরনের কথা মাথায় রেখে সেদিন মুসলমানদের অতীত গৌরবময় ঐহিত্যকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে জাতীকে অনুপ্রাণিত করার জন্যই সেদিন রচনা করেছিলেন ধর্ম ও ইসলাম ভিত্তিক উপন্যাস ইসলামের জয়, মদীনার গৌরব, হয়রত ওমরের ধর্ম জীবন লাভ প্রভৃতি। স্বল্প প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও সাহিত্য অংগনে এই সফলতা মীর মশাররফ হোসেন কে আমাদের কাছে করে তুলেছে অনন্যা। মীর মশাররফ হোসেন এর জীবন যাপন ও কর্ম সাধনা সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের তারই আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ আমার জীবনী, গাজী মিয়ার বস্তানী, বিবি কুলছুম(১৯১০) পড়তে হবে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের আমন্ত্রণ পত্র সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করবেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক জিনাত আরা। স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: জিল্লুল হাকিম ও বিশেষ অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আবুল কালাম আজাদ। মীরের জীবনী নিয়ে আলোচনা করবেন বালিয়কান্দি ডিগ্রী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক বিনয় কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম রকিব হায়দার, বালিয়াকান্দি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা, মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন রাজবাড়ী সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফকির আব্দুর রশিদ। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, বিশেষ অতিথি জেলা প্রশাসক জিনাত আরা। প্রবন্ধ পাঠ করবেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. এম. আব্দুল আলিম। আলোচক থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক ফকরুল আলম ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আমিনুল ইসলাম।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon