শিরোনাম

লালপুরে আগ্রহ বাড়ছে কার্পাস তুলা চাষে

প্রিন্ট সংস্করণ॥রহমান টুটুল, লালপুর (নাটোর)  |  ০১:১৩, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

লাভজনক ও ফলন ভাল হওয়ায় নাটোরের লালপুর উপজেলার বড়াল নদী বিধৌত ৮টি এলাকার কৃষকরা তুলা চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। এতে এই এলাকার অনেক দরিদ্র বেকার লোকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এই এলাকার কৃষিতে তুলাচাষ একটি নতুন সম্ভাবনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজশাহী তুলা উন্নয়ন বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত দয়ারামপুর ইউনিট সূত্রে জানাগেছে, রাজশাহী তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগীতায় চলতি মৌসুমে লালপুর উপজেলায় ধুপইল, ফুলবাড়ী, চংধুপইল, তারাপুর, রামাগাড়ী, আব্দুলপুর, ভবানীপুর এলাকায় ১৬০ একর জমিতে তুলার চাষ হয়েছে। এখান থেকে প্রায় ৪ হাজার মন তুলা উৎপাদন হবে। এ অঞ্চলের কৃষকরা উফশী সিবি-১২, সিবি-১৪, সিবি-১৫ ও হাইব্রিট রুপালি-১, রুপালি-২ ও লালতির ডিএম-৩ জাতের তুলার চাষ বেশি করেছে। সরেজমিন তুলা ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, জমিগুলি সবুজ তুলা গাছে ভরে আছে, প্রায় গাছগুলিতেই রয়েছে কাঁচা তুলার ফল। দুই একটি গাছে ফল থেকে সাদা তুলা ফুটতে শুরু করেছে। কৃষকরা বলছেন, আর কয়েকদিন পর ক্ষেত থেকে তুলা সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। এসময় ধুপইল এলাকার তুলা চাষীরা বলেন, ‘এই অঞ্চলে আগে তেমন তুলার চাষ হয়নি। সমকালীন ফসল হিসেবে গম, মসুর ও শাকসবজিচাষই ছিলো তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু যে টাকা ব্যয় করে তারা সমকালীন ফসলচাষ করতো তাতে কোনো রকম খরচ উঠতো তবে লাভের মুখ দেখা যেতনা। বিগত কয়েক বছর থেকে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের দয়ারামপুর ইউনিটের সহযোগীতায় তারা তুলাচাষ করেছেন। রাজশাহী তুলা উন্নয়ন বোর্ডের দয়ারামপুর ইউনিটের বীজ তুলা সংগ্রহ ও জিনিং অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তুলা একটি লাভজনক ফসল। দিন দিন এই এলাকায় তুলার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণত উঁচু ও মাঝাড়ি উচুঁ জমিতে তুলাচাষ করা হয়। চলতি মৌসুমে লালপুর-বাগাতিপাড়া দুই উপজেলা মিলে ৩ শত একর লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়। তবে আমরা এই অঞ্চলের কৃষকদের তুলা চাষে উদ্বুদ্ধ করায় বর্তমানে লালপুরের ৮টি এলাকায় ১৬০ ও বাগাতিপাড়ায় ১২০ একর জমিতে তুলাচাষ হয়েছে। এই সকল জমি থেকে প্রায় ৭-৮ হাজার মন তুলা উৎপাদন হবে। আগামীতে এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য তুলাচাষ হতে পারে একটি নতুন সম্ভাবনা। কেউ তুলা চাষে আগ্রহী হলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সহায়তা দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত