শিরোনাম

মঠবাড়িয়ায় মাছ-সবজি চাষে স্বাবলম্বী আলতাফ

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি  |  ১৮:৫১, জানুয়ারি ০৫, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত একটি বাড়ি একটি খামার থেকে ঋণ নিয়ে ঘেরে মাছ ও জমিতে সবজি চাষ করে মঠবাড়িয়ার আলতাফ হোসেন হাওলাদার (৪০) এখন স্বাবলম্বী। উপজেলার সদর ইউনিয়নের সবুজ নগর গ্রামের পনু মিয়া হাওলাদারের ছেলে আলতাফ অর্থাভাবে ৪ জনের সংসার চালাতে হিমশিত খেত। সহায় সম্বল, জমি-জমা কিছুই ছিল না তার। দিন মজুরী খেটে জীবন চলতো তার। দিনে শারীরীক পরিশ্রম আর রাতে অনিদ্রা ছিল নিত্য দিনের সঙ্গী। এরই মধ্যে প্রতিবেশি মৃধা বাড়ীর ৪ বিঘা ঘেরের জমি লিজ দেবার খবর কানে এনে পৌছায় আলতাফের। মনের কোনে স্বপ্ন নিজেকে স্বাবলম্বী করবে। কিন্তু টাকা ! স্ত্রীর ও পরিচিতদের সাথে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত একটি বাড়ি একটি খামার মঠবাড়িয়া শাখায় ঋণের আবেদন করলো। ১০ হাজার টাকা ঋণ পেয়ে ২০১৪ সালে আলতাফ ৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ঘেরে মাছ ও কাদিতে সবজী চাষ শুরু করলো। দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করায় অভাব যেন তার ভাগ্য থেকে পিছু হাটতে শুরু করে। পরবর্তী বছর আলতাফ ওই প্রকল্প থেকে আরও ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন। মাছে ব্যাপক উৎপাদন সাথে সাথে সবজী চাষেও লাভ হতে শুরু করলো। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আলতাফকে। এখন ১০ বিঘা জমির ওপর আলতাফের ঘেরে রয়েছে ৩ হাজার বিভিন্ন জাতের কলা, লাউ, কুমড়া, বিভিন্ন সবজীসহ ২ হাজার পেপে গাছ। আর ঘেরে রয়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, কই, শিং মাছ। এছাড়া উপজেলা মৎস্য অফিসের সহযোগিতায় পৌরসভার মধ্যে ৩ বিঘার একটি বড় পুকুরসহ বাগান বাড়ী লিজ নিয়েছে। সেখানে নারিকেল সুপারিসহ অন্যান্য ফসল রয়েছে। বর্তমানে বছরে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা আয় হয় আলতাফের। আজ তিনি স্বাবলম্বী। আলতাফ হোসেন হাওলাদার জানান, মানুষের বড় হবার ইচ্ছে থাকলে কেউ তাকে আটকাতে পারে না। লক্ষ ঠিক রেখে কঠোর পরিশ্রম করলে ফল আসবেই। আজ আমি পরের কাজ না করে মানুষকে কাজে ডাকি। ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাই। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কারনেই আজ আমি অভাব থেকে ঘুরে দাড়িয়েছি। আমার মতো প্রতিটি উপজেলায় ১০জন করে খামারী কাজ করলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত উন্নয়নশীল সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত