শিরোনাম

কী দড়ি পাকাইলা তুমি

হাসসান আতিক  |  ১৭:০৭, মে ১৮, ২০১৯

কী দড়ি পাকাইলা তুমি

কী দড়ি পাকাইলা তুমি

সারাটা ভাদ্র মাস বইসা হাতের তালুতে
এ তুমি কী দড়ি পাকাইলা
তারে ধইরা নামতে না পারি
ওঠতে না পারি
এতটা জোর নাই তারে বলি—
কই যাও, ফিরা আইসো দ্রুত

ফলে তো বৃষ্টি হয়, দীর্ঘ হয়
ভাঙনের আশা
কেতলিতে চা শুকায়া যায়
অন্ধ তামাটে মাঠে
সবুজ ১৩টা গরু
ঘাস খায়
আর
বেজোড় নামের পাশে
লবনের গাছ
পাতা ঝরে
গলে যায় সাদা নোনা ফুল।


দোয়া করো সোনা

আসার জন্য এই যাওয়া
জরুরি ছিল
দরজা খোলার জন্যই
বন্ধ করা হয়
আঁচলের রঙ ঝরে যাওয়ার বনে বসে
কাইন্দো না সোনা
দোয়া করো বরং
বৃষ্টি আরো দীর্ঘ হয় যেন
ঝুলবারান্দা ভাইসা যেন যায়
যেন ছুঁইতে পার
পরাজিত গন্দম ফল

দোয়া করো সোনা!

মেরামত

আর ডাইকো না আমারে
মনে হইলে বরং
কিছু অতীত দিয়াই
সাইরা নিও পা ধোয়ার কাম।
যথেষ্ট সময় বুনে আসছি
তোমাদের ঘরে
বধির মৌসুমে
এইক্ষণে রোদভরা পিঠে
ছলনার চাকু মাইরো না

একটা প্রেম আমারে করতে দাও
যেন কারো চুলে
অলস দিন ঘইষা দিতে পারি
তার জন্যও জমাইতে পারি
কিছু দুইধারী কাল

এইছাড়া এই ছোট্ট জীবনে
কতটা মেরামত করতে পারি বলো
বড় বড় দরজার ছোট ছোট ঘর।

গয়না

তোমার জন্য গয়না আমার কেনা হইল না
তুমি আছ এত দূরে, হাতের ছায়া যাইতে পারে না
এই আঙুলগুলা কত কাছেই ছিল
তারার মতো দূরের কাছাকাছি
তবু তুমি আছ
শুধু গয়নাটা আর কেনা হইল না।

তুমি ঝরা পাতার দিনে
বাটি ভইরা ভাত আনছিলা সোনা
তুমি আমার জন্য কত না ভাবছিলা
কম বয়সে বুঝতে পারি নাই

এখন ছোট রুচির আড়ংয়েতে গিয়া
খালি খালিই ফিরা আসি
মনের মধ্যে তোমার গয়না নিয়া

কারবারি

আত্মার ইশারা ঢেউ মেললে ওই পদ্মপুকুরে
একবার মৃত্যু দিও। একবার
ধনিয়া পাতার ফাঁকে রসুনের মতো
কোয়া নিয়ে সমস্ত চিন্তার
মরে যেতে দিও

নিজেরে রাইখো না নিজের বিপরীতে
বাসি ফুলে কিবা আসে যায়

ও আলো রঙের মহিমা
ঋণ মুছে আয়নায় আসো

আর
মৃত্যু দাও
পায়ের তলায় থাকা
সরপুঁটি চলে যাক
ঘোলা জলে কারবারি করব না।

এসএস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত