শিরোনাম

‘লালন শাহ কোনো ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন না’

১৩:৩৮, নভেম্বর ১২, ২০১৬

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেছেন, ‘বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ কোনো ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি জাতপাত বিশ্বাস না করে মানবতার কল্যাণে কাজ করে গেছেন।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় মরাকালি নদীর পাড়ে বাউল ও অনুসারীদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী লালন মেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘জাতহীন মানবদর্শন ও সঙ্গীত বর্তমানে সর্বজনবিদিত। বিশ্বময় যখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভঙ্গ করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা নিয়ে চরম অশান্তিতে রয়েছে। তখন আমাদের দেশের সকল ধর্মের লোক লালন শাহের অসম্প্রদায়িক শান্তির বাণী বুকে ধারণ করে সকলে মিলে-মিশে শান্তিতে বসবাস করছি।

বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ এমনি একটি অসাম্প্রদায়িক সাম্যের সমাজ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। লালন জাতপাত বিশ্বাস করেনি মানবধর্মে বিশ্বাস করেছিলেন।’ লালনের মর্মবাণী আন্তর্জাতিকভাবে কিভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করা যায় তা নিয়ে কাজ করারও আহবান জানান তিনি।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুজিব উল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ও লালন মাজারের খাদেম মহম্মদ আলী।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, বাউল ফকির সম্রাট লালন শাহের সৃষ্টিকর্ম ও তাঁর বিচরণ ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা ও দেশের লুপ্তপ্রায় সাংস্কৃতিক বোধকে আরও প্রাণবন্ত করতে এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ধারা ও দর্শন-চিন্তার ধারাবাহিক ইতিহাস নির্মাণের লক্ষে আজকের এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মানবিক গুনাবলী থাকলেই কেবল মানুষ হওয়া যায়। আর তাই সেই মানবিক মুল্যবোধের কথা বলে গেছেন লালন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে সুচনা হয়। এরপর ১০ জন বাউল শিল্পীরা প্রদ্বীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শুরু হয় এই লালন মেলা। পরে সকলকে উত্তোরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। এরপর প্রবীণ লালন ভক্ত মুক্তিযোদ্ধা নহির শাহ ‘রাখিলেন সাঁই, গানটি দিয়ে শুরু হয় গানের আসর। এতে লালন একাডেমীর শিল্পীরা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও লালন একাডেমির সহযোগীতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী এই লালন মেলার আয়োজন করে।

এদিকে লালন মেলাকে ঘিরে অনুষ্ঠানস্থলকে সাজানো হয়েছিলো বর্ণিল সাজে। তবে ইট, কাঠ পাথরের অবয়ব ছেড়ে বাউলদের আখড়ার চিরায়িত রূপ দিতে ব্যবহার হচ্ছে খড় ও বাঁশসহ গ্রামীণ সব উপাদান। মাঠে তৈরি করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল। খড় ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে গোল ঘরসহ ছোট ছোট আঁখড়া। দিনের উৎসবকে ঘিরে বাউল ও স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে উদ্দীপনা। সারা দেশ থেকে চার শতাধিক বাউল শিল্পী অংশগ্রহণ করছে।

এছাড়া কুষ্টিয়ার ৪৪জন বাউল শিল্পী গান পরিবেশন করবে। লালনের গানের আদি সুর সংরক্ষণ ও তার দর্শন সবখানে ছড়িয়ে দিতে ছেঁউড়িয়ায় লালন আঁখড়াবাড়িতে প্রথমবারের মত এ প্রয়াস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।

বাউল ভক্তদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লালন যে পরিবেশে তার শিষ্যদের নিয়ে গান করতেন, সেই রকম একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে আঁখড়াবাড়ীতে। সারা দেশ থেকে আসা বাউলরা মাটির একটা গন্ধ খুঁজে পাচ্ছেন। রাতের আঁখড়াবাড়ি ছিলো আরও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছিলো।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত