শিরোনাম

রাঙ্গাবালীতে রবিশস্য চাষে ব্যস্ত কৃষক

প্রিন্ট সংস্করণ॥মো. সোহান ইসলাম, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)  |  ০৫:৩৬, জানুয়ারি ২৭, ২০১৯

কেউ জমি চাষ দিচ্ছে। কেউ দিচ্ছে নিড়ানি। অনেকে আবার সদ্য বেড়ে ওঠা গাছের পরিচর্যাসহ পোকার আক্রমণ হয়েছে কিনা পরীক্ষা করছে। এমন চিত্র এখন পটুয়াখালীর বিস্তীর্ণ আবাদি মাঠজুড়ে। আমন ধান উঠার সাথে সাথে এভাবেই আবাদি মাঠে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর তরমুজ, মরিচ, বাদাম, আলু, ডালসহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষিরা। আনুকূল আবহাওয়া ও পোকার আক্রমণ না হলে এবারও রবিশস্য চাষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। অপরদিকে বাজার মূল্য ভালো পেলে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হওয়া যাবে, এমন প্রত্যাশা কৃষকদের। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বিগত বছরে ভালো ফলনসহ কাক্সিক্ষত মূল্য পাওয়ায় এ বছর রবিশস্য চাষের জমি বেড়েছে। তরমুজ, ডাল, মরিচ, বাদাম ও শীতকালীন বিভিন্ন সবজিসহ প্রায় ২৫ প্রকারের অনান্য ফসলের চাষ হচ্ছে জেলার ৮টি উপজেলায়। চলতি রবি মৌসুমে তরমুজের নগরী খ্যাত রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৮ হাজার হেক্টর, গলাচিপা উপজেলায় সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর, কলাপাড়া উপজেলায় ২ হাজার হেক্টরসহ এ তিন উপজেলাতেই মোট সাড়ে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। হেক্টর প্রতি ৪০ মেট্রিক টন হিসাবে এ তিন উপজেলায় ৬ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। যার বিক্রয় মূল্য ধরা হয়েছে ৫৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। উৎপাদন খরচ ২০৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বাদ দিয়ে কৃষক পর্যায়ে পাচ্ছে প্রায় ৩৭১ কোটি টাকা। রাঙ্গাবলী উপজেলায় সাড়ে ৩শ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি, ২শ হেক্টর জমিতে খিরাই, ১৫শ হেক্টর জমিতে ফেলন, ৬শ হেক্টর জমিতে খেসারি, ৫০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজিসহ ১১ হাজার ৩৬৮.২৫ হেক্টর জমিতে ২৩ ধরনের রবিশস্য চাষ হচ্ছে। গলাচিপায় ৪শ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হচ্ছে। হেক্টর প্রতি ৩০ টন হিসাবে প্রায় ১২ হাজার টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। আলুর উৎপাদন ব্যয় ১৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বাদ দিয়ে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা আশা করছে ১৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অ.দা) আব্দুল মন্নান জানান, উপকূলীয় এলাকায় মিষ্টি পানির সংরক্ষণ বাড়ানো গেলে উপকূলীয় এলাকায় রবিশস্য উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত