শিরোনাম

ঝিনাইদহে বাড়ছে তামাক চাষ

প্রিন্ট সংস্করণ॥ঝিনাইদহ (সদর) প্রতিনিধি  |  ০১:৪৮, মার্চ ০৭, ২০১৯

মাটি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তামাক চাষের ভয়াল বিস্তার ঘটছে ঝিনাইদহে। ফসলের মাঠ দখলে নিয়েছে তামাক। এখন বেশির ভাগ উর্বর জমিও দখল করে নিয়েছে তামাক কোম্পানি। তামাক চাষে অধিক শ্রমিক দরকার হয়। এক বছরে প্রতি হেক্টর চাষের জমিতে ২১১ দিন শ্রম ব্যয় করতে হয়। ফলে শ্রমের মূল্য অধিক হওয়ায় কৃষক পরিবারের শিশু, কিশোর ও নারীরাও এ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। বাড়ছে শিশু, কিশোর ও নারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকি। শিশু, কিশোর ও নারীদের তামাক ক্ষেতে কাজ করতে বাধ্য করছেন অভিভাবক ও গৃহকর্তারাও। তাদেরকে বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, বিষ দেয়া, পোড়ানো এমনকি তামাক বাজার জাতকরণেও ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে যাদের অর্থের বিনিময়ে শ্রম কেনার সামর্থ নেই, সেই সব অভিভাবক ও এসব কাজ বেশি করছেন। জেলার দেড় হাজার কৃষক ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের (বিএটিবি) সঙ্গে তামাক চাষে চুক্তিবদ্ধ। তা ছাড়া আরো পাঁচ শাতাধিক কৃষক বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। চুক্তিবদ্ধ কৃষকরা বীজ, সার ও কীটনাশক কোম্পানির কাছ থেকে ঋণ হিসেবে পায়। তাই কৃষকদের তামাক চাষে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করতে হয় না। ফলে অধিক মুনাফার জন্য কৃষকেরা তামাক চাষ করে থাকে। অভিভাবক ও কৃষকেরা জানান, বিভিন্ন শস্যের দাম কম হওয়ায় বেশি লাভের আশায় তারা তামাক চাষ করে থাকেন। তামাক চাষে স্বাস্থ্যঝুঁকি জানার পরও চাষ করছেন। তামাক মৌসুমে তাদের ছেলে মেয়েরা মাঝে মধ্যে স্কুলে যায়। এই সময়ে স্কুলে গেলে শ্রমিক নিয়ে কাজ করতে হয় বলে তারা জানান।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, তামাক চাষ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তামাকের কাজ করার ফলে শিশু-কিশোর ও নারীরা গ্রিন ট্যোবাকো সিনড্রোম রোগে আক্রান্ত হয়। তামাকের সঙ্গে নিয়মিত একদিন কাজ করলে ৫৪ মিলিগ্রাম নিকোটিন দেহে শোষণ করে। যা ৫০টি সিগারেট-ধূমপানের সমান ক্ষতি। এতে শারীরিক ও মানষিক চিকিৎসায় যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়; তা তামাক চাষের আয় থেকে অনেক বেশি। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) ঝিনাইদহের লিপ ডিপো রিজোনাল ম্যানেজার (আরএম) মাজেদুল হক বলেন, শিশু ও কিশোররা তামাক চাষের কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবে না, এটা সম্পূর্ণ নিষেধ করা আছে। কৃষকদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের সময় ১৮ বছরের নিচে যে কেউ তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবে না বলে চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকে। যদি কোনো কৃষক এ ব্যাপারে ব্যত্যয় ঘটায় তার জন্য ওই কৃষক দায়ী থাকবে। কোম্পানি এর জন্য দায়ী থাকবে না বলে তিনি জানান, ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিএম আব্দুর রউফ বলেন, ঝিনাইদহের তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তারপরও বিভিন্ন সিগারেট উৎপাদনকারী কোম্পানি চাষের উপকরণসহ নগদ টাকা দিয়ে থাকে। আবার চাষ শেষে তামাকগুলো নগদ টাকায় কিনে নেয়। ফলে কৃষকরা তামাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত