শিরোনাম

মোহিনীর মৌনপ্রেম

আবুল বাশার শেখ  |  ১৪:৩০, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

love story
না বলা অভিযোগ অনুযোগের উপর নির্ভরশীল মনের গতি প্রকৃতি খুব বেশি ভালো না থাকায় বাসা থেকে কোথাও বের হইনি। দিনটা শুক্রবার হওয়ায় বাসার টুকিটাকি কাজ করতে করতে গোসলটা সেরে সকাল আর দুপুরের খাবারটা এক সাথে শেষ করে বিছানায় শুয়ে একটা ঘুম দিবো ভাবছিলাম, ঠিক এমন সময় ডোরবেলটা বেজে উঠলো।

একরাশ বিরক্তি নিয়ে দরজা খুলতেই, একজন মেয়ে মিষ্টি গলায় জিজ্ঞাসা করলো, ভাইয়া পাপিয়া কি বাসায় আছে? আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই জিজ্ঞাসা করলাম, কোন পাপিয়া? মেয়েটি বলল, আপনি পাপিয়ার বড় ভাই নয়ন ভাইয়া না! এবার আমি খবুই আশ্চর্য হলাম, মেয়েটি কাকে ভেবে কি বলছে! আমি বললাম, না আমি নয়ন না, আর পাপিয়া নামে আমার কোন বোন নেই। এই বাসাতে আমি আর আমার বাবা-মা থাকি।

মেয়েটি এবার বলল, ভাইয়া কিছু মনে করবেন না, পাপিয়া আমার বান্ধবী। কলেজে আমরা এক সাথেই পড়ি, খুব বেশি দিন হয়নি তার সাথে পরিচয়। সেই আমাকে এই ঠিকানাটা দিয়েছিল। এবার আমি মেয়েটিকে বললাম, ভালো করে ঠিকানাটা দেখুন কোথাও হয়ত ভুল হতে পারে। মেয়েটি তার ভ্যানিটি ব্যাগের চেইন খুলতে যাবে, এমন সময় আমি বললাম- আচ্ছা আগে রুমের ভেতরে আসুন বাহিরে দাঁড়িয়ে আছেন কতক্ষণ। এবার মেয়েটি রুমে প্রবেশ করে সোফায় বসে ঠিকানাটা উল্টে পাল্টে দেখে নিল বেশ কয়েকবার। তারপর বলল- উফ্ সত্যিই তো আমি ঠিকানা ভুল করে ফেলেছি। আমি যাবো ৯ নম্বর লেনে তা না গিয়ে এসে পরেছি ৬ নম্বরে ইংরেজীতে লেখাতো তাই খেয়াল করতে পারিনি।

সরি ভাইয়া, আপনাকে বিরক্ত করলাম, আমি এখন আসি। এবার আমি বললাম, না তা কি করে হয় খেয়াল করেই হোক আর ভুলেই হোক এসেই যখন পড়েছেন তবে একটু বসুন, আমি মাকে ডাকছি, একটু চা নাস্তা করে যান। মেয়েটি দাঁড়িয়ে গেলো চলে যাবে বলে এমন সময় মা এসে বাঁধা দিলো। হাত ধরে মা মেয়েটিকে আবার ঘরে নিয়ে গেল, স্নেহময়ী সুরে তার নাম জানতে চাইলে বলল, নাম মোহিনী, ঢাকা কলেজে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। মিষ্টি গলার স্বরে বলা নামটা শুনতে খুবই ভালো লাগলো আর বেখেয়ালীভাবে দেখেও বুঝতে পারলাম মেয়েটি কিন্তু বেশ।

এবার আমি গভীরভাবে তার দিকে বেশ কিছু সময় তাকিয়ে থাকাতে সে বেশ লজ্জা পেল। একবার আমার দিকে তাকিয়ে মাথাটা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। মা চা নাস্তা আনতে পাকের ঘরে চলে গেলেন। বসতে ইশারা করায় মেয়েটি এবার সোফায় বসলেন, সাথে আমিও বসলাম। কাঁপা গলায় এবার মেয়েটির কাছে আমি আমার পরিচয় তুলে ধরলাম। বেশ কয়েক মিনিট পর মা চা নাস্তা নিয়ে এসে আরও কিছু কথা বলল। মায়ের কথা বলার সময় বরাবরের মতো আমি চুপ থাকলাম। মা কথা শেষ করে আমাকে বলল, মেয়েটিকে এগিয়ে দিতে, সেসাথে সঠিক ঠিকানাটাও খুঁজে দিতে। কি আর করা মায়ের হুকুম আর আমিও মনে মনে এই চাচ্ছিলাম তাকে এগিয়ে দেয়ার ছলে আরও কিছুটা সময় তার সাথে কথা বলতে।

কারণ তার সাথে কথা বলতে আমার বেশ লাগছিল। মেয়েটির কথা বলার স্টাইল আর স্বর দুটোই মনে রাখার মতো, আধুনিক মেয়ে বলে কথা। আমি মেয়েটিকে এগিয়ে দিতে বাসা থেকে বের হলাম। আমরা ঠিকানা খুঁজতে কথা বলতে বলতে হাটতে লাগলাম। এক কথা দুই কথা বলতে বলতে দু’জনের পরিবার সম্পর্কে মোটামোটি সব কিছুই জানা হয়ে গেল। দিনটার কথা কিন্তু ভুলেই গিয়েছিলাম। আজকের এই দিনটা যে বিশেষ তা মোহিনীই আমাকে মনে করিয়ে দিলো। আমি বেশ লজ্জা পেলাম যে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আমি ভুলে গেছি। আর ভুলবইনা কেন! আমার তো ভালোবাসার তেমন কোন মানুষ নেই।

এবার মোহিনী বলল, পাপিয়ার সাথে পার্কে ঘুরতে যাওয়ার কথা। আর পাপিয়া তার বিশেষ এক জনের সাথে আজ প্রথম দেখা করতে যাবে তাই তাকে নিয়ে যাবে। একা একা যেতে সাহস পাচ্ছেনা তাই তাকে সাহস দেওয়ার জন্য নিয়ে যাবে। বলেই হেসে দিলো। এবার আমি বললাম, তাহলে আপনি অনেক সাহসী তাই না? মেয়েটি বলল- তা তো জানিনা তবে আমি কোন কিছু বলতে ভয় পাইনা, যা ভালো লাগে তাই সাথে সাথে বলে ফেলি। আমিও বললাম- আমার ক্ষেত্রেও কিন্তু তাই। এবার মোহিনী খুব বেশি অবাক হয়ে বলল, এখন কি আপনি আপনার মনের কথাটা বলতে পারবেন? আমি বললাম, অবশ্যই পারবো যদি আপনি বলেন। মোহিনী বলল- তবে বলুন তো আপনার মায়ের সাথে কথা বলার সময় আমাকে অমন করে দেখছিলেন কেন? আমি বললাম, তোমার চোখ দু’টো খুব মায়াবী আর কথায় যেন মিষ্টি মাখা। তাই তোমাকে দেখে আর কথা শুনে তোমার প্রতি আমি ক্রাশ খেয়ে ফেলেছি। আমি তোমাকে হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে ভালোবেসে ফেলেছি যদি তোমার আপত্তি না থাকে তবে আমি তোমাক ভালোবাসতে চাই, যুগ যুগ তোমার পাশে থাকতে চাই, এবার তুমি কি বলো?

মোহিনী একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল, আসলে আমি এমনটা ভাবিনি। আপনি আমাকে কতটুকু জানেন যে আমাকে ভালোবাসবেন! তারপরও আমাকে একটু ভাবতে দিবেন? আমি তার কথায় গতিপথ যেন হারিয়ে ফেলতে লাগলাম এর আগেই মোহিনী ভূবন ভুলানো একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে আমাকে বলল- তুমি একটা পাগল। এবার দু’জনেই আপনি থেকে হয়ে গেলাম তুমি, শুরু হলো দু’জনের এক সাথে নতুন ভাবে পথ চলা। পাপিয়ার বাসা খুঁজে বের করলাম। অপেক্ষমান পাপিয়া নানা রকম ভাবে আপ্যায়ন করলো। মোহিনী পাপিয়াকে জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ দিলো অল্প কথার গল্প শোনালো তাকে। ভালোবাসা যেন বাড়তে থাকলো সবার ভেতরেই। হৃদয়িক আলিঙ্গনে দুই জোড়া প্রেমিক প্রেমিকা এক সাথে রমনার বটমূলে বাদামের খোসা ছাড়ানো চলল পুরো বিকেল, গল্পের যেন শেষ নেই।

সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে মাকে মোহিনীর মৌনপ্রেমের কথা বললাম। মা যেন বন্ধু আমার তাই অল্পতেই খুব বুঝতে পারে। এবারও খুব বুঝলেন তাই তিনি আর অপেক্ষা করলেন না, প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত