মাউন্ট এলিজাবেথ ও সাদা এ্যাপ্রোন

আবুদ্দারদা আব্দুল্লাহ  |  ২০:৩০, মে ২০, ২০১৯

মাউন্ট এলিজাবেথ ও সাদা এ্যাপ্রোন

নাম বলেন?

আবুল কাশেম

বয়স কত?

লেখেন, পয়ষট্টি

সমস্যা কি?

জ্বর, কাশি, ঠাণ্ডা আর বুকে ব্যাথা।

কত দিন ধরে?

এই তো দুই সপ্তাহ

কি কি ওষুধ খেয়েছেন?

আপাতত কোন ওষুধ টষুধ কিনি নাই, বাড়ির পাশে একজন কবিরাজ আছে। উনি গাছগাছড়া দিয়ে তিক্ত ওষুধ বানান। তার কাছ থেকে দুইটা বড়ি খাইছি।

তাহলে তিক্ত বড়িই খেতে থাকেন, তিক্ত বড়ি ছেড়ে এখানে এসেছেন কেন?

সাদা এপ্রোন আর মুখে মাস্ক পরিহিত ডাক্তার প্যাডের উপর কলমটা ছুড়ে মারলেন। ডাক্তার পুরোই মারমুখী। হাতের ঘড়িটা দেখছেন। এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন। এর মানে, পরের জনকে ডাকার সংকেত।

ডাক্তারদের এরকম আচরণ যেহেতু অধিকাংশ হাসপাতালগুলোতে দেখা যায় সুতরাং আবুল কাশেম কিছুই মনে করলেন না। আর মনে করেই বা কি লাভ। গরীব মানুষের আবার মাইন্ড আছে নাকি!

আবুল কাশেম ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি আলতাফ হোসেন সাহেবের হাসপাতাল না?

তা দিয়ে আপনার কাম কি?

তাও যদি একটু বলতেন, উনার হাসপাতালের তো অনেক সুনাম। উনারও অনেক সুনাম আছে আমাদের গ্রামে। অনেক মহৎ মানুষ। গ্রামে গেলে এখনো প্রায় একশো মানুষরে নিজ হাতে চিকিৎসা দিয়ে আসেন। দামী দামী ঔষধ দেন। এত বড় মানুষ হওয়া সত্ত্বেও গ্রামে গেলে চেয়ারে না বসে পিঁড়িতে বসেন। গরীবগো সাথে ভাত খান। উনার বাপ দাদারাও এমন ছিলেন। তাহলে কি এটা আলতাফ হোসেন সাহেবের হাসপাতাল না?

হাত ঘড়িটা দেখতে দেখতে অবজ্ঞার সাথে ডাক্তার বললেন, হ্যা, আলতাফ সাহেবের হাসপাতাল। 

শুনছি, উনার হাসপাতালে ফ্রি দামী চিকিৎসা দেয়া হয়। এখানে আইসা আমার গ্রামের কয়েকজন চিকিৎসা নিয়ে গেছে। উনার বাড়ি কিন্ত আমাদের পাশের গ্রামে, খুব ভাল মানুষ।

হুম বুঝেছি। ফ্রি খাওয়াইলে তো ভালো মানুষ হবেই, আর বলতে হবে না। বাইরে যেয়ে বসেন, আপনাকে পরে ডাকা হবে।

অনেক দূর থেকে এসেছি। বুড়া মানুষ, সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরা লাগবে। নইলে বাড়ির মানুষ টেনশন করবে। আর আমার শরীরটাও ভালো না বেশি ডাক্তার সাহেব।

ডাক্তার এসব কথা কানেই তুললেন না। কলিংবেল টিপে পরের রুগীকে আসতে বললেন। অগত্যা আবুল কাশেম বাইরে যেয়ে বসলেন। চিকন চাকন শরীর তারপরও গ্রামের সবচেয়ে পরিশ্রমী মানুষদেরকে গুনলে সবার আগে আবুল কাশেমকে গণায় ধরতে হবে। সেই মানুষটা এক সপ্তাহের জ্বরে কুপোকাত। ভাইরাস জ্বর!

ভীষণ রকমের গরম পড়েছে কয়েকদিন ধরে। আবুল কাশেম খুকখুক করে কাশেন। যেখানে একটা কাশ দিলেই মাথাটার ভিতরে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়, সেখানে আবুল কাশেম একাধারে কেশেই যাচ্ছেন। আবুল কাশেমের পাশে একজন সিরিয়ালের রোগী বসা ছিলেন, পাঁচ নম্বর সিরিয়াল। তিনি বিরক্ত হয়ে উঠে গেলেন।

আবুল কাশেমের মাইন্ডে লাগে না। তার পাশ থেকে ইদানিং কত আপনজনই সরে গেছে সেখানে এই লোক তো তার কিছুই না। তবুও আবুল কাশেম মুখ চাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। কাজ হয় না। আবুল কাশেমের সবচেয়ে বড় আরেকটা গুণ আছে। সেটা হলো মানুষের অসুবিধা বোঝার চেষ্টা করা।

তাকে নিয়ে যে সিরিয়ালে থাকা রুগীদের অসুবিধা হচ্ছে সেটা তিনি ধরতে পেরেছেন। যার কারণে আবুল কাশেম একটু দূরে যেয়ে বসলেন।

অসহ্য গরম! কোথাও বাতাস নেই। এক এক করে বিশজন রোগীকে দেখা শেষ। আবুল কাশেম চেম্বারের ভিতরে আশঙ্কা নিয়ে উঁকি দেয়ার চেষ্টা করেন। আশংকাটা অমূলক নয়। কারণ শহরের ডাক্তাররা কথায় কথায় ঝাড়ি দিয়ে রুগীকে সবার সামনে অপমান করার একটা প্রানপণ চেষ্টা করেন। খুব মজাও পান। যা তা বলে অপমানিত করেন।

ডাক্তার সাহেব মাস্ক পরে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছেন। ডাক্তারের মুখটা কেমন চেনা চেনা মনে হয় আবুল কাশেমের কাছে কিন্তু তিনি মনে করতে পারছেন না। রুমের দরজায় বড় করে ডাক্তারের নাম লেখা, শাহরিয়ার হাসান হৃদয়। সবাই ডাকে ড.শাহরিয়ার নামে।

বুড়ো বয়সে আবুল কাশেমের মস্তিষ্কের ধার আগের মতো নেই। একটা সময় গেছে যখন গ্রামে আবুল কাশেমের স্মরণশক্তির প্রশংসা হতো। কি যে একটা সোনালি অতীতই না গেছে আবুল কাশেমের।

বিয়ে করেছিলেন পাকিস্তান আমলের একজন ইউনিয়ন মেম্বারের মেয়েকে। পড়ালেখা যদিও তেমন ছিল না কিন্তু বুদ্ধি থাকার কারণে এতো বড় জায়গায় সংসার করতে পেরেছিলেন। পরপর দুইটা মেয়ে হয়েছিল কিন্তু একটাও বাচল না, নিউমোনিয়ায় মারা গেল।

তারপর হলো জমজ ছেলে। একটা বাঁচল আর আরেকটা মারা গেল। সেই বেঁচে থাকা ছেলেটাকে নিয়ে আশা ছিল অনেক। পড়ালেখায় মোটামুটি ভালোই ছিলো কিন্তু হঠাৎ করে একদিন নিরুদ্দেশ। আজ পর্যন্ত তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আবুল কাশেম কাশির প্রচণ্ডতায় বুক চেপে ধরে ফ্লোরে বসে পড়লেন। ভীষণ রকমের কষ্ট হচ্ছে। দোয়া ইউনুস পড়ছেন মনে মনে। ইউনুস নবীর বিপদ আর তার বিপদ সমান না। তারপরও বিপদ তো বিপদই।

আশপাশে তাকে ধরার মতো কেউ নেই। বউ বারবার বলেছিল শহরে একা একা যাওয়ার কাম নাই। তারপরও তিনি চলে এসেছেন আলতাফ হোসেন সাহেবের ভরসায়।

মাটির মানুষ, ভরসা করার মতোই। আবুল কাশেম উঠে দাঁড়ালেন অনেক কষ্টে। ফাঁকা একটা চেয়ারে বসলেন।

হাসপাতালে আজকে অনেক ভীড়। এতো ভীড় কখনো হয়েছে কি না কে জানে। পানির পিপাসা ধরেছে প্রচণ্ড। পানির জার আছে কিন্তু গ্লাস নেই। কাউকে গ্লাসের কথা বলতেও পারছেন না, পাছে আবার ঝাড়ি খাওয়া লাগে। শেষমেষ আর পানি খাওয়া হলো না।

আবার কাশি শুরু হয়েছে, দুই মিনিট থেমে ছিল। পঁয়ষট্টি বছর বয়সেও আবুল কাশেমের কাশির আওয়াজে ভীষণ জোর আছে। এই কারণে কষ্টটাও বেশি। পুরো শরীরের উপর দিয়ে কাশির ধকল যাচ্ছে। আর সহ্য হচ্ছে না।

আবুল কাশেম হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। পঁয়ষট্টি বছর বয়সের একজন বুড়ো মানুষ যখন হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তখন একটা দেখার মতোই জিনিস হয়। মানুষের ভীড় বাড়ে। সহানুভূতিশীল কয়েকজন এগিয়ে আসে। কারণ আমাদের সমাজের ডাক্তারদের চামড়া মোটা হতে পারে কিন্তু রুগী কিম্বা ভুক্তভোগীদের চামড়া তো আর মোটা হয় না।

পাঁচ মিনিটের মাথায় একজন ডাক্তার এগিয়ে এলেন। আবুল কাশেমের পাশ থেকে সবাইকে সরিয়ে দিতে দিতে বললেন। এই ভীড় কমান, ভীড় কমান তো। বাতাস আসতে দেন। আবুল কাশেমকে ধরাধরি করে তিনতলায় নিয়ে যাওয়া হলো। বড়সড় একটা রুম। রুমের সামনে লেখা ড. আলতাফ হোসেন। এমবিবিএস, জাপান।

একটু পরে আলতাফ হোসেন নিজেই রুম থেকে বের হয়ে এলেন। আবুল কাশেমকে নিয়ে আসা ডাক্তারকে জিগ্যেস করলেন, নীচ তলার একটা বৃদ্ধ রুগীকে উপরে নিয়ে আসতে বলেছিলাম, এনেছ?

জ্বী স্যার এনেছি। 

ঐ রুগীটা নাকি আপনার এলাকার।

বলো কি?

জ্বী স্যার।

আবুল কাশেমকে দেখা মাত্রই আলতাফ হোসেন বুকে জড়িয়ে নিলেন। স্টেথিস্কোপ দিয়ে প্রেশার পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেন।

নিজের এপ্রোন দিয়ে আবুল কাশেমের মুখটা মুছে দিলেন। তারপর হাসিমুখে বললেন, কখন এসেছেন চাচা?

প্রশ্নের উত্তর দিতে যেয়ে আবুল কাশেম প্রচণ্ড জোরে কেশে উঠলেন। প্রাণবায়ূ বের হওয়ার উপক্রম। আলতাফ হোসেন নিজের বিশ্রামের বেডে আবুল কাশেমকে শুইয়ে দিলেন। কাশিটা থামলে আলতাফ হোসেন আবার জিজ্ঞেস করলেন, আমার হাসপাতালে কখন এসেছেন চাচা?

আবুল কাশেম টেনে টেনে বললেন, ঘন্টা চারেক আগে।

আমার রুমে আসেন নাই কেন?

আমি তো জানতাম না যে এটা তোমার হাসপাতাল। গ্রামের মানুষের কাছে খালি শুনেছি।

কাউকে দেখাননি?

দেখাইছিলাম কিন্তু ডাক্তার সাহেব বললেন, বাইরে যেয়ে বসতে।

বাইরে যেয়ে বসতে মানে? আপনার চেকআপ করায়নি?

থাক, রাগ করিয়ো না। এখন তো আল্লাহ পাক তোমার মাধ্যমে চেকআপ করায়া দিছে।

এই কথা শুনে সদা হাসি খুশি আলতাফ হোসেন মুহুর্তে লাফ দিয়ে উঠে গেলেন। টেলিফোন করলেন নীচ তলায়, ডাক্তার শাহরিয়ারকে উপরে আসতে বললেন। রাগে দুঃখে কপালের রগটা দপদপ করছে।

আলতাফ হোসেনের রুমে ঢোকামাত্রই শাহরিয়ার হাসান একটা ধাক্কা খেলেন। চেয়ারম্যান স্যারের বেডে শুয়ে আছে বুড়োটা! শাহরিয়ার চেয়ার টেনে বসতে গেলেন অমনি আলতাফ হোসেন বললেন, উঁহু,দাঁড়িয়ে থাকো।

জ্বী স্যার!

এই রুগী কি তোমার কাছে গিয়েছিল?

জ্বী স্যার।

তাকে চেকআপ না করিয়ে ওয়েটিংয়ে কেন রেখেছিলে?

স্যার, উনার রোগটা একটু জটিল তো তাই বেশি সময় নিয়ে দেখতে চেয়েছিলাম।

তুমি উনার সাথে বাজে ব্যবহার করনি?

জ্বী না স্যার।

আলতাফ হোসেন সাথে সাথে পায়ের জোতা খুলে ডাক্তার শাহরিয়ারের মুখে মারলেন। সেই জোতা ডাক্তার শাহরিয়ারের মাথায় লেগে শোকেসে থাকা ক্রেস্টে যেয়ে লেগে জাপান সরকারের দেয়া কাঁচের ক্রেস্টটা ফ্লোরে পড়ে ভেঙে গেল। সেদিকে আলতাফ হোসেনের কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই। বাস্টার্ড বলে চিৎকার দিয়ে চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে গেলেন।

টেবিলে থাপ্পড় দিয়ে বললেন, মিথ্যা বলতে লজ্জা হয় না? ডাক্তার শাহরিয়ার দুই কদম পিছিয়ে গেলেন।

দ্বিতীয়বার আলতাফ হোসেন টেবিলে থাপ্পড় মেরে বললেন, আমি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার সময়েই তোমাদেরকে বলেছিলাম, আমার হাসপাতালটাকে আমি মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের মতো বানাতে চাই। তোমরা আমাকে আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জোর আশ্বাস দিয়েছিলে।

‘আমি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথের মতো হাসপাতালের লাখ লাখ টাকার সম্মানের চাকরি ছেড়ে দিয়ে এ দেশে এসে একটা মাউন্ট এলিজাবেথ করতে চেয়েছি। লাখ লাখ টাকা দিয়ে উন্নতমানের যন্ত্র কিনেছি। উন্নতমানের গবেষণাগার করেছি, সেটা কি আমার দোষ ছিলো? বলো, সেটা কি আমার অপরাধ হয়েছে?

‘একটা রুগীকে ঔষধ দিয়ে কোনোদিন ভালো করা যায় না। ভালো করার জন্য টেকনিক লাগে। রোগীকে ভরসা দিতে হয়। বুকে জড়িয়ে ধরতে হয়। হাসিমুখে কথা বলতে হয়। তিনটার কোনোটাই কি তুমি করেছ? কথা বলো? আমার মেজাজ গরম করো না বলছি। তিনটার কোনটাই কি তুমি করেছো?

জ্বী না স্যার।

তাহলে তোমরা কেন আমাকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিলে? জবাব দাও, কেন দিয়েছিলে? সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ কেন নাম করেছে জানো? ওরা ভালোবাসা দিয়ে রুগীকে শুরুতেই জয় করে নেয়। নিজের হাত দিয়ে হাসিমুখে রুগীর ময়লা মুছে দেয়। নিজের আপন সন্তানের মতো যত্ন নেয়।

‘আর তোমরা? রুগীর কপালে হাত দিয়ে জ্বর দেখার পর সেই হাত টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে ফেলো আর মনে মনে ছি ছি বলে ঘৃণা করতে থাকো। এরকম করে আর কতদিন মানুষের অভিশাপ নিবে? আজকে আমরা কতটা ঘৃণার বস্তু হয়েছি সেটা কি জানো?

‘আমার দেশের মানুষ আমার দেশে চিকিৎসা না নিয়ে আমেরিকায় যায়। সিঙ্গাপুর যায়। চেন্নাই চলে যায়। দেশের চিকিৎসার প্রতি বিশ্বাস উঠে গেলেই না পরে মানুষ বিদেশ চলে যায়। নিজের দেশের কোটি কোটি টাকা অন্য দেশে চলে যায়। তোমাদের লজ্জা করে না? নিজেদেরকে প্রতারক মনে করে অনুতপ্ত হওয়া উচিত।

এসব কথা বলে তো লাভও নেই। কারণ আমাদের দেশের কোনো ডাক্তার কোনোদিন এসব কারণে অনুতপ্ত হয়েছে বলেও তো মনে হয় না।

আবুল কাশেম আবার কাশি দিয়ে ওঠেন। আলতাফ হোসেন আবুল কাশেমের শিয়রে যেয়ে বসে পড়েন।

কষ্ট হচ্ছে চাচা?

আবুল কাশেমের চামড়া কুঁচকে যাওয়া হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলেন, ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। কোনো টেনশন করবেন না। আজকে আপনার আর বাড়ি যাওয়া লাগবে না। আপনি আমার বাসায় থাকবেন। বিকালে আপনাকে আমার বাসায় নিয়ে যাবো। যতদিন সুস্থ না হন ততদিন আপনি আমার বাসায় থাকবেন। এখন আপনি এখানে বিশ্রাম নেন। আমি পুরো হাসপাতালটা একটু ঘুরে আসি।

আবুল কাশেমের চোখে পানি চলে আসে। নিজেকে আর অসুস্থ মনে হয় না। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হয়। এই সুখ চিরস্থায়ী না, তবুও তো সুখ। আলতাফ হোসেন পঁয়ষট্টি বছর বয়সের আবুল কাশেমের শিয়র থেকে উঠে দাঁড়ান। চোখের কোণায় জমে থাকা পানিটা গোপনে সাদা এপ্রোন দিয়ে মুছে ফেলে রুম থেকে বের হয়ে যান। হাসপাতালের অসহায় মানুষগুলোকে দেখতে যাবেন। আর শাহরিয়ার হাসান?

তারও চোখ ফেটে জল আসে। নিজেকে প্রতারক মনে হয়। আবুল কাশেমের পা ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন ডাক্তার শাহরিয়ার হাসান।

এসএস