নওগাঁয় শিলা বৃষ্টিতে ভুট্টা চাষীর মাথায় হাত

এম আর রকি, নওগাঁ  |  ১৩:০৫, মার্চ ০৬, ২০১৯

 

অল্প পরিশ্রম ও খরচে লাভ বেশি হওয়ায় ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছিলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কৃষকরা। সরকারি প্রণোদনা ও সহযোগিতায় প্রতি বছরই বাড়ছিল ভুট্টা চাষ। এ বছর ফাল্গুনের শেষে গত দুই দিনের শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক চাষি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছিলেন। শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টার সব গাছ ভেঙে এখন চাষিদের মাথায় হাত ওঠার উপক্রম হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৬ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। এরমধ্যে আত্রাই উপজেলায় আবাদ হয় ৫ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে। দিন দিন ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর কমতে থাকায় কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের কম পানিতে রবিশষ্য চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হতো।

এছাড়া কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হতো। আত্রাই উপজেলা নিচু হওয়ায় বছরের বেশিরভাগ সময় পানিতে তলিয়ে থাকে। ধানের চেয়ে ভুট্টার চাষ লাভজনক। ফলে বন্যা পরবর্তী সময়ে অল্প পরিশ্রম ও খরচে লাভ বেশি হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে ভুট্টা চাষ করে আসছিলেন চাষিরা।

গত ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভুট্টার গাছ ভেঙে মাটিতে শুয়ে পড়েছে। অপরিপক্ক ভুট্টা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হওয়া ভুট্টার ক্ষেত থেকে জ্বালানি ছাড়া আর কিছু পাওয়ার আশা নেই। শিলাবৃষ্টির কারণে প্রতি বিঘা জমিতে ৩০-৩৫ হাজার টাকার ভুট্টা নষ্ট হয়েছে। ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রান্তিক ভুট্টা চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকরা সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা কামনা করছেন।

উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমসপাড়া গ্রামের বিধবা মনিকা দেবী বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দুই বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছিলাম। শিলাবৃষ্টি আর ঝড়ে ক্ষেতের সব ভুট্টা গাছ ভেঙে গেছে। জমিতে ভুট্টা চাষের আর কোন সুযোগ নেই। এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ করবো কিভাবে?’

একই গ্রামের কৃষক সবুর সরদার বলেন, ‘সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে পড়বে বর্গাচাষিরা। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তা না করলে পথে বসতে হবে।’

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাওছার হোসেন বলেন, ‘উপজেলার প্রায় ১শ হেক্টর জমির ভুট্টা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’