শিরোনাম

অয়ন্ত ইমরুলের তিনটি কবিতা

অয়ন্ত ইমরুল  |  ১৫:২৩, মে ১৬, ২০১৯

অয়ন্ত ইমরুলের তিনটি কবিতা

অয়ন্ত ইমরুল

গোধূলির তিলটা বিভ্রম খেলছে

কেউ দাঁড়িয়ে নেই, ও তুঁতপথ—গোধূলির
তিলটা
বিভ্রম খেলছে,
সিঁথিহাঁস ছুঁয়ে এতটা জল,
একটা বেণিখোলা মেঘের আঁচে উত্তরে হাওয়া; দুলতে গেলেই নাচ হয়,
ওই তো তার নূপুরে পা—
উথলানো তাথই।
প্রেমিক ফোটাচ্ছে যে রঙ, তাকে ছড়াও
তুমুল ক্যানভাসে।
তুলিকে জিগ্যেস করো
তুলিকে জিগ্যেস করো,সে নীল চোখে কৃপাবিন্দু—
পাখির পালিকা কই গো?
কানাবগিকে রোজ রোজ দাও ডানকিনে
অমোঘ আলোটি যেইদিকে মুষড়ে পড়ে
মথের গুঞ্জনে—
একটা হরির ঘরোয়া জুড়িয়ে সন্ধের গমগম
এত এত হাইয়ের হাইওয়ে, তবু আমরা খুঁজছি না রুপোর পালঙ...

আবার বেহুলা হলে

কুহক ছড়িয়ে পড়ে রাত নিকেলের
গাঙুরের জলে শুনি ক্ষুধিত বোয়াল
আবার বেহুলা হলে জানিও সাওয়াল
দরূদ দীদার পাশে মৃত লখিন্দের
কি উপায় পায় জোড়া বিপন্ন সুন্দর
রাখিনি আগর দোলা সুদীর্ঘ সাদির
চলন গজলে তবু এত যে মদির
কেন যে আমাকে দিলে ডোরাকাটা ভোর?
যেবা যায় দিনমান,উতলা উজান
তোমাকে ভাঙায় স্রোত রুপালির শ্লোকে
বাসক মানে যে হাওয়া মতিয়ার ছকে
দুধেল গাই চড়ায় বিহ্বল বাথান
ওখানে আবার এলে কাতানের ঘুম
আবার ফেলিও দাগ সুলেখা কুম্কুম...

সন্ধ্যার মুকুটে

উলের রং নিয়ে যে পথ ওড়ে
একটা টমটম ছেড়ে দাও সৌরধুলের সন্ধানে—
যেখানে একদিন হেঁয়ালির আঙুলে চড়ানো দুপুর একাগ্র—
যেন ডাহুকের ফিরে আসা বুনো গন্ধের পালিশে হারিয়ে গেছে
সে যাওয়ায় আকাশ গুড়ুম গুড়ুম
বাতাস শাঁই শাঁই
বুকের আনচান
সুপ্রিম কোর্টের বারান্দা ভাঙা
একটু দেরিতে হলেও অনন্ত দেওদার
নিচে অনেক ছায়ায় ক্রূরতা জানতে তুমি
পাথর হেম ছড়ানো ঝর্ণা মানতে তুমি
এখানে সরুখাল দেখো রেলিঙে কাঁপা
সেধেছি দিগন্ত ডাঙা
বাকি তামসিক মুখে উত্তর গিরি
এইভাবে মেঠোমন অন্য অনেক অরণ্যের মর্মর—
যারা মর্মরিত
যারা উর্মি ঘেরা— হে বলয়বালা
চিবুকের তিলে আঙুল বুলাও
কোমল গোধূলির উতলা পাবে সন্ধ্যার মুকুটে...

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত