শিরোনাম

ফেনীতে ডালজাতীয় ফসল উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, ফেনী  |  ১৭:২১, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৯

ফেনী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলতি মৌসুমে ডালজাতীয় ফসল মশুর, ছোলা, মাসকলাই, মুগ, খেসারী, ফেলন ও মটরের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। ছোলা ছাড়া অন্যান্য ডালজাতীয় ফসল বিগত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে বেশি আবাদ হয়েছে। খরচের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় এ ফসল উৎপাদনে কৃষকদের দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষি পর্যায়ে উন্নত জাতের ডাল, তেল, মসলা (তৃতীয় পর্যায় প্রকল্প) বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণের আওতায় চলতি মৌসুমে কৃষকদেরকে ডালজাতীয় ফসল আবাদে উৎসাহ যোগাচ্ছে কৃষি বিভাগ। জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি পদর্শনী ও কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। শুধু সদর উপজেলার ১০ হেক্টর জমিতে ছোলা আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে মশুর ডাল লক্ষমাত্রা ছিল ১২১৮ হেক্টর।

মশুর ডালের চলতি মৌসুমে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭২৮ হেক্টর। ইতোমধ্যে ৬০ ভাগ মশুর ডাল আবাদ হয়েছে। সদর উপজেলায় মশুরের আবাদের লক্ষমাত্রা ১২৫০ হেক্টর। সোনাগাজী উপজেলায় ৪৪০ হেক্টর, দাগনভূঞায় ২৫ হেক্টর, ছাগলনাইয়ায় ৭ হেক্টর, পরশুরামে ৫ হেক্টর, সবচেয়ে কম আবাদ হয়েছে ফুলগাজী ১ হেক্টর জমিতে।

খেসারীর ডাল গত মৌসুমে লক্ষমাত্রা ছিল ৫০৯৫ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৭৩ হেক্টর জমিতে লক্ষমাত্রা ধরা হলেও এর মধ্যে সোনাগাজী উপজেলায় ৫২৫০ হেক্টর জমিতে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬৩ ভাগ খেসারীর ডাল আবাদ হয়েছে। সদর উপজেলায় খেসারী আবাদের লক্ষমাত্রা ১৫ হেক্টর। দাগনভূঞায় ৮ হেক্টর জমিতে। ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরামে চলতি মৌসুমে খেসারীর ডাল আবাদ হয়নি।

মুগডাল গত মৌসুমে আবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ৫২৫ হেক্টর। চলতি মৌসুমে মুগডাল লক্ষমাত্রার ৬০১ হেক্টরের মধ্যে সোনাগাজীতে মুগডাল আবাদের লক্ষমাত্রা ৫৫৪ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে ৬৬ ভাগ মাগডাল আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। সদর উপজেলায় মুগডাল আবাদের লক্ষমাত্রা ১৫ হেক্টর। দাগনভূঞায় ৭ হেক্টর, ছাগলনাইয়ায় ১০ হেক্টর, পরশুরামে ৭ হেক্টর ও ফুলগাজী ৮ হেক্টরে আবাদ হয়েছে। ফেলন ডাল গত মৌসুমে লক্ষমাত্রা ছিল ৩৬৮৫ হেক্টর। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১৫৭ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে ৬৩ ভাগ ফেলন ডাল আবাদ হয়েছে।

সদর উপজেলায় ফেলনের আবাদের লক্ষমাত্রা ১৫২০ হেক্টর। সোনাগাজীতে ১০১০ হেক্টর, দাগনভূঞায় ১২ হেক্টর, ছাগলনাইয়ায় ১৪৫০ হেক্টর, পরশুরামে ৩৫ হেক্টর ও ফুলগাজী ১৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।মটর ডাল গত মৌসুমে আবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ২৮৭ হেক্টর। কিন্তু চলতি মৌসুমে ২৬০ হেক্টর লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় মটরডাল আবাদের লক্ষমাত্রা ১২০ হেক্টর। সোনাগাজীতে মটরডাল আবাদের লক্ষমাত্রা ৯৫ হেক্টর জমিতে। দাগনভূঞায় ৪৫ হেক্টর জমিতে। ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় মটর ডাল আবাদ হয়নি।

মাসকলাই গত মৌসুমে লক্ষমাত্রা ছিল ৪৩ হেক্টর। চলতি মৌসুমে মাসকলাই লক্ষমাত্রার নির্ধারন করা হয় ২৯ হেক্টর। এর মধ্যে ৬৫ ভাগ মাসকলাই আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। সদর উপজেলায় মাসকলাই আবাদের লক্ষমাত্রা ১০ হেক্টর। সোনাগাজীতে ৬ হেক্টর, দাগনভূঞায় ১২ হেক্টর, পরশুরামে ১ হেক্টর জমিতে। ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়ায় এর আবাদ হচ্ছে না।

পাঁচগাছিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রণব চন্দ্র মজুমদার জানান, প্রতি বিঘায় মশুর ডাল উৎপাদনে কৃষকের খরচ হবে ৩৭০০ টাকা। আয় হবে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টাকার মতো।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, ফেনীতে অনেক পতিত জমিতে ডালজাতীয় ফসল ব্যাপক আবাদ হয়েছে। ডালজাতীয় ফসল উৎপাদন করলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। এসব ফসল উৎপাদনে খরচ অনেক কম। এতে কৃষকদের চাহিদা পূরণ হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জয়েন উদ্দিন জানান, ফেনীতে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে হওয়ায় ডালজাতীয় ফসল উৎপাদন পূর্বের তুলনায় বেশ ভাল হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের উৎসাহ যোগাচ্ছে কৃষি বিভাগ। খরচ পুষিয়ে বাড়তি টাকা আয়ের পাশাপাশি বীজ বিক্রয় করেও বাড়তি মুনাফা অর্জন করতে পারবে কৃষকরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত