যৌনতা জিনের মাধ্যমে আসে না, মানুষ শিখে নেয়

অনলাইন ডেস্ক | ১৯:১২, নভেম্বর ০১, ২০১৬

অতীতকাল থেকেই মানুষের মাঝে যৌনতার একটি নির্দিষ্ট ধারা দেখা যায়। আর এ ধারাকেই চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে একটি বইতে। গার্ডিয়ানের সাংবাদিক হোমা খালেলি সম্প্রতি ‘দ্য স্টোরি অব সেক্স’ বইয়ের লেখকদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এতে উঠে এসেছে ঐতিহাসিকভাবে মানুষের সমাজে চলে আসা যৌনতার নানা বিষয়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যৌনতার নানা পরিবর্তন ঘটেছে মানুষের সমাজে। আর এ পরিবর্তনকে তুলে ধরেছেন লেখক ফিলিপ ব্রেনট। তিনি জানান, যৌনতার পরিবর্তনের বিষয়টিকে তিনি নৃতাত্বিক দৃষ্টিতেই দেখছেন। অতীতকালে মানুষ যেভাবে যৌনতাকে সংজ্ঞায়িত করত এখন সে দৃষ্টিতে দেখে না। আর আধুনিক যুগে এ দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পরিবর্তন হচ্ছে। এ পরিবর্তনকে তিনি যৌনতার বিপ্লব বলেই অভিহিত করেন। আধুনিক যুগলেরা যে যৌন সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিবার গড়ে তোলেন সেটি অতীতে যেমন ছিল না তেমন উভয়ের মাঝে সম্পর্কটাও আগে তেমন ছিল না বলে মনে করেন লেখক। আর এ বিষয়টি এখন প্রমাণিত যে, যৌনতা জিনের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে আসে না, মানুষ শিখে নেয়।
এ বইটির চিত্রগুলো অঙ্কন করেছেন ল্যায়েটিসিয়া কোরিন। তিনি জানান, প্রথমে বইটির বিষয়বস্তু দেখে এতে ছবি আঁকার বিষয়ে ইতস্তত করছিলেন তিনি। তবে ব্রেনটের নম্র আইডিয়াগুলো যখন তিনি বুঝতে পারেন তখন ছবি আঁকার বিষয়টি সহজ হয়ে আসে।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার প্রকাশককে বললাম, আমাদের ছবি ও রসিকতাগুলো সতর্কতার সঙ্গে তুলে ধরতে হবে-- আমাদের সংবেদনশীল হতে হবে।’
এর কারণ হিসেবে কোরিন বলেন, বইটির পাঠকশ্রেণী যতটা সম্ভব বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন। এজন্য সতর্কতার সঙ্গে অংকন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে কেনো পর্ন দিচ্ছি না।’
পাঠকের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমরা বিষয়বস্তু যথাসম্ভব সাবলীল দেওয়া হয়েছে বলেও জানান কোরিন।
লেখক ব্রেনট বলেন, ‘১৯৭০ সালের পর থেকে আধুনিক যুগলের দেখা মেলে, যাদের একে অপরের প্রতি সম্মান ও সমতার ধারণা রয়েছে।’
তার মতে অতীতে বিয়েকে সমাজের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এভাবে উভয়ের স্বাধীন মতামতের ভিত্তিতে তা গঠিত হত না। ফলে বিষয়টি অতীতে পবিত্রতার ধারণাতে আবদ্ধ থাকত। পরবর্তীতে যুগলেরা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে তা সংজ্ঞায়িত করতে শুরু করে।
‘দ্য স্টোরি অব সেক্স : ফ্রম এপস টু রোবটস’ বইটি লিখেছেন ফিলিপ ব্রেনট ও ল্যায়টিটিয়া করিন। প্রকাশক পার্টিকুলার বুকস। বইটি ফ্রান্সের বেস্টসেলার বইয়ের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

 



 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon