শিরোনাম

পেয়ারা ও ড্রাগনচাষ করে সফল জাহাঙ্গীর আলম

প্রিন্ট সংস্করণ॥গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি  |  ০২:১৮, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

নাটোরের গুরুদাসপুরে শখের বসে পেয়ারাচাষ ও ড্রাগন ফলচাষ করে সফল প্রভাষক মো. জাহাঙ্গীর আলম। উপজেলার দক্ষিণ নাড়িবাড়ি এলাকায় নিজের দেড় বিঘা জমিতে পেয়ারা ও দশ শতক জমিতে ড্রাগন ফলচাষ করে শুরুতেই সফলতার মুখ দেখেছেন তিনি। নিজের জমিতেই তিনি প্রথম পেয়ারা ও ড্রাগন ফলেরচাষ শুরু করেন। সফলতার মুখ দেখে নতুন করে বড় ধরনের পরিকল্পনা করেছেন তিনি। জাহাঙ্গীর আলম গুরুদাসপুর উপজেলার পৌর সদরের চাঁচকৈড় সরকার পাড়ার মো. ফয়েজ সরদারের এক মাত্র ছেলে। ব্যবসায়ী প্রভাষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি ঢাকা এ.ইউ.বি ইউনিভার্সিটি থেকে বাংলায় অনার্স মাস্টার্স করেছি। আমরা তিন বোন এক ভাই। আমি সবার ছোট। পড়াশোনা শেষে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতাম। তখন আমার বাবা আমাকে বাড়িতে এসে নিজের জমিগুলো চাষাবাদ করতে বলে। সবার ছোট হওয়ায় কেউ আমাকে বাড়ির বাহিরে রাখতে চায়নি। তাই চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে আসি। বাড়িতে এসে প্রথমত একটি ব্যবসা করতে থাকি এবং স্থানীয় রোজী মোজাম্মেল মহিলা ডিগ্রি কলেজে চাকরি পাই। আমি নাটোরের বিভিন্ন জায়গায় পেয়ারা ও ড্রাগন ফলের বাগান দেখি। তখন আমার মনে হলো আমার নিজের জমিতে আমি এই বাগানগুলো করতে পারি। প্রথমত অনেকেই ভয় দেখাতো যে লাভ হবে না। তারপরও ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেড় বিঘা জমির ওপর ১৬৫ টি থাই পেয়ারার গাছ রোপণ করি। চারা রোপণের পরে শ্রমিক দিয়ে এবং আমার শিক্ষকতা ও ব্যবসার পাশাপাশি বাগানে সময় দেই। চারা রোপণের ৬ মাস পর থেকেই পেয়ারা বিক্রি শুরু করি। পেয়ারা বাগানে আমার এ যাবৎ পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। তবে কয়েকবার বিক্রি করেছি এবং আগামীতে বিক্রি করলে আমার মোট বিক্রি আসবে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। এখন পেয়ারা প্রতি কেজি পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। এসব পাইকাররা ঢাকা, রাজশাহী, সিরাজঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বাগানে এসে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। ড্রাগন ফল চাষ শুরু করি ২০১৭ সালের বর্ষা মৌসুমে। দশ কাটা জমির ওপর ১০০ টি গাছ দিয়ে ড্রাগন ফলেরচাষ শুরু করি। এতে আমার খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা। তবে ড্রাগন ফল একবার বিক্রি করেছি ৭ হাজার টাকা এবং আগামীতে মোট বিক্রি আশা করছি ৭০-৮০ হাজার টাকা। শুরুতেই পেয়ারা ও ড্রাগন ফলচাষ করে আমি ব্যাপক সফলতা পেয়েছি। আগামীতে আমি আমার আরও ৪ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলচাষ করবো। গুরুদাসপুর কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, এবছর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় পেয়ারার অনেকচাষ হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে সকল চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। তবে ড্রাগন ফল এই প্রথম জাহাঙ্গীর আলম শুরু করেছেন। শুরুতেই তিনি ভাল ফল পেয়েছেন। আমরা তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছি তিনি যদি আরও বড় জায়গা নিয়ে করে তখনও তাকে সহযোগিতা করা হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত